kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রহস্যময় চিহ্নগুলো হতে পারে মানবসভ্যতার প্রথম দিকের লেখার ভাষা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৫৯



রহস্যময় চিহ্নগুলো হতে পারে মানবসভ্যতার প্রথম দিকের লেখার ভাষা

ইউরোপের বিভিন্ন গুহার দেয়ালে বরফ যুগের শিল্পীরা এঁকেছেন ঘোড়া আর বাইসনের ছবি। যুগ যুগ ধরে পুরাতত্ত্ববিদরা এ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন।

এসব গুহার উদ্যম ঘোড়া আর শক্তিমান বাইসনের ছবিগুলোই দেখেছেন অধিকাংশ বিজ্ঞানী। কিন্তু খুব কম সংখ্যক বিজ্ঞানী এসব চিত্রের সঙ্গে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন কিছু জ্যামিতিক চিহ্ন। অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মতে, মূল চিত্রের সঙ্গে এগুলো সাধারণ আঁকিবুকি। কিন্তু এটা মানতে নারাজ অনেকেই।  

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার প্যালেওনথ্রোপোলজিস্ট জেনেভি ভন পেজিনজার এ বিষয়ে এক নতুন গবেষণা শুরু করেছেন। তিনি এসব আঁকিবুকির অর্থ বের করতে চান। তার নতুন 'দ্য ফার্স্ট সাইনস' বইয়ে ভন পেটজিনজার লিখেছেন, বরফ যুগের ইউরোপিয়ানরা ৩২টি নির্দিষ্ট ধরনের জ্যামিতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ৩০ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। তার মতে, এসব চিহ্নের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হতো। অর্থাৎ, মানবসভ্যতার লেখ্য ভাষা আবিষ্কারের প্রথম দিকের প্রয়াস এটি।

এ বিষয়টি নিয়ে এক যুগ আগে থেকে গবেষণা শুরু করেন ভন। ফ্রান্সের এমন কিছু পাথরের চিত্র শুরুর জন্য চমৎকার। তিনি এসব চিত্রের জ্যামিতিক চিহ্নের ধরনগুলো আলাদা করতে থাকেন। এ সংক্রান্ত অন্যান্য ডেটাবেজে তার তথ্যগুলো প্রবেশ করান। এরপর যাবতীয় তথ্যের বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করেন। তার গবেষণায় চমকপ্রদ সব তথ্য বেরিয়ে আসে। বরফ যুগের চিত্রশিল্পীরা হাতে গোনা কয়েকটি চিহ্ন দিয়ে এসব কাজ শুরু করেন। ক্রমেই অন্যান্য জ্যামিতিক চিহ্ন যোগ হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এগুলো যোগ করা হয়েছে কাজের বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে। এসব চিহ্নের দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহৃত হয়েছে অরিগানসিয়ান আমলে, আজ থেকে ৪০-২৮ হাজার বছর আগে।

পেটজিনজার তার গবেষণা চালিয়েছেন গোটা ইউরোপজুড়ে। তিনি ৩৬৭টি পাথরের আঁকিবুকি নিয়ে গবেষণা করেছেন। স্পেনের উত্তরাংশ থেকে রাশিয়ার উরাল মাউন্টেন পর্যন্ত দৌড়েছেন। এ ছাড়াও ছোটখাটো জিনিসের চিত্রও তিনি দেখেছেন। যেমন, হরিণের দাঁতের একটি মালা পেয়েছেন যেটি সেই সময়কার এক নারীর গলার পরানো ছিল। সেই নারী সেন্ট জার্মাইন-লা-রিভেরি নামে পরিচিত।

তিনি মোট ৩২ ধরনের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন প্যালিওলিথিক সময়ের। জানান, প্রত্যেক পাথরে এসব চিহ্নের বহুল ব্যবহার দেখা গেছে। ফ্রান্সে গুহায় জ্যামিতিক চিহ্নের যে ব্যবহার ঘটে, পরে তা গোটা ইউরোপে ছড়ায়। ইউরোপে মানুষ আসার আরো আগে থেকেই এসব লেখালেখি ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে আফ্রিকাতেই এদের ব্যবহার ঘটতো।

গবেষণায় ভন বলেন, এসব আঁকাবুকি মানবসভ্যতার প্রথম দিকের লেখ্যরূপ। তাদের মুখের ভাষার এখাবেই লিখে প্রকাশ করা হতো। বরফ যুগের এসব চিহ্ন মোটেও অর্থহীন ছিল না। পর্তুগালের কোয়া ভ্যালি অঞ্চলের পাথরে আঁকানো চিত্রে বিভিন্ন নদী ও ভূমির মানচিত্র বোঝানো হয়েছে। আবার ওই হরিণের দাঁতে আঁকানো চিত্র শেষকৃত্যের নানা নিয়মের জানান দেয়।

আমেরিকান মিউজিয়াম অব নেচারাল হিস্ট্রির প্যালেওনথ্রোপোলজিস্ট ইয়ান ট্যাটারসাল জানান, ভনের এই গবেষণা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থহীন চিহ্নগুলো যে অর্থ পাচ্ছে তা ইতিহাস বদলে দেবে। এসব চিত্রের পরিষ্কা কোনো অর্থ অবশ্যই রয়েছে। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য