kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইএস কি শেষ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:০৬



আইএস কি শেষ?

রাশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া, কুর্দি এবং আমেরিকার কাছ থেকে বাধা ও আক্রমণের পর তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস তাদের দখলদায়িত্ব হারিয়েছে। আরো খুইয়েছে সেনা ও অর্থ।

এসবের কারণে কি ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে আইএস এর শক্তি?

এ বছরের ১৩ আগস্ট সিরিয়ার মানবিজ শহরটি আইএস এর দখল থেকে মুক্ত হয়। এই জঙ্গীগোষ্ঠীর শেষ সেনার পতনের পর শহরটি মুক্ত হয়। এরপর সেখানকার নারীরা প্রবল আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়েন আইএস এর মৃত সেনাদের ওপর। তারা সেনাদের দাড়ি কেটে ফেলেন এবং মৃতদেহে আগুন জ্বালিয়ে দেন।

অন্যান্য শহরের কর্তৃত্বও হারিয়েছে আইস। কাবেন, আল-কারিয়াতিন এবং ফাল্লুজা আর তাদের দখলে নাই।

কনসালটেন্সি গ্রুপ আইএসইচএস একটি মানটিত্র তৈরি করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, আইএস এর নিয়ন্ত্রণে এখন কি কি রয়েছে। সিনিয়র বিশ্লেষক ফাইরাস আবি আলী জানান, যদি মরুভূমির অংশও ধরা হয়, তবে আইএস তার নিয়ন্ত্রণ থেকে অর্ধেক এলাকা হারিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যা ছিল।

ছবি :আইএসইচএস এর মানটিত্র

এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কোন শহর হারিয়েছে তারা। মানবিজ শহরটি তুর্কি সীমান্তে ঢোকার পথ। এটি হারিয়েছে তারা। এখন তাদের দলে ভেড়া বিদেশি সেনা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আর শহর হারানোর মানে বিপুল পরিমাণ অর্থও হারানো। তারা যত বেশি দখল দেবে তত অর্থ আসবে।

এ হিসাবে বলা হয়, আইএস তার এক-তৃতীয়াংশ ক্ষমতা হারিয়েছে। কাজেই তারা অর্থ কামানোর উপায়ও হারিয়েছে। হিসাব করে বলা যায়, ২০১৭ সালের মধ্যে আইএস পরাজিত হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, আইএস কি আবারো হারানো শহরের দখল নিতে পারে? জবাবটা নির্ভর করে তারা কতটুকু সহায়তা পেতে পারে তার ওপর।

ছবি : ২০১৪ সালের ছবি, ভাষণ দিচ্ছে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি

সিরিয়ার হাসান হাসানের শহর কয়েক বছর আগে দখল নেয় আইএস। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনের তাহরির ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকের কাজ করেন। কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মতি আইএস সেনাদের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলেন। জানালেন, আইএস সত্যিকার অর্থেই ভয়ে ভয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালেও তাদের যা ছিল, তার কিছুই এখন নেই। অনেক সেনা সরে আসছেন। কারণ তারা খেলাফতে এসেছিলেন। কিন্তু তার অনেক কিছুই আর দেখছেন না। এই খেলাফতের অবনতি ঘটছে। হাসান হাসানের ধারণা, যে মানুষগুলো খেলাফতের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলেন তাদের অর্ধেক চলে গেছেন।

আবার যারা আইএস এর পক্ষে ছিলেন, কিন্তু লড়াই করেননি তারাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

সিরিা এবং ইরাকে মানুষরা প্রথম দিকে বুঝতে পারেননি আইএস আসলে কি চায়। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছেন নিজেদের ভুল।

'দাবিক' নামের এক আরব নিউজলেটারে বলা হয়, আইএস এখন তার সেনাদের যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছু হটার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে। এ ধরনের সাম্প্রতিককালের ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে। এলাকা ও অর্থ হারিয়ে তারা কি শক্তি নিয়ে লড়াই করে যাবে?

র‌্যান্ড কর্পোরেশন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পলিসি সেন্টারের পরিচালক সেথ জোনস মনে করেন, আইএস এমন একটি সংগঠন ছিল যারা টার্গেট অনুযায়ী আঘাত হানতো এবং এলাকার দখল নিতো। এই দলটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। তারা এখন মানুষদের সংগঠনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার উৎসাহ দিচ্ছে। তারা বোঝাচ্ছে এখনও তারা আগের শক্তিতেই রয়েছে।

আইএস এর বর্তমান নথিপত্র প্রমাণ করে, তারা এখন সেইসব দেশে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করছে যে দেশগুলো তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমেরিকা, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের টার্গেট। এগুলো করতেও তাদের অর্থের সংকট পড়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে এরা শাখা বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সেগুলোও হুমকির মুখে রয়েছে। নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া এবং মিশরে তারা শাখা খুলেছে।

এখন আইএস আর কতদিন পর্যন্ত আক্রমণের জন্য উজ্জিবীত রাখতে পারবে তার সেনাদের? তাদের ভাববাদের বিস্তার ঘটাতে পারবে আর কতটা সফলতার সঙ্গে? পতনের মুখে তাদের আক্রমণের সংখ্যাও কমে আসবে। এখনই আইএস যে শেষ হয়ে যাবে তা নয়। তবে শিগগিরই এর পতন ঘটতে চলেছে, বলেন জোনস।

'আইএসআইস: এ হিস্ট্রি' বইয়ের লেখক ফাওয়াজ গার্জেস বলেন, সিরিয়া এবং ইরাকে তাদের খেলাফতের আন্দোলন পতনের মুখে থাকা মানেই আইএস এর শেষ নয়।

তবে আইএস তাদের চিন্তাধারা অন্যান্য জঙ্গীগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। যেমন আল-কায়েদায় তাদের অস্তিত্ব থাকবে। আল-কায়েদাও কেবল খেলাফতের কথা বলে না, তারা শহর দখল করে, সীমান্ত মুছে দেয় এবং দুটো দেশকে এক অঞ্চলে পরিণত করে। এর মাধ্যমে অবশ্য জিহাদের গ্লোবাল সংস্করণ তৈরি হয়েছে। তাদের এই খেলাফতের মডেল কতদিন ধরে জিহাদিদের চিন্তায় ছেয়ে যেতে আরো কত সময় লাগবে?

আইএস এর সঙ্গে যুক্ত সবাই কবে আইএস ত্যাগ করবে?

এক বছর আগেও কেউ ভাবেনি যে আইএস এতকিছু হারাবে। আগামী মাসেও অনেকগুলো এলাকা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই অনেক সেনা আইএস ত্যাগ করবে। স্টেট ছাড়া কিভাবে টিকে থাকবে ইসলামিক স্টেট?

কাজেই আইএস কি শেষ হতে চলেছে? এটা তার  খেলাফতের ধারণা হারাবে। ওরা তা হারাতে চলেছে। কিন্তু সেখান থেকেই নতুন কিছুর অভ্যুত্থান ঘটবে। সূত্র : বিবিসি

 


মন্তব্য