kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই প্রাচীন মায়া লিপি নকল নয়, একেবারে আসল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০৭



সেই প্রাচীন মায়া লিপি নকল নয়, একেবারে আসল!

প্রাচীন মায়া সভ্যতার একটি লিপি পাওয়া যায়। বহুকাল ধরে এটাকে ভুয়া বলে মনে করা হয়েছিল।

কিন্তু সম্প্রতি এটা আসল বলে প্রমাণ মিলেছে। এই মায়া লিপিটি 'গ্রোলিয়ার কোডেক্স' নামে পরিচিত। এটি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ইয়েল, ব্রাউন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা। তাদের গবেষণায় বলা হচ্ছে, এটা পুরোপুরি আসল।

দশ পাতার একটি লিপি এই কোডেক্স। সেখানে লেখা রয়েছে মায়ানদের নানা আচার-অনুষ্ঠানের চিত্র। এটা ১৩ শো শতকের মাঝামাঝি সময়কার নথিপত্র। কাগজ বানানো হয়েছে ডুমুর গাছের ছাল থেকে।

এটি সংগ্রহ করেন সংগ্রাহক জোসু সায়েঞ্জ। তিনি মেক্সিকোর চিয়াপার কাছাকাছি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে এক দল লুটেরার সঙ্গে দেখা হয় তার। ওই দলটিই মায়ান টেক্সট দেখায় তাকে। ১৯৭১ সালে সায়েঞ্জ পুরাতত্ত্ববিদদের সুযোগ দেন এটি নিয়ে গবেষণা করার। ড. মাইকেল কো নিউ ইয়র্ক সিটির গ্রোলিয়ার ক্লাবে এটি দেখান।

এরপর কোডেক্সকে ভুয়া বলে অনেক মন্তব্য করা হয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. স্টিফেন হাউস্টেন এই লিপি নিয়ে গবেষণা করেন। বলেন, এ ধরনের লিপির উৎপত্তিস্থল বা কোথায় পাওয়া গেছে তা না জানা পর্যন্ত একে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। তবে আরো অনেক উপায়ে সত্যতা চিহ্নিত করা যায়।

এই লিপি এমন এক সময় বের হয় যখন অনেকে ভুয়া মায়ান লিপি বের হচ্ছিল। কাজেই এটাকে নিয়েও সন্দেহ ছিল। ১৯৬০ এর দশকে এবং তার আগে এমন অনেক ভুয়া লিপি পাওয়া যেতো। এগুলো সবই নিশ্চিতভাবে ভুয়া প্রমাণিত হয়।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মাইকেল কো জানান, আমার বয়স এখন ৮৭। আমি এ পর্যন্ত ৫০টি ভুয়া লিপি দেখেছি। এগুলো সব তৈরি করা হয়। ১৯৭৩ সালে যখন এমন একটি লিপিকে ভুয়া বলে নিবন্ধ প্রকাশ করি, তখন খুব কম মায়ান সভ্যতা বিশরদই ভুয়া বলে মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ তখন এসব নিয়ে বহু তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা কাজ করতেন।

তাদের সবাই সে সময় বুঝতে পারেননি যে গ্রোলিয়ার কোডেক্স এক ধরনের হাইব্রিড। এটি লিখেছিলেন মেক্সিকোর সেই সময়কার মায়ান সভ্যতা এবং এর বাইরের মানুষরা।

এর আগে আরো দুবার কোডেক্স নিয়ে গবেষণা করেন কো এবং হাস্টনের দল। রেডিওকার্বন ডেটের মাধ্যমে অ্যামেট পেপারের সময়কাল বের করা হয়। তারা ছবি এবং এক্টাক্রোমসের মাধ্যমে ওই লিপি নিয়ে আড়াই বছর গবেষণা করেন।

কো ব্যাখ্যা করেন, গ্রোলিয়ার কোডেক্স প্রথম সবার নজরে আসার পর এর লিপি উদ্ধারের কাজটি এগিয়ে নিতে অনেক বিলম্ব করে ফেলেন পুরাতত্ত্ববিদরা। এতে দেবতাদের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তা ছাড়া প্রযু্ক্তির মাধ্যমে এর ডুপ্লিকেট বের করা সম্ভব। তবে ৮০ এর দশকের আগ পর্যন্ত কোডেক্সকে সফলভাবে নকল করা সম্ভব ছিল না।

গ্রোলিয়ার কোডেক্সকে পরীক্ষা করা হয়েছে। একে এখন যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত। এখন মেক্সিকানরা একে তাদের জাতীয় সম্পদ বলে মনে করতে পারেন, জানান কো। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য