kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাঁদ আর পৃথিবীর যে ছবিগুলো কখনো দেখেনি মানুষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০১



চাঁদ আর পৃথিবীর যে ছবিগুলো কখনো দেখেনি মানুষ

জাপানের এক মহাকাশযানের নাম কাগুইয়া লুনার অরবিটার। ২০০৭ সালে মহাকাশে পাঠানো যানটিতে দেওয়া হয় হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা।

সেই ক্যামেরায় তোলা হয় লুনার সারফেসের কিছু বিস্ময়কর ছবি। এগুলো আর আগে কখনোই প্রকাশ পায়নি।

 

২০০৯ সালে কাগুইয়া লুনার অরবিটারের মিশন শেষ হয়। এ সপ্তাহেই জাপানিজ স্পেস এজেন্সি সেই ডিজিটাল ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। মানুষ এগুলো এর আগে দেখেনি।

কাগুইয়া একটি চরিত্রের নাম যার গল্প ১০ম শতকের সময়কার। এক কাঠুরে অপূর্ব সুন্দর একটি মেয়ে শিশুকে খুঁজে পান। তাকে বড় করে তোলেন। পরে দেখা যায়, কাগুইয়া নামের সেই মেয়েটি এসেছে চাঁদ থেকে। শেষ পর্যন্ত সে তার মানুষের কাছে ফিরে যায়।

 

ওই ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদ থেকে দেখা পৃথিবীর কিছু অপূর্ব সুন্দর ছবি তোলা হয়েছে। এমনকি মহাকাশের অন্ধকারের মাঝে এই পৃথিবী কিভাবে জেগে ওঠে এবং জ্বলে ওঠে তার সবই ছবিত উঠে এসেছে।

ওই ক্যামেরা সঙ্গে আরো কিছু যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চাঁদের উপাদান পরীক্ষা করা হয়। বিজ্ঞানীরা চাঁদের গঠন হয় এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের মিশনের জন্য সেখানে কি সম্পদ থাকতে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।

২০০৮ সালে চাঁদের চারপাশের রহস্যময় ছবি প্রকাশ পায়। তখনকার ছবিতে আরো অনেক কম বয়সী আগ্নেয়গিরি আবিষ্কৃত হয়। ২০০৯ সালে কাগুইয়া 'স্কাইলাইট'র ছবি তোলে। এটি চাঁদের এক কালো গর্ত। এর মধ্য দিয়ে হয়তো ভেতরের কোনো লাভা টিউবে পৌঁছানো যাবে। লুনার সারফেসের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের সন্ধান করেছে কাগুইয়া।

 

প্রধান গবেষক ইয়ুকি হারাদা বলেন, বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র চার্জ উৎপন্ন করতে পারে। এটি কোনো মহাকাশযানে তার চার্জ ছড়িয়ে দিতে পারে।

জাপানের সেই গল্পের মতো, কাগুইয়া যেমন আর পৃথিবীতে থাকতে পারবে না, তেমনি মহাকাশযানটিকেও আর পৃথিবীতে ফেরাননি জাপানি বিজ্ঞানীরা। একে চাঁদের পাহাড়ে ধ্বংস করা হয় ২০০৯ সালে। নতুন প্রকাশিত ছবিগুলো প্রমাণ করে, স্বল্পমেয়াদি সেই মিশনটি ছিল দারুণ শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য