kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'পুরুষেরা জিনিয়াস এবং নারীরা তা পালনকারী!'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৩২



'পুরুষেরা জিনিয়াস এবং নারীরা তা পালনকারী!'

হেডি ল্যামার

বিশ্বের যাবতীয় বড় আবিষ্কারের দিকে তাকালে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে যে, পুরুষেরাই সব বড় বড় আবিষ্কার করেছে। এক্ষেত্রে গুগলে যদি আপনি ‘top inventors of all time’ লিখে সার্চ দেন তাহলেই বিষয়টি চোখে পড়বে। আর এ কারণে লেখক জোয়ানা ক্লেইন দাবি করেছেন পুরুষেরাই যাবতীয় বড় বিষয়ের আবিষ্কারক এবং নারীদের ভূমিকা তা উৎসাহিত করা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
আধুনিক উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন যাবতীয় আবিষ্কারের ক্ষেত্রে নারীর তুলনায় পুরুষকেই দেখা যাচ্ছে। গুগলে সার্চ দেওয়ার পর উল্লেখযোগ্য নারী আবিষ্কারকদের মধ্যে পাওয়া যাবে হেডি ল্যামারকে। তিনি ১৯৪২ সালে আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য জিনিস আবিষ্কার করেছেন। হলিউডের সোনালী সময়ে অস্ট্রেলিয়ান এ অভিনেত্রী যে পেটেন্টটি করেছেন, তা থেকে পরবর্তীতে রেডিও সিগন্যাল সূক্ষভাবে নির্ণয় করার প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি পরবর্তীতে মোবাইল ফোন ও গোপন সামরিক যোগাযোগ সামগ্রী তৈরি করা হয়।
কিন্তু কী কারণে আবিষ্কারের দিক দিয়ে নারীরা পিছিয়ে পড়েছেন? নারীরা কী নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী নয়?
এ বিষয়ে কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড সোশাল সাইকোলজিস্ট ক্রিস্টেন এলমোর বলেন, ধারণার রূপক সর্বত্র বিরাজমান। আর এ বিষয়টি দেখা যায় স্কুলের বুলেটিন বোর্ডের ওপর ঝোলানো লাইট বাল্ব থেকে শুরু করে আবিষ্কারকদের বিষয়ে ছাত্রদের রচনাতেও।
ড. এলমোর ও তার কলিগেরা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কলেজের পক্ষ থেকে এক গবেষণায় এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেন। তারা দেখতে পান, পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো ধারণা উদ্ভাবন করা স্বাভাবিক মনে হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা নানাভাবে বড় করে তোলাই স্বাভাবিক।
এ গবেষণায় তারা অন্তর্ভুক্ত করেন প্রায় ৭০০ নারী পুরুষকে। তাদের অধিকাংশই ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী। আর এ গবেষণায় তাদের সামনে বহু আবিষ্কারের উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়। এরপর তাদের মতামত আহ্বান করা হয়। এ থেকেই উভয়ের মাঝের এ বদ্ধমূল ধারণা সম্পর্কে জানতে পারেন গবেষকরা।
এ বিষয়ে মস্তিষ্ক গবেষক ও নারীবাদী লেখক অ্যান ফিংক বলেন, এ গবেষণায় স্পষ্ট হয় যে, হয়রানি, বৈষম্য ও অজ্ঞতাপ্রসূত নানা বাধার কারণে নারীরা পুরুষপ্রধান গবেষণাক্ষেত্রে  প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অংকের মতো বিষয়ে নিরুৎসাহিত হয়।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি এখানে একটি গৎবাঁধা চিন্তা যে, পুরুষেরাই জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী। ’
তিনি আরও জানান, নারীরা যখন কোনো বিষয়কে ধারণ ও পরিচর্যা করে তখন তার মুখোমুখি না হলে তারা উভয়েই এতে সমস্যায় পড়ে।


মন্তব্য