kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারীদের চেয়ে পুরুষরাই বেশি আত্মহত্যা করতে চান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৩৯



নারীদের চেয়ে পুরুষরাই বেশি আত্মহত্যা করতে চান

আত্মহত্যার দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশি। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আত্মহত্যা প্রবণতা কিন্তু নারীদের চেয়ে পুরুষদের মাঝেই বেশি।

অবশ্য পুরুষরা নিজেকে শেষ করার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে অনেক বেশি গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। যদি নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।

গবেষণায় বলা হয়, বিষণ্নতার মতো বিভিন্ন কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষরা গোপন পদ্ধতিই বেছে নেতি চান।

আলাবামার অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোপিকৃষ্ণা দেশপান্ডের নেতৃত্বে এক দল গবেষক এ গবেষণা পরিচালনা করেন। জানান, কোনো পদ্ধতিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে যে কেউ উৎসাহী হয়ে ওঠে যাকে বলে 'অ্যাকুয়ারড ক্যাপাবিলিটি অব ডিজায়ার (এসিএস)'। একে মৃত্যু নিয়ে ভয় না থাকা, যন্ত্রণা সহ্যের ক্ষমতা, আবেগের প্রতি নিস্পৃহ থাকা এবং চেতনার দর্শনের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করেছেন গবেষকরা।

গোপন কোনো পদ্ধতিতে নিজের মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রে আবেগের একটা স্তর রয়েছে যেখানে পৌঁছে আত্মহননকারী। তার সঙ্গে যোগ হয় সেই যন্ত্রণা যা জীবনের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে।

এসিএস এর মাত্রা পুরুষদের মধ্যে অনেক বেশি থাকে। ফলে তাদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা নারীদের চেয়েও বেশি। এ গবেষণায় মানুষের মাঝে এসিএস নেটওয়ার্ক দেখত মেটা-অ্যানালাইসিস করেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে নিউরাল কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয় যা কিনা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের সঙ্গে যুক্ত।

এসিএস এবং বিষণ্নতার কারণে মস্তিষ্কের যে অংশ কাজ করে নারী-পুরুষভেদে সেখানে পার্থক্য রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের এই অংশে নারী অপেক্ষা পুরুষদের মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি বিচিত্র এবং তীব্র।

নারীদের ক্ষেত্রে এ প্রবণতায় প্রভাব ফেলে তার আবেগময় অবস্থা। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটায় মোটর অংশ। তাই এর তীব্রতা বেশি থাকে।

আত্মহত্যার ইচ্ছা নিয়ে পুরুষরা অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তারা মারাত্মক সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। এখানে সব আবেগ তীব্রভাবে কাজ করে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো অনেক মসৃণভাবে কাজ করে।

এই প্রথমবারের মতো আত্মহত্যা প্রবণতার সঙ্গে মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যক্রম দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।

যদি আত্মহত্যার সঙ্গে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশগুলো জড়িত থাকে, তবে এদের  প্রভাবিস্তার করে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। অর্থাৎ, এমন প্রবণতা থেকে বের করে আনতে কার্যকর থেরাপি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন, ট্রান্সক্র্যানিয়াল ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন এবং আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে চিকিৎসা সম্ভব।

গবেষণাপত্রটি ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি'তে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 


মন্তব্য