kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পৃথিবীর কক্ষপথে কম্পনের ফলেই সম্ভবত আফ্রিকা ছেড়েছে প্রাচীন মানুষেরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:১৮



পৃথিবীর কক্ষপথে কম্পনের ফলেই সম্ভবত আফ্রিকা ছেড়েছে প্রাচীন মানুষেরা

প্রাচীন মানুষদের আফ্রিকা মহাদেশ ছেড়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ সম্ভবত পৃথিবীর কক্ষপথে তীব্র কম্পন এবং ঝাঁকুনি। এতে পৃথিবী কিছুটা কাৎ হয়ে গিয়েছিল।

যার ফলে এমনকি পুরো বিশ্ব জলবায়ুর নাটকীয় পরিবর্তনও ঘটে গিয়েছিল। নতুন এক গবেষণার পর এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ বছর আগে আধুনিক মানুষদের আবির্ভাব ঘটে আফ্রিকায়। এর কয়েকহাজার বছর পরে পুরো বিশ্বব্যাপী আধুনিক মানুষেরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিশ্বব্যাপী তাদের ছড়িয়ে পড়ার কারণটি এতোদিন তমসাবৃতই ছিল।
সম্প্রতি বেশ কিছু প্রত্নতাত্মিক এবং বংশগতি সংশ্লিষ্ট আবিষ্কার থেকে প্রমাণিত হয় আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আধুনিক মানুষ- হোমোস্যাপিয়েন্সরা প্রায় ১ লাখ বছর আগে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তবে আফ্রিকার বাইরের বেশিরভাগ মানুষই মাত্র ৪০ থেকে ৭০ হাজার বছর আগে আফ্রিকা ছেড়ে বেরিয়ে আসা মানুষদের বংশধর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আগের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব জলবায়ুর নাটকীয় পরিবর্তনের ঘটনাগুলো আধুনিক মানুষেরা কেন আফ্রিকা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল তার ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। উদাহরণত প্রতি ২১ হাজার বছর পরপর পৃথিবীর কক্ষপথে কিছুটা পরিবর্তন আসে এবং পৃথিবী একটু হেলে পড়ে। মিলানকোভিচ চক্র নামে পরিচিত এই সিরিজ কম্পনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সূর্যের আলো পড়ার ক্ষেত্রেও তারতম্য দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ে বৃষ্টিপাতের হার এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কত সংখ্যক মানুষ ধারণ সম্ভব তার ওপর।
বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর একটি নতুন কম্পিউটার সিম্যুলেশন তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে গত ১ লাখ ২৫ হাজার বছরজুড়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পরিবর্তন এবং সূর্যতাপের বিকিরণ কীভাবে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, সমুদ্রের উচ্চতা, জমাট বাঁধা বরফ, উদ্ভিদ জগত, কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা এবং বিশ্বব্যাপী আধুনিক মানুষদের ছড়িয়ে পড়ার ওপর প্রভাব ফেলেছে তা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। প্রাচীন জলবায়ু সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের সঙ্গেও এই মডেলের মাধ্যমে করা অনুমানগুলো মিলে যায় বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
মডেলটির ব্যবহারে জানা যায়, আধুনিক মানুষেরা আফ্রিকা থেকে বেশ কয়েকটি ধাপে আরব উপদ্বীপ এবং লেভান্ট নামে পরিচিত পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল যার মধ্যে ইসরায়েল এবং সিরিয়াও রয়েছে, তা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে প্রত্নতাত্মিক নিদর্শন এবং জীবাশ্ম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকায় আধুনিক মানুষদের ছড়িয়ে পড়ার যে হিসেব করা হয়েছে তারও মিল রয়েছে।
মানোয়াতে অবস্থিত হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষক অ্যাক্সেল টিমারম্যান ওই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২১ হাজার বছর পরপর পৃথিবী যে কম্পনের কবলে পড়ে তা পুরো গ্রহজুড়ে মানুষদের ছড়িয়ে পড়ার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। এছাড়া মানব প্রজাতির বিবর্তন এবং অভিযোজন প্রক্রিয়াও এর ফলে প্রভাবিত হয়। গত ১ লাখ ২৫ হাজার বছরজুড়ে যদি বিশ্ব জলবায়ু স্থির থাকত তাহলে আমরা হয়তো সম্পুর্ণ ভিন্নভাবে বিবর্তিত হতাম।
বিশেষ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, উত্তর আফ্রিকা, আরব উপদ্বীপ এবং লেভান্টজুড়ে তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে সাহারা এবং আরবীয় মরুভূমিগুলো পেরিয়ে বের হয়ে আসার জন্য সবুজ পথের সৃষ্টি হয়েছিল। চারটি ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে এই পথগুলো ধরে আধুনিক মানুষেরা আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। ১ লাখ ৬ হাজার থেকে ৯৪ হাজার বছর আগের মধ্যবর্তী সময়কালে; ৮৯ হাজার থেকে ৭৩ হাজার বছর আগের মধ্যবর্তী সময়কালে; ৫৯ হাজার থেকে ৪৭ হাজার বছর আগের মধ্যবর্তী সময়কালে এবং ৪৫ হাজার থেকে ২৯ হাজার বছর আগের মধ্যবর্তী সময়কালে। এই সময়কালগুলোতেই আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্স মানুষেরা উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। এবং ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স


মন্তব্য