kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আকাশ থেকে বরফ পড়লেই মুখে দেবেন না! কারণ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:০৪



আকাশ থেকে বরফ পড়লেই মুখে দেবেন না! কারণ...

শিলাবৃষ্টির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। শিলাবৃষ্টির সময় গ্রামেগঞ্জে তো শিল(বরফ) কুড়ানোর হিড়িক পড়ে যায়।

অনেকে সেগুলো কুড়িয়ে আবার চেখে দেখে। কিন্তু এবার একটু সতর্ক হোন। আকাশ থেকে বরফ পড়লেই মুখে দেবেন না। কারণ ওটা বরফ না ও হতে পারে!

গতকাল বৃহস্পতিবার ওপার বাংলার পাকদহে সকালবেলা আকাশ থেকে বড় আকারের নীল বরফ পড়ার ঘটনা ঘটে। ঐ এলাকার বাসিন্দারা শুধু সেই বরফ মুখে দিয়েই ক্ষান্ত হননি। বাড়ি নিয়ে গিয়ে ফ্রিজেও ঢুকিয়ে দিয়েছেন! তারপর তো এলাহী কান্ড। চলে আসল পুলিশ। খবর গেল ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ায় (জিএসআই)।

পুরোপুরি সিদ্ধান্তে আসতে না পারলেও প্রাথমিকভাবে জিএসআই বলেছে, ওই নীল-বরফ (ব্লু-আইস) অনেক উঁচু দিয়ে যাওয়া বিমানের শৌচাগারের মল-মূত্রও হতে পারে। শৌচাগারের কমোড পরিস্কারের নীল কীটনাশকের সঙ্গে মিশে তা কোনও ভাবে বিমান থেকে বেরিয়ে ঠান্ডায় জমে কঠিন বরফের চেহারা নিয়েছে। পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বিমান পরিবহনের ভাষায় এই জমাট বাঁধা নীল রঙের বর্জ্যকে ‘ব্লু-আইস’ বলা হয়। ১৯৭৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে আমেরিকায় আকাশ থেকে এ ভাবে ‘ব্লু-আইস’ মাটিতে নেমে আসার ২৭টি ঘটনা রয়েছে। কয়েকটিতে আহতদের ক্ষতিপূরণও দিতে হয় বিমান সংস্থাকে। এমনকি, এই ধরনের ঘটনা জার্মানি ও ইংল্যান্ডেও ঘটেছে।

বিমানের প্রতিটি শৌচালয়ের নীচে একটি চেম্বার থাকে। সেখানে বর্জ্য জমা হয়। বিমানবন্দরে বিমান নামার পরে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। সেই চেম্বার কোনোভাবে ফুটো হয়ে গেলে সেখান থেকে তরল বেরিয়ে যেতে পারে। সেটা প্রথমে বিমানের পেটের ভিতরে থাকবে। এর পরে যদি পেটের অংশ (প্যানেল) ফুটো হয়ে যায় বা খুলে যায়, তা হলে সেই তরল সেখান থেকে বেরিয়ে আকাশে চলে যাবে।

বিমানের শৌচালয় জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্যবহার করা হয় এক ধরনের নীল রঙের কীটনাশক। যা সাধারণ গৃহস্থালিতেও ব্যবহার করা হয়। ফলে, বিমানের পেটের ভিতর থেকে শৌচালয়ের তরল যদি বাইরে আসে, তা হলে তার রং নীল হওয়াই স্বাভাবিক। ৩০-৩৫ হাজার ফুট উপরে সেই তরল জমে বরফ হয়ে যায়। ফলে, সেই বরফ নীল রঙের দেখতে হওয়ার কথা। তবে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরলই বটে।

সাধারণত পুরনো সব বিমানের পেটের ওই প্যানেল কোনও ভাবে খুলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ককপিটে বসে আমরা কোনও ধরনের সতর্কবার্তাও পাই না। ওই প্যানেল খুলে গেলেও মাঝ আকাশে বিমানের কোনও বড় ধরনের ক্ষতিরও আশঙ্কা থাকে না। সুতরাং এখন থেকে নিশ্চিত না হয়ে বরফ মুখে না দেওয়াই ভাল।


মন্তব্য