kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির বর্ণনা দিলেন ১০০ নারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৪৬



যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির বর্ণনা দিলেন ১০০ নারী

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও যৌন হয়রানি থেকে মুক্ত নেই। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীরা তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ প্রকাশ করেছেন।

এ ধরনের কয়েকজন নারীর অভিজ্ঞতা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো এ লেখায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

সবাই জানত তিনি যৌন শিকারী
আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন লেকচারারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার অফিসের বাইরে দেখা করা নিষেধ ছিল। এ ছাড়া গ্রাজুয়েটদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা ছিল আমি এটি জানতাম কারণ তিনি প্রায় এক দশক আমাকে হেনস্থা করছিলেন। আর এ ক্ষেত্রে আমাকে বেছে নিতে হয়েছিল যে, আমি নিজের অভিযোগ করব নাকি আমার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করব। আমি নিজে তা করিনি, কারণ আমি অতটা সাহসী নই। আপনি অভিযোগ করার জন্য মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হতে পারেন। এ ছাড়া পুরুষটি শাস্তির মুখোমুখি হলে প্রফেশনাল ও ব্যক্তিগত উপায়ে বিষয়টির প্রতিশোধ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমাকে যে বিষয়টি সবচেয়ে অবাক করেছে তা হলো, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়টি কেন এ লোককে চাকরিতে নিল, যেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যৌন হয়রানির?- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী প্রফেসর

নোংরা আচরণ আমাকে মারাত্মক বিষণ্ণ করে তুলেছে
আমি কয়েক বছর আগে মাস্টার্সের ছাত্রী ছিলাম। দুজন লেকচারার আমার সঙ্গে ফ্লার্ট করতেন। এ ছাড়া তারা সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে পেছন থেকে আমাকে পর্যবেক্ষণ করতেন। আর তাদের মধ্যে একজন আমাকে স্পর্শও করেন। একদিন পেছন থেকে আমাকে এত জোরে ধাক্কা মারেন যে আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। মাস্টার্সের গ্র্যাজুয়েশনের দিন তিনি জোর করে আমাকে তার বুকে চেপে ধরেন। ফাইনাল ইয়ারে তিনি আমাকে তার ফেভারিট শিক্ষার্থী হিসেবেই গণ্য করতেন। আর এ কারণে আমি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এনে নিজের ক্যারিয়ার ও নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছিলাম না। এ কারণে আমি কোর্সের বাড়তি কাজগুলো তার সঙ্গে দেখা না করে ই-মেইলেই সারি।

আমি মধ্যবয়সী নারী এবং আমার সন্তানও রয়েছে। আর এ কারণে বিষয়টি আমাকে খুবই যন্ত্রণা দেয়। আমার ব্যক্তিগত জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হই। ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। তবে আমার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন আরেক ছাত্রীও। তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। আর এর পর সেই লেকচারার বিষয়টিতে নিজেকে মিথ্যা অভিযোগের শিকার বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার প্রচুর পরিচিতি রয়েছে। তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করে বিষয়টি সামলান। তবে এ বিষয়ে আমার স্বাভাবিক হতে প্রায় তিন বছর লেগে যায়। -- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাক্তন ছাত্রী

আশপাশে কেউ না থাকলেই শুরু হতো যৌন হয়রানি
আমি যখন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ছাত্রী ছিলাম সে সময়ই ঘটনার সূত্রপাত। আমার সুপারভাইজারের সঙ্গে সমস্যা চলছিল। তিনি আমার হাত ধরে টানতেন এবং স্তন স্পর্শ করতেন। এ বিষয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ করি। আর এতে বিষয়টি বহুদূর গড়ায়। পরবর্তীতে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে তিন বছর পার হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আমাকে বলে বিষয়টি তার সঙ্গে মিটিয়ে ফেলতে নাহয় আইনি ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এটি আমার জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে বিধায় আমি পিছিয়ে আসিনি। এ প্রফেসরের ছিল মারাত্মক যৌন হয়রানির অভ্যাস। তবে বিষয়টি যখন অভিযোগ আকারে দেওয়া হলো তখন তার কয়েকজন সঙ্গী বললেন তারা কোনো যৌন হয়রানি করতে দেখেননি। আমার সমস্যাটি ছিল, আশপাশে কেউ না থাকলেই তিনি হয়রানি করতেন। ফলে আমার অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন ছিল। -- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোস্টডক্টরাল রিসার্চার

নারীরা একে অপরকে তার সম্পর্কে সতর্ক করে
আমি যখন এমএ এবং পিএইচডি রিসার্চ করছিলাম তখন সেখানে একজন তরুণ লেকচারার ছিলেন। তিনি ক্লাসে প্রায়ই যৌন রোগ, যৌনতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতেন। আর লেকচারেও প্রায়ই তিনি এ বিষয়টি টেনে আনতেন। তিনি যৌনতায় আগ্রাসী এবং অন্যদের ফ্লার্ট করতে ভালোবাসতেন। একদিন তিনি এক শিক্ষার্থীকে চুমু খান। এ বিষয়টি সে সময় বেশিদূর গড়ায়নি, যদিও সবাই বিষয়টি জানতেন। এরপর তিনি আরেকটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যান। আমার কলিগরা বলেন যে, তার স্বভাব-চরিত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নারীরা একে অন্যকে তার বিষয়ে সতর্ক করে নিচ্ছেন। -- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পোস্টডক্টরাল গবেষক

 


মন্তব্য