kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অক্টোপাস কেন আমাদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৩৮



অক্টোপাস কেন আমাদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়?

অক্টোপাস বেশ কয়েকটি কারণে অদ্ভুত প্রাণী। এটি তাদের দেহের শুধু আকার ও রংই পরিবর্তন করতে পারে না, কিছু অক্টোপাস এর চেয়েও অদ্ভুত বহু কাজ করতে পারে।

অক্টোপাসের মাথা ও শুঁড়গুলো যেন মানুষের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এগুলো সংবেদনশীল এবং বহু জিনিসকে আঁকড়ে ধরতে পারে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

ধরুন আপনি ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ লেমবেহসংলগ্ন সমুদ্রে নেমেছেন। বেশি গভীরে নয়, মাত্র ২০ ফুট গভীরেই আপনি পেয়ে যাবেন এদের সন্ধান। এখানে পানি উষ্ণ। এ ছাড়া আরও কিছু কারণে প্রচুর অক্টোপাসের বাস এ এলাকায়। আপনার চারপাশে দেখতে পাবেন অসংখ্য অক্টোপাস। এগুলোর কোনো কোনোটি ধূসর-কালো রংয়ের বালুর মতো। কোনোটি আবার সবুজাভ। এ ছাড়া পাবেন রঙিন শক্ত পাথরের মতো অংশ, যেগুলোর নির্মাতাও এ ধরনের প্রাণী। তাদের কেউ কেউ বা বেঁচে আছে, কেউবা বহু বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছে- রয়ে গেছে তার সৃষ্টি।

অক্টোপাসরা আশপাশের দৃশ্যের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য কিংবা লুকানোর জন্য নিজেদের দেহের রং পরিবর্তন করতে পারে। আবার শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য রংও ছাড়তে পারে।
\"\"
অ্যামফিও অক্টোপাস মার্গিনেটাস নামে অক্টোপাসকে নারকেল অক্টোপাসও বলা হয়। এটি নারকেলের খোলসের আড়ালে লুকায় দেখেই এ নাম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আরও বহু ধরনের অক্টোপাস।

অক্টোপাস আটটি বাহু বিশিষ্ট সামুদ্রিক প্রাণী। দেখতে শামুকের মতো না হলেও এরা শামুক-ঝিনুকের জাতভাই অর্থাৎ মোলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এদের মাথার ঠিক পেছনেই আটটি শুঁড় আছে তাই এরা সেফালোপডা বা 'মস্তক-পদ' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত (স্কুইডও একই শ্রেণির)। এরা নিশাচর ও ধীরগতিসম্পন্ন। প্রায় ১৫০ প্রজাতির ছোটবড় বিভিন্ন আকারের অক্টোপাস রয়েছে।
\"\"
অক্টোপাসের আত্মরক্ষার কৌশল বেশ অদ্ভুত। এরা ইচ্ছেমতো নিজের দেহের রং পরিবর্তন এবং মাথার নিচের নলাকার ফানেল জলপূর্ণ করে দ্রুতবেগে বের করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দূরে সরে যেতে পারে।

কোনো কোনো অক্টোপাস রং পরিবর্তন করে সমুদ্রতলের বালি, পাথর, উদ্ভিদ ইত্যাদির সাথে এমনভাবে মিশে যেতে পারে যে হাঙ্গর, ইল, ফিন ইত্যাদি খুব কাছ থেকেও একে শনাক্ত করতে পারে না।

অনেক অক্টোপাসের দেহে কালির থলে থাকে যার সাহায্যে অক্টোপাস নিজের দেহ থেকে ঘন কালো কালি ছুড়ে দিতে পারে যা শত্রুকে কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে দেয়। অনেক সময় এ কালি শত্রুর ঘ্রাণশক্তিও কিছুক্ষণের জন্য নষ্ট করে দেয়। ফলে অক্টোপাসটি পালিয়ে যেতে পারে।

স্ত্রী অক্টোপাস প্রচুর ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। বাচা বের হবার পর মা অক্টোপাস মারা যায়।

সাধারণত অক্টোপাসগুলো খুব একটা বড় হয় না। দৈর্ঘ্য হয় সর্বোচ্চ ৪.৫ ফিট এবং ওজন হয় প্রায় ১০ কেজি। তবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে এক প্রজাতির অক্টোপাস রয়েছে যা জায়ান্ট অক্টোপাস নামে পরিচিত। এটি অন্য যেকোনো অক্টোপাস থেকে বড়। এর নাম ডলফিনি অক্টোপাস। এটি লম্বায় প্রায় ৩০ ফিট এবং ওজন প্রায় ২৭৫ কেজি পর্যন্ত হয়।
\"\"


মন্তব্য