kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ বিশ্ব হার্ট দিবস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:০২



আজ বিশ্ব হার্ট দিবস

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিবছর বিশ্বে ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষ।

  এ বছর এ দিনটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘Power your life’ অর্থাৎ ‘আপনার জীবনী শক্তি বাড়ান’।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৫৩ ভাগ মৃত্যুর কারণ হলো অসংক্রামক ব্যাধি; যার অন্যতম হচ্ছে করোনারি হৃদরোগ। এটি শতকরা প্রায় ২৭ ভাগ মৃত্যুর কারণ।   আর দেশে যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে শতকরা ১০ ভাগের মৃত্যু হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অথচ হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।
হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের অস্ত্রোপচার বেশ জটিল হওয়ায় সরকারি বেশিরভাগ হাসপাতালগুলোয় এই অস্ত্রোপচার করা হয় না। সরকারি জেলা হাসপাতালগুলোতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকাতে জন্মগত হৃদরোগে মারা যাচ্ছে অসংখ্য শিশু।
বড় এবং ছোটদের হৃদরোগের ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে, যা সঠিক যন্ত্রপাতি ও অদক্ষদের দিয়ে নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
কার্ডিয়াক সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও শল্যবিদসহ মোট ৩৮৩ জন চিকিৎসক নিবন্ধিত রয়েছেন। কিন্তু নেই শিশু-রোগীদের জন্য পৃথক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব। এছাড়া শিশু-হৃদরোগীদের চিকিৎসায় পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা ২০ এবং পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জনের সংখ্যা ১১ জন। এদের আবার অধিকাংশই রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে জানা যায়, নারী ও পুরুষের পাশাপাশি দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা। দেশে বর্তমানে তিন লাখের বেশি শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত। আর প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে ১০টি শিশু জন্মগ্রহণ করে হৃদরোগ নিয়ে। সে হিসাবে গড়ে ২ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্ম থেকেই হৃদরোগ নিয়ে বড় হচ্ছে। এদের বেশিরভাগই প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা না পেয়ে জন্মের ৭ থেকে আট মাসের মধ্যে মারা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অপুষ্টিজনিত সমস্যা এবং রক্তশূন্যতা থাকে, সেসব মায়ের সন্তানের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই সঙ্গে রয়েছে, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া, গর্ভকালীন সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নেওয়া, খাদ্যাভাস, রুবেলা টিকা গ্রহণ না করার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। সচেতনতার অভাবে জন্মের পর পরই শিশুদের হৃদরোগ নিয়ে কোনও পরীক্ষা না-করানো এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক শিশুরই চিকিৎসা দিয়ে আর সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে জানা যায়, এখানে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৯৮৭ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। সেই সঙ্গে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে ৭ হাজার ৫৩৮ জন শিশু।
অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগে গত ৭ সাত বছরে প্রায় ৪ হাজার শিশু হৃদরোগের চিকিৎসা করিয়েছে। ভর্তি হয়েছে নয়শ’র বেশি শিশুরোগী। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি শিশু হৃদরোগের চিকিৎসা নিচ্ছে।
দেশে শিশু কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। দেশে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে সে অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে এ বিভাগ চালু করা। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে যদি এ সংক্রান্ত বিভাগ চালু করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের শিশু-কার্ডিয়াকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আর এসব চিকিৎসকদের যদি কেবলমাত্র রাজধানীতে না রেখে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণের হার অনেক কমে আসবে।


মন্তব্য