kalerkantho


মন ও মস্তিষ্কের চিকিৎসায় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:০১



মন ও মস্তিষ্কের চিকিৎসায় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ!

দুর্বল বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে মস্তিষ্কে আঘাত করা হলে বিভিন্ন রোগ নিরাময় সম্ভব বলে মনে করছেন এক দল গবেষক। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক কম খরচে করা যাবে।

যে সকল মানুষ ক্রনিক ব্যথা, এপিলেপসি এবং মাদকাসক্তের মতো সমস্যা দূর করতে ইলেকট্রিক তরঙ্গের মাধ্যমে খুলিতে আঘাত করলে উপকার পাওয়া যাবে। 'ট্রান্সক্রেনিয়াল ডিরেক্ট কারেন্ট স্টিমুলেশন (টিডিসিএস)' এর মাধ্যমে নিউরোলজিক্যাল এবং সাইকিয়াট্রিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে তার উপশন সম্ভব।

তবে টিডিসিএস এখন পর্যন্ত আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের স্বীকৃতি পায়নি। তা ছাড়া এর কার্যকারিতা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত অবশ্য বিজ্ঞানীরা মানুষের মাথায় প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবে তার কার্যকারিতা দেখতে সমর্থ হননি।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নিউরোলজির প্রফেসর ড্যানি জেজে ওয়াং জানান, এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এমআরআই পদ্ধতিতে টিডিসিএস তরঙ্গের মাধ্যমে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্র জীবন্ত মানুষের দেহে প্রয়োগ করার চিন্তাভাবনা চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে টিডিসিএস তরঙ্গ প্রয়োগের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সমস্যা দূর করতে বিজ্ঞানভিত্তিক থেরাপি সৃষ্টি জন্য এমন গবেষণা প্রথমবার করা হচ্ছে।

আরেক গবেষক মায়াঙ্ক জগ জানান, টিডিসিএস পদ্ধতিকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ২০০০ সালে। তখন থেকেই সহজে প্রয়োগযোগ্য এবং কম খরচের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্কের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে মনে করা হতো।

এই গবেষণা প্রযুক্তির যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন নিউ ইয়র্কের সিটি কলেজের প্রফেসর ম্যারন বিকসন।

মস্তিষ্কের জটিল ক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়টি সফল হলে নিউরোলজিক্যাল ও সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বিষণ্নতা, স্ট্রোকসহ নানা রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা আরো কার্যকর হবে। এর প্রয়োগে শিক্ষা অর্জন, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও অনেক বৃদ্ধি করা যাবে বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা মস্তিষ্কের একটি মানচিত্র তৈরি করেছেন। দেখিয়েছেন, মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে পজিটিভ কারেন্ট (অ্যানোড) আর অন্য একটি অংশে নেগেটিভ কারেন্ট (ক্যাথোড) প্রয়োগের মাধ্যমে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় যেখানে নিউরনগুলো আরো শক্তিশালী বা দুর্বল হয়ে যাবে।  

তত্ত্ব অনুযায়ী বলা যায়, মগজের ডান পাশের প্রিফ্রন্টাল (কপালের ডান অংশ) এবং পেরিয়েটাল লোবে (চোখের ওপর এবং ডান কানের পেছনে) অ্যানোড প্রয়োগের মাধ্যমে মনোযোগ ও মোটরের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

স্ট্রোকের রোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অ্যানোড এবং সুস্থ অংশে ক্যাথোড প্রয়োগে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

এ গবেষণাপত্রটি সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি

 


মন্তব্য