kalerkantho


রাশিয়া নাকি আমেরিকা, নিউক্লিয়ার অস্ত্রে কোন দেশ বেশি ক্ষমতাধর?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩৫



রাশিয়া নাকি আমেরিকা, নিউক্লিয়ার অস্ত্রে কোন দেশ বেশি ক্ষমতাধর?

গত সোমবার রাতের বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া তাদের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করছে। তাদের এখন নতুন নতুন অস্ত্র আমাদের চেয়ে বেশি।

তবে আর্মস কন্ট্রোল ওঙ্ক এর ফান্ডিং পাবলিশার ড. জেফরি লিউইস জানান, রাশিয়া তাদের মিসাইল এবং ওয়াহেডসগুলোর আপডেট করেছে। কিন্তু মস্কো যে নতুনভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছে সে বিষয়টি মোটেও ঠিক নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আরো জটিল ও মারাত্মক অস্ত্র রাশিয়ার সাম্রাজ্যে যোগ হয়েছে। রাশিয়ার আরএস-২৪ ইয়ার্স ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইলকে  (আইসিবিএম) পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ২০০০ সালের মাঝামাঝি। এটি আমেরিকার যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। তাদের এই মিসাইল ১০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এগুলো পৃথিবীর পরিবেশে হাইপারসনিক গতিতে ধাবিত হয়, সেকেন্ডে ৫ মাইল বেগে। সম্প্রতি চীন এমন মিসাইল তৈরি করেছে। আমেরিকার এই মিসাইল ঠেকানোর মতো কোনো উপায় হাতে নেই।

তুলনা করে বলা যায়, আমেরিকান মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম একই গুণের অধিকারী। কিন্তু এতে একটি মাত্র ওয়ারহেড রয়েছে। একে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ১৯৭০ এর দশকে।

 

এখন সরাসরি প্রশ্নটা হলো, কাদের শক্তি বেশি যদি অস্ত্রের সক্ষমতার বিচার করা হয়?

ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড এর লিউইস জানান, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে শক্তিশালী মিসাইল কার তা মন্তব্য করতে হলে আমি আমেরিকার কথাই বলবো।

রাশিয়া বনাম আমেরিকা : লিউইস বলেন, আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ডিজাইনের আইসিবিএম বানিয়েছে রাশিয়া। তারা ক্রমশ এদের উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। প্রতি যুগে এদের আপডেট করে চলেছে তারা। অন্যদিকে, আমেরিকার অস্ত্রগুলো অনেক সুন্দর, জটিল এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজের জন্য ডিজাইন করা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমেরিকার অস্ত্রের প্লুটোনিয়ার পিটগুলো ১০০ বছর টিকে থাকবে। মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম অনেক পুরনো হলেও এগুলো দারুণ শক্তিশালী।

 

রাশিয়ার অস্ত্রগুলো অপেক্ষাকৃত নতুন। এসব ডিজাইনের পেছনে তাদের দর্শনটা হলো, একে গত ১০ বছরের মধ্যে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। কাজেই এরাই সর্বাধুনিক। তা ছাড়া রাশিয়া মিসাইলগুলো ট্রাকে বহন করতে পছন্দ করে। কিন্তু আমেরিকা এর বেজ মাটিতে রাখতে চায়। আমেরেকা আসলে তার মিসাইলগুলোকে কোনো কুৎসিক ট্রাকে রাখতে চায় না। রাশিয়ানটা মিসাইল রাখার বিষয়ে গোপন থাকতে চায়। এগুলো যেকোনো স্থানে বহন করে নিতে চায়।

আমেরিকা এমনভাবে অস্ত্রগুলো রাখতে চায় যার ওপর ভরসা রাখা সম্ভব। যে জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব সেই উপায় গ্রহণ করে আমেরিকা। এগুলো সম্পর্কে সহজেই প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। এ কারণে দুই দেশের মিলিটারির মধ্যেও পার্থক্য বিচার করা যায়।

ইউএস মিলিটারির নন-কমিশনড অফিসাররাই প্রাণ। এরা বহুকাল ধরেই এভাবে অবস্থান করছে। এ কারণে অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে  আমেরিকা রাশিয়ার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

আমেরিকা অস্ত্রের ধ্বংস ক্ষমতার দিক থেকে নিখুঁত থাকতে চায়। এ কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসাবে তারা নিজের অবস্থা পোক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। একটি মিসাইল একটি ওয়ারহেড বহন করে নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ভবন ধসিয়ে দেবে। এটা সূক্ষ্ম। আমেরিকা তা পছন্দ করে। কিন্তু রাশিয়ানরা ১০ ওয়ারহেড দিয়ে গোটা শহর ধ্বংস করতে চায়।

রাশিয়ার রোবোটিক মিনি-সাবমেরিনগুলো ১০০ নট গতিতে ৬২০০ মিসাইল নিয়ে পানিতে ঘুরতে পারে। এই অস্ত্রগুলো কেবল নিউক্লিয়ার অ্যাটাকই ঘটাবে না, এদের তেজষ্ক্রিয়তায় একটি হারবার বহু বছর ধরে বিষাক্ত থাকতে পারে। কিন্তু আমেরিকা এ পদ্ধতি পছন্দ করে না। নিউক্লিয়ার অস্ত্র গড়ার পেছনে রাশিয়ার দর্শন গভীরভাবে অসৎ।

লিউইস স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার অধিকাংশ আধুনিক অস্ত্রের হামলা ঠেকাতে পারবে না আমেরিকা। রাশিয়ার নিউক্লিয়ার আইসিবিএম কক্ষপথে বিস্ফোরিত হবে, আলাদা আলাদা অংশে বিভক্ত হবে এবং যার যার টার্গেটে আঘাত হানবে। ১০টি ওয়ারহেড নিয়ে ধেয়ে আসা মিসাইলকে ঠেকানোর পদ্ধতি আমেরিকা ডিজাইন করতে পারেনি। এটা চিন্তা করে আলোচনা জমে উঠতে পারে। কিন্তু আপনি যখন ১০০০ ওয়ারহেডের কথা চিন্তা করবেন, তখন করণীয় কি?

এর একটি সমাধান হতে পারে, এটি বিপজ্জনক এলাকায় আসার আগেই তাকে ধ্বংস করে দেওয়া। অর্থাৎ, রাশিয়ার ওপরই একে ভূপাতিত করতে হবে। আরেকটি উপায় হলো, মহাশূন্যের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস করে দেওয়া। তবে এর জন্যে আমেরিকাকে আরো বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন করতে হবে।

নিউক্লিয়ার অস্ত্রের পেছনে বছরের পর বছর, ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে আমেরিকা নির্দিষ্ট পরিমাণ ধ্বংসে বিশ্বাসী। জন এফ কেনেডির প্রশাসন সেই সময় ঠিক করে যে, নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ক্ষমতা এমন হবে যেনো তা গোটা সোভিয়েত ইউনিয়ন ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু সমালোচকরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে অস্ত্রের ক্ষমতা নির্ধারণের কথা বলেন।

আসলে এখানে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রের শক্তির বিচারে কারো বিজয় বুঝে নেওয়ার কোনো বাস্তবিক তত্ত্ব নেই, বলেন লিউইস।

একবার রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, গোটা আমেরিকাকে ধসিয়ে দিতে রাশিয়ার দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে। আবার আমেরিকার মিনুটম্যান ৩ রকেট দিয়ে সেকেন্ডে মধ্যে ক্রেমলিন ধ্বংস করা সম্ভব।

আমেরিকার অস্ত্রগুলো কখনোই পৃথিবীর অবসান ঘটাবে না। এগুলো নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন করেই বানানো হয়েছে। এগুলো কোটি মানুষের জীবননাশ না করেই তার লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য