kalerkantho


অদ্ভূত বিকিকিনি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:২৯



অদ্ভূত বিকিকিনি!

নেটফ্লিক্সে এক নাটক 'ওরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাক'। এখানে দেখানো হয়, একেবারে চলতি বাজারে ব্যবহৃত অন্তর্বাস বিক্রি করা হচ্ছে।

নাটকে দেখানো হলেও এটা কিন্তু বাস্তবেও ঘটে। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে এরকম ব্যবসার কথা জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। এমনও ঘটনা ঘটেছে যে, এক জোড়া ব্যবহৃত অন্তর্বাস বিক্রি করে বিক্রেতা ৫ হাজার ডলার কামিয়ে নিয়েছেন।  

ব্যবহৃত অন্তর্বাস বিক্রির একটি ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে একটি স্টোরের নাম  সোফিয়া গ্রে। একটা সময় এ ধরনের বাজার সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না মানুষের। কিন্তু এখন এ বাজারে ভীড়ভাট্টা বেড়েছে। এটি অনেকটা ফুটপাথের দোকানের মতো। ২০১৫ সালে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহৃত লিঞ্জেরি বিক্রি শুরু হয়। এগুলো বেশ দামি।

অনেকে যৌন কামনা মেটানোর জন্যও ব্যবহৃত অন্তর্বাস বেছে নেন।

সোফিয়া গ্রের প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স ম্যাথিউস বলেন, আমাদের ক্রেতা-বিক্রেতারা সবাই ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে। অবশ্য ক্রেতাদের বেশিরভাগই পুরুষ যাদের বয়স ১৮-৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু মানুষ কেন তার ব্যবহৃত অন্তর্বাস অনলাইনে বিক্রি করতে উৎসাহী হবেন?
সবাই অর্থের জন্যই করেন। তবে অনেকের কাছে তা যৌন আবেদনের সঙ্গে জড়িত ব্যাপার।

সোশাল মিডিয়া 'রেডিট' ব্যবহারকারী একজন বলেন, সবার কাছেই বিষয়টি ভিন্ন। তিনি নিজেও তার কিছু অন্তর্বাস বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, যে পুরুষরা তার ব্যবহৃত অন্তর্বাস কিনেছেন তারা অধিকাংশই কিনেছেন স্বমেহনের জন্য। আবার অনেকে সেগুলো পরে ঘুমান। যেনো মনে হয় সঙ্গে কোনো নারী রয়েছে।

বিকিকিনিতে যেকোনো ধরনের অর্থের লেনদেন হয়। ১০ থেকে হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দাম ওঠে। এ সেবা প্রদান যতটা গোপনীয় থাকে, দামটাও তত বেশি দিতে হয়।

ম্যাথিউস জানান, সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো, এক ক্রেতা ৫ হাজার ডলার খরচ করে এক জোড়া অন্তর্বাস কিনলেন। বিক্রেতা এটি টানা ৩ সপ্তাহ পরেছিলেন। কোনগুলো পরা হয়েছে বা হয়নি তা বুঝতেও এক্সপার্ট রয়েছে।

মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিনের গাইনকোলোজিস্ট ড. অ্যালিসা ডিউইক জানান, অন্তর্বাস একটানা অনেক দিন পরে থাকলে তাতে ছত্রাক সংক্রমণের ভয় থাকে। ব্যাকটেরিয়ার ভয়ও থাকে। এখন কোনো ক্রেতা যদি ৫ হাজার ডলার খরচ করেও এই ঝুঁকি নেন তো এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

আবার অনেকের কাছে ব্যবহৃত অন্তর্বাস বিক্রি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। হ্যাম্পশায়ারের ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, তার শিক্ষাকালীন ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত অন্তর্বাস অনলইনে বিক্রি করেছেন।

এই ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য রেখেছেন ম্যাথিউস। তিনি চান না অন্যরা একই ব্যবসায় নেমে পড়ুক। একে অনৈতিক কোনো কারবার বলতে নারাজ তিনি। কারণ এতে কেবল দুটো পক্ষ- ক্রেতা আর বিক্রেতা। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য