kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মসলা নয়, যৌনতা নয় : দীর্ঘায়ুর রহস্য জানালেন বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৪২



মসলা নয়, যৌনতা নয় : দীর্ঘায়ুর রহস্য জানালেন বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি

দীর্ঘায়ুর জন্য মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খায়। যথেষ্ট ব্যায়ামও করে থাকে।

কিন্তু এগুলোই সত্যিকার অর্থে বহু দিন বেঁচে থাকার উপায় নয়। কথাগুলো যখন বলেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ আয়ুর মানুষটি, তখন তা তো মানতেই হয়। তার ১২০ বছর ধরে বেঁচে থাকার উপায় মিলেছে অন্য কিছু থেকে।

ভারতীয় পুরোহিত স্বামী শিবানন্দ। তার বয়স ১২০ বছর। জানালেন, এখন পর্যন্ত জীবনযাপনে তিনি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন। তার এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার অন্যতম কারণ হলো যৌনতা ও মসলাদার খাবার থেকে দূরে থাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তিনি নিয়মিত ইয়োগা চর্চা করেন। এই বয়সেও ইয়োগাতে কোনো অনীহা নেই তার।

\"\"

এই মানুষটি পৃথিবী গ্রহের বেঁচে থাকার মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক হিসাবে বিখ্যাত হয়েছেন। শিবানন্দের পাসপোর্ট বলছে তার জন্ম ১৮৯৬ সালে ৮ আগস্ট। ১২০ বছর কাটাচ্ছেন পৃথিবীতে। যদি তার এসব তথ্য সত্য হয়, তবে বিষয়টি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তিনটি শতক দেখে ফেলেছেন।

পবিত্র শহর বেনারসিতে জন্ম তার। চরম দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। মাত্র ৬ বছর বয়সেই তার বাবা-মা ইহধাম ত্যাগ করেন। ইয়োগা, নিয়মানুবর্তিতা ও কৌমার্য ধরে রাখার জন্য জন্য তিনি পরে পুরোহিত হয়ে ওঠেন। এখন তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসাবে নাম লেখাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কাছে আবেদন করেছেন। তার আগে জাপানের জিরোইমোন কিমুরাই ছিলেন গিনেস রেকর্ডধারী বিশ্বের বয়স্কতম ব্যক্তি।

শিবানন্দ জানান, আমি খুবই নিয়ম মেনে চলি। খুব সাধারণ খাই। তেল ও মসলা ছাড়া কেবল সেদ্ধ খাবার খাই। ভাত ও সেদ্ধ ডাল খাই কয়েকটি মরিচ দিয়ে। দুধ বা ফল খাওয়া বাদ দিয়েছেন দামি খাবার হওয়ার কারণে। ছোটকালে অনেক দিন কাটিয়েছি খালি পেটে।

\"\"

সাধারণত মেঝেতে একটি পাটি পেতে ঘুমান তিনি। তার মাথার নিচে থাকে একটি কাঠের টুকরা। এভাবে শোয়াতে তার কখনো কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি। এই বয়সেই তিনি একাই রেল ভ্রমণ করেন।

যে সময় জন্ম তার তখন কোনো ইলেকট্রিসিটি, টেলিফোন বা গাড়ি ছিল না। এখনো প্রযুক্তিবিহীন জীবন বেছে নিয়েছেন। তার সময় মানুষের বেশি কিছু লাগতো না। কিন্তু এখন মানুষের প্রয়োজন বেড়ে গেছে। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি অসুখী, স্বাস্থ্যহীন ও অসৎ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়গুলো আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। অথচ মানুষদের উচিত শান্তিময় জীবনযাপন করা।
সূত্র : ম্যানস ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া

 


মন্তব্য