kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য, যা বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২৮



নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য, যা বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্প। আর এ কাজে তিনি এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে ট্রাম্পের নানা কীর্তির কথা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।
নারীদের নিয়ে বিভিন্ন সময় ট্রাম্প নানা ধরনের অশ্লীল মন্তব্য করেছিলেন। এসব মন্তব্যের কোনোটি তাদের চেহারা নিয়ে কোনোটি আবার যৌনতা নিয়েও। আর মার্কিন এ বিলিয়নেয়ার এসব মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি।
এর আগে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লি ফিয়োরিনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। সে সময় ট্রাম্প বলেন, ফিয়োরিনার এ কথার জন্যই বিচার হওয়া উচিত যেখানে তিনি গর্ভপাতের পক্ষে কথা বলেন।
১৯৯০ সালে ট্রাম্প ভ্যানিটি ফেয়ারকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সে সময় তার স্ত্রী ছিলেন ইভানা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইভানাকে কোনো দারুণ গহনা বা ছবি উপহার দেব না। কেন দরকষাকষির উপযোগী সম্পদ দেব?’
১৯৯১ সালে ট্রাম্প নারীদের ‘বিউটিফুল পিস অব অ্যাস’ বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, এটি কোনো বিষয় নয় যে তারা কী লিখল, যতক্ষণ আপনার সঙ্গে সেই সুন্দরী তরুণী অ্যাস রয়েছে। ’
১৯৯৭ সালে ট্রাম্প নারীদের স্বর্ণ খননযন্ত্র বলেন।   এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিন ধরনের নারী রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তাদের মধ্যে একধরনের নারী, যারা স্বামীকে ভালোবাসে তাদের ভালো নারী বলে অভিহিত করেন তিনি। এছাড়া অন্য নারীদের মধ্যে যারা কোনো সম্পর্কের চুক্তিতে জড়াতে চান না তারা মূলত এ সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে গরিবদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নেন। এছাড়া অন্য আরেক দল নারী আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দ্রুত সম্পর্কের চুক্তিতে জড়ান এবং বিষয়টি কাজে লাগিয়ে তার আর্থিক সুবিধা আদায় করে নেন।
২০০৪ সালে নারীদের জন্য তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে নিজেকে ঘোষণা করেন। এ সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সচেতনভাবে কিংবা অসচেতনভাবে নারীরা তার সঙ্গে ফ্লাটিং করে। আর এ বিষয়টি তার কাছে প্রত্যাশিত বলেই মনে করেন তিনি।
২০০৬ সালে নিজের কন্যা ইভাংকার কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, ‘ইভাংকা যদি আমার মেয়ে না হত তাহলে আমি সম্ভবত তার সঙ্গে ডেটিং করতাম। ’
তবে পরবর্তীতে অবশ্য একজন মুখপাত্র জানান, সেটি একটি রসিকতা ছিল।
২০০৭ সালে ট্রাম্প নারীদের সঙ্গে স্থাপত্যের তুলনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সৌন্দর্য ও আভিজাত্য, তা নারী, ভবন কিংবা শিল্পকর্ম যাতেই থাকুক না কেন, তা শুধু অগভীর বিষয়ই নয়, তা দেখতেও ভালো লাগে। ’
২০০৭ সালে ল্যারি কিংকে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। এ সময় অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পিতা জন ভয়েটকে বলেন যে তার কন্যা সুন্দরী নয়। সে সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বুঝি। আমি আপনাকে বলতে পারি- সে নয়। আমি মিস ইউনিভার্সের মালিক। আমি মিস ইউএসএর মালিক। আমি বলতে চাই আমি বহু ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের মালিক। আমি সৌন্দর্য বুঝি এবং সে তা নয়। ’
২০১০ সালে ট্রাম্প নারীদের অন্য সব গুণ বাদ দিয়ে শুধু পুরুষের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এক নারী অভিযোগ করেন, তাদের বোর্ডরুমে নারী প্রতিযোগীদের যৌন আবেদন বিচার করার জন্য বলা হয়। এ সময় নারীদের টিমের মধ্যে সৌন্দর্য বিচার করে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১১ সালে মায়ের দুধ দেওয়াকে বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ সময় ফ্লোরিডায় একটি রিয়েল এস্টেট প্রজেক্টের কাজ চলছিল। তাতে এলিজাবেথ বেক নামে এক নারী তার তিন মাস বয়সী মেয়েকে স্তন্যদুধ পান করানোর জন্য আলোচনায় বিরতি চান। কিন্তু ট্রাম্প ও তার টিম তাতে আপত্তি জানায়। এরপর ঘটনাটিকে বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
২০১১ সালে এক নারী সাংবাদিককে কুকুর বলে সংবোধন করেন ট্রাম্প। সে সময় ট্রাম্পের আর্থিক দেউলিয়াত্ব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এক নারী সাংবাদিক। আর এরপর সেই প্রতিবেদনের একটি কপি ট্রাম্প নিজেই সেই সাংবাদিককে পাঠান। সেখানে সে নারীর ছবিটি গোল করে তাতে ‘কুকুরের মুখ’ লেখেন তিনি।
২০১২ সালে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের সম্পাদক আরিয়ানা হাফিংটনকে নানাভাবে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। প্রধানত তার চেহারা ও ডিভোর্সের বিষয়ে কটুক্তি করেন তিনি।
২০১৫ সালে হিলারি ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এছাড়া মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন যদি তার স্বামীকেই সন্তুষ্ট করতে না পারেন তাহলে আমেরিকাকে কিভাবে সন্তুষ্ট করবেন?’


মন্তব্য