kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইন্টারনেট যুগের পুরুষ : যে কারণে একাকী থাকছেন নারীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:১৮



ইন্টারনেট যুগের পুরুষ : যে কারণে একাকী থাকছেন নারীরা

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিবাহিত মানুষরা বেশি দিন বাঁচে। বয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম বয়সী নারীরা বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে যতটা থাকতে চান, বয়স্ক নারীরা তাও চান না।

এক হিসাবে দেখা গেছে, বিবাহিত জীবন থেকে নারীদের চেয়ে পুরুষরাই বেশি কিছু পান।

আমেরিকার নতুন এক জরিপে বলা হয়, ৬৫-৭৪ বছর বয়সী পুরুষদের ৭৪ শতাংশই বিবাহিত। কিন্তু একই বয়সী নারীদের মাত্র ৫৮ শতাংশ বিবাহিত। আর ৭৫-৮৪ বছর বয়সী পুরুষের ৭৫ শতাংশ বিবাহিত হলেও নারীদের মাত্র ৪২ শতাংশ আছেন এ দলে। আর ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৬০ শতাংশ পুরুষ বিবাহিত জীবন কাটালেও নারীদের মাত্র ১৭ শতাংশ সংসার জীবন কাটান।

অনেক কারণেই এমনটা হতে পারে। কিছু নারীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এর পেছনে কাজ করে। আবার অনেকেই দারিদ্রতার সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চান না। তাদের বন্ধু থাকে, বইয়ের ক্লাবে যোগ দেন এবং আরো অনেক কাজ করেন। অন্য কোনো পুরুষকে জীবনে যুক্ত করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে থাকেন। পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক নারী ১১৬ বছরের এমা মোরানো ১৯৩৮ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নেন। তখন থেকে একাই থাকেন।

আধুনিক একাকী নারীদের যারা তিরিশের কোঠা পার করছেন তাদের জন্যেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগের আমলের নারীরা যদি জানতেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষরা অনেক সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে, তাহলে তাদের অবস্থাও হয়তো একই ধরনের হতো।

নারীদের সঙ্গে পুরুষের সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি অন্যরকম হয়ে গেছে। আধুনিক ইন্টারনেট যুগের কারণে এমনটা হয়েছে। নারীর সঙ্গে মেলামেশার জন্য আগের মতো পুরুষের মিষ্টি হাসি, ভদ্রতাসূচক আচরণ, চোখে চোখ রাখা ইত্যাদির আবেদন যেন শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে তিরিশের কোঠার কোনো নারী হতাশায় পড়ে যান। চিন্তা করে পান না, তাদের বিপরীত লিঙ্গ কেন এতটা জটিলতায় পড়ে গেছে?

আগে পুরুষদের উপস্থিতি আরো আকর্ষণীয় ছিল। তাদের পৌরষদীপ্ত আচরণ ছিল অনেক সহজাত। যৌনকর্মেও তাদের আচরণ ও বৈশিষ্ট্য ছিল নারীদের কাছে অনেক প্রিয়। নারীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে স্ত্রী হতে চাইতেন। তারা মা হওয়ার প্রতীক্ষা করতেন। খুব কমই দাম্পত্য ঝামেলার শিকার হতেন।

সময়ের সঙ্গে পুরুষদের এমন বৈশিষ্ট্য আরো বেশি পরিপক্ক হয়ে ওঠার কথা। কিন্তু হায়! উল্টোটা ঘটে চলেছে। পেশাদার ও অপেশাদার পুরুষরা আর আকর্ষণীয় নেই। পর্ন সাইটে তাদের আনাগোনা আর ডেটিং অ্যাপে ব্যস্ততা মাত্রা ছাড়িয়েছে।

এ কথা প্রমাণিত যে, সংখ্যার বিচারে যৌনতার গুণগত মান নির্ধারিত হয় না। বাস্তবজীবনে সঙ্গিনী বা স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষের কাছে প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে পর্ন সাইট এবং ডেটিং অ্যাপ।

এক সমাজবিজ্ঞানী জানান, পর্নের কারণে পুরুষের মাঝে নারীর প্রতি আকর্ষণ কমে গেছে। তারা সঙ্গিনীর প্রতি আরো জটিল মনের অধিকারী হয়েছেন। সেক্স তাদের কাছে আর উত্তেজনাকর নয়।

তাই বলে যে এমন পুরুষের সন্ধান মেলে না তা নয়। তিরিশের কোঠায় নারীরা এমন পুরুষ পান যারা দারুণ সভ্য, দয়াশীল, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে। এ ধরনের পুরুষের অনেক মেয়ে বন্ধু থাকে। তারা সবাই তার সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে চান। কাজেই ওই পুরুষের পক্ষে একাধিক মেয়ে বন্ধু পাওয়া অনেক সহজ কাজ।

সব নারী ভালোবাসা চান। তিনি দিতেই চান। সেখানে যৌনতা বোনাস লেনদেন হতে পারে। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে। কিন্তু আধুনিক পুরুষদের ইন্টারনেটে আসক্তি তার সেই পৌরষদীপ্ত ব্যক্তিত্ব অনেক কমিয়ে এনেছে।

তাহলে এখন তিরিশ বা চল্লিশের কোঠার নারীরা কি করবেন? তারা কি আগের প্রজন্মের নারীদেরই অনসরণ করবেন? তারা আধুনিক পুরুষদের বৈশিষ্ট্য দেখে একা থাকারাই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। জীবনটাকে নিজের মতো করে টেনে নিতে নানা কাজ করছেন তারা। নারী আগে থেকেই একাই আছেন। আর একাই থাকতে চান। সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য