kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাড়ছে আয়ু বাড়ছে রোগ, কোথায় যাচ্ছি আমরা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৫০



বাড়ছে আয়ু বাড়ছে রোগ, কোথায় যাচ্ছি আমরা?

কম্প্রিহেনসিভ ওভারভিউ অব গ্লোবাল হেলথ এর রিপোর্টে বলা হয়, মানুষের আয়ু ১৯৮০ এর সময় থেকে অনেক বদলে গেছে। ২০১৫ সালে পুরুষের গড় জীবনকাল বেড়ে ৬৯ বছর এবং নারীর ৭৫ বছর হয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং এইচআইভি বা এইডস এবং টিউবারকুলোসিসের কারণে মৃত্যুসংখ্যা বাড়ার পরও আয়ু বেড়েছে মানুষের। আয়ু বৃদ্ধির কারণে মানুষের মৃত্যু সংখ্যা ২০০৫ সালে ৩.১ মিলিয়ন থেকে ২০১৫ সালে ২.৩ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিস রিপোর্টে বলা হয়, রোগের কারণে মৃত্যুর হার রোধ করা গেছে বিগত দশকে। আর এ কারণেই আয়ুতে কিছু বাড়তি সময় যোগ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ডায়রিয়ায় মৃত্যু কমেছে ২০ শতাংশ। ম্যালারিয়ায় মৃত্যু কমেছে এক-তৃতীয়াংশ, ২০০৫ সালে ১.২ মিলিয়ন থেকে গত বছরে সংখ্যা হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজারে। বিগত যুগেই ১৯৫টি দেশের মধ্যে ১৮৮টি দেশের মানুষের আয়ু বেড়েছে। আবার একই সময়ের মধ্যে ক্যান্সার বা হৃদরোগের মতো সংক্রমক নয় এমন রোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে। ২০০৫ সালে ৩৫ মিলিয়ন থেকে ২০১৫ সালে বেড়েছে ৩৯ মিলিয়নে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে'র প্রধান কেভিন ওয়াটকিন্স বলেন, বেশি বাঁচার কারণে সংক্রমক নয় এমন রোগের ভোগান্তি বাড়ছে। এ কারণে চিকিৎসার খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যান্সার, করোনারি আর্টেরি ডিজিস, লিভার সিরোসিস এবং আলঝেইমার্সের মতো রোগ বয়স বাড়ার সঙ্গে বেশি বেশি দেখা দিচ্ছে।

আবার আয়ু বৃদ্ধির কারণে মানুষ রোগ নিয়ে অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে। অসুস্থ ও বিকলাঙ্গ অবস্থায় জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

১০০ পাতার এই রিপোর্ট তৈরিতে অবদান রয়েছে ১৯০০ বিশেষজ্ঞের। এ গবেষণাকর্মে সমন্বয় করে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন। জাতিসংঘের মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ে দুটো পদক্ষেপের সন্ধিক্ষণে রিপোর্টি প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০০ সালে গ্রহণ করা হয় মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস। সেখানে ২০১৫ সালের মধ্যে শিশু ও মায়ের মৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ে আরো কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে যা গত বছর থেকে শুরু হয়েছে।

গত শতাব্দির এক-চতুর্থাংশ সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ে অর্জনও কম নয়। ১৯৯০-২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ মাস বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে এদের মৃত্যু আরো কমিয়ে আনার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশতে নামিয়ে আনা হবে।

এদিকে, ২০১১ সাল থেকে যুদ্ধের কারণে মানুষে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। সিরিয়া, ইয়েমেন এবং লিবিয়ায় যুদ্ধ তার কারণ। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরিয়াতে পুরুষদের প্রত্যাশিত আয়ু ১১ বছর কমেছে।

২০১৫ সালে অস্ত্রের ব্যবহারে যুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যু ৬৫ মিলিয়নে উপনীত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের মোট শরণার্থীর অর্ধেকই শিশু।

এই রিপোর্টে বিভিন্ন দেশের স্কোরও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন- আমেরিকা করোনারি হার্ট ডিজিস, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস এবং মাদকের ব্যবহারে বাজে স্কোর করেছে। পশ্চিম ইউরোপ এবং এশিয়ার পূর্বে দেশগুলো বেশ ভালো স্কোর করেছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 


মন্তব্য