kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্য প্রাণী পাচার : উদ্ধারের পর কি ঘটে এদের কপালে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৫০



বন্য প্রাণী পাচার : উদ্ধারের পর কি ঘটে এদের কপালে?

হাতির আইভরি এবং গন্ডারের শিংয়ের অবৈধ ব্যবসা নতুন কথা নয়। তবে বন্য প্রাণীর দেহের এসব অংশ নিয়েই হয়, প্রাণীদেরও পাচার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক দেশ থেকে এদের অন্য দেশে পাচার করা হয়। কিছু প্রাণীর দেহের বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন অংশের জন্য এদের মেরে ফেলা হয়। আবার কিছু প্রাণীকে জ্যান্ত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন রিসার্ট টিম ওয়াইল্ডক্রু এক হিসাবে জানায়, ২০১০-২০১৪ সালের মধ্যে ৬০ হাজার বন্য প্রাণী উদ্ধার করে। এদের এক-পঞ্চমাংশ বিলুপ্তির পথে। আর এ পরিসংখ্যান সামান্য একটা অংশমাত্র। যেসব দেশে এসব প্রাণী জব্দ হয় তার বেশিরভাগের খবরই বিশ্ব মিডিয়ায় প্রচার পায় না।

 

অদূর ভবিষ্যতে এসব উদ্ধার হওয়া বন্য প্রাণীর সংখ্যা প্রচুর হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এদের নিয়ে কি করা হয়?

ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ারের এলসায়েদ আহমেদ মোহামেদ জানান, কিছু স্থানে যদি জব্দকৃত প্রাণীরা কথা বলতে পারতো, তবে তারা পাচারকারীদের সঙ্গেই চলে যেতে চাইতো। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জার্ড স্পেসিস অব ওয়াইল্ড ফ্লোরা অ্যান্ড ফরা (সিআইটইএস-সাইটস) এর কনফারেন্স চলছে জোহানেসবার্গে। সেখানে মতামত তুলে ধরছেন অনেকে।

১৮২টি রাষ্ট্র এবং ইউরিপিয়ান ইউনিয়ন মিলে সাইটস পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে উদ্ধারকৃত বন্য প্রাণীদের নিয়ে কি করা হবে এবং এদের রক্ষণাবেক্ষনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে নানা প্রস্তাবনা উঠে আসছে এবং আলোচনা চলছে।

সাইটসের নীতিমালায় বলা হয়, যেখানেই এসব প্রাণী ধরা পড়ুক কনা কেন, তা যে দেশ থেকে পাঠানো হয়েছে সেখানেই ফেরত পাঠাতে হবে। কিংবা সরকারের কোনো রেসকিউ সেন্টার কিংবা সঠিক স্থানে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

অনেকের মতে এটা সম্ভব নয়। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোকে আবার তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অনেক ব্যয়বহুল। তা ছাড়া অধিকাংশ দেশে রেসকিউ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। যেখানে ধরা পড়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ আসলে বুঝে উঠতে পারে না এদের নিয়ে কি করতে হবে? তারা কোনো ফ্যাসিলিটি সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে কোনভাবে প্রাণীগুলো আবারো পাচারকারীদের কব্জায় চলে যায়। কিংবা এমন কোনো বনে পাঠানো হয় যেখানে তারা আগন্তুক হয়ে নানা রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে।

উদ্ধারকারীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ লোক নেই যারা এসব প্রাণীর দেখভাল করতে পারেন। এরা রোগাক্রান্ত থাকতে পারেন। আবার আঘাতপ্রাপ্ত থাকতে পারে। এসব তথ্য দেন হিউমেন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল ট্রেড পলিসি বিশেষজ্ঞ মাশা কালিনিনা।

ভিয়েতনামের একটি ঘটনা বেশ শোরগোল তোলে। সেখানে জব্দ হয় ৪২টি প্যানগোলিন। উদ্ধারকারীরা তা বন সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে এদের দেখভালের জন্য দিয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষ তা স্থানীয় রেস্টুরেন্টগুলোর কাছে প্রাণীগুলো বিক্রি করে দেয় ১১ হাজার ডলারে।

স্পেনে একটি রেসকিউ সেন্টার খোলা হয়। আর আগে এসব প্রাণীকে চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো, জানান অ্যানিমেল অ্যাডভোকেসির পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান রাকুয়েল গার্সিয়া। স্পেনে এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জব্দকৃত অনেক প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো অনেক জটিল।

তবে আশাবাদ ফুরিয়ে যায়নি। সাইটসের গভর্নিং বডির সঙ্গে কনভেনশনের অংশ নেওয়া দেশগুলো একমত হয়েছে যে, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে অগ্রসর হবে তারা। হিউমেন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল ইতিমধ্যে দেশগুলোকে রেসকিউ সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছে। এর দিক নির্দেশনা দেবে তারাই।

সাইটসের সেক্রেটারি-জেনারেল জন স্কানলন জানান, আমরা পাচারকৃত প্রাণীদের সবগুলোকেই উদ্ধার এবং এদের সুষ্ঠু উপায়ে সংরক্ষণ করতে চাই। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশকে চাপ প্রয়োগ করা হবে। সহায়তাও দেওয়া হবে তাদের। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য