kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে কারণে দুঃখ-হতাশায় জর্জরিত বিশের কোঠা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৫



যে কারণে দুঃখ-হতাশায় জর্জরিত বিশের কোঠা

লুসির সঙ্গে পরিচিত হোন। তাকে জেনারেশন ওয়াই এর একজন বলে মনে করা হচ্ছে।

যে প্রজন্মের জন্ম ১৯৭০ এর দশকের পর থেকে ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝিতে। লুসি এমন এক প্রজন্মের যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা বেশ ভালোই উপার্জন করেন। সংস্কৃতি বিশাল এক ওয়াই প্রজন্ম তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞ জেনারেশন ওয়াই'কে বেশ শক্তিশালী বলে মনে করেছেন। এদেরকে জিওয়াইপিএসওয়াই (জিপসি) বলে মনে করেন। এরা প্রজন্মের সেই অংশ যারা নিজেদের যেকোনো বিশেষ গল্পের প্রধান চরিত্র বলে মনে করে।

এই প্রজন্ম সব দিক থেকেই ভালো আছে। লুসিরও একই অবস্থা। তবে তার একটি সমস্যাই রয়েছে। সে কেমন যেন অসুখী।

একটি সাধারণ সূত্রেই সুখী বা অসুখীর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। এটি হলো- সুখ = বাস্তবতা - চাহিদা।  

একে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। কারো বাস্তব জীবন যখন তার চাহিদাপূর্ণ জীবন থেকে ভালো হয় তখন সে সুখী। কিন্তু যখন চাহিদার কারণে বাস্তবতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখন সুখ চলে যায়।

লুসির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে তার বাবা-মাকে আলোচনায় আনা যায়। তারা বেবি বুমার্স। অর্থাৎ তাদের জন্ম হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে। আর তাদের বাবা-মায়ের জিআই জেনারেশন। অর্থাৎ 'দ্য গ্রেটেস্ট জেনারেশন' যারা সময় কাটিয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষণ্ন সময়।

লুসির এই বিষণ্ন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে তার দাদুদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক চিন্তার আচ্ছন্নতা থেকে। তারা চেয়েছিলেন তাদের ছেলে-মেয়েরা আরো ভালোভাবে বড় হবে। লুসির বাবা-মায়েরা অবশ্য ধকল কাটিয়ে জীবনটাকে উন্নত করেছেন। তারা জেনেছেন, কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে জীবনট অনেক সুন্দর হয়ে ওঠে।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে লুসির বাবা-মায়েরা তাদের ক্যারিয়ারের পথে পা বাড়ান। তারা কাটান ৭০, ৮০ এবং ৯০ এর দশক। বিশ্ব ক্রমশ উন্নত অর্থনৈতিকব্যবস্থার দিতে এগিয়ে যেতে থাকে। তারা যেমন ভেবেছিলেন তার চেয়ে ভালো জীবন পেয়েছেন।

নিজেরা যেভাবে বড় হয়েছেন, তার চেয়ে ভালো পরিবেশে ও উন্নত জীবন তারা দান করেছেন লুসির জন্য। তাকে আশাবাদী করে গড়ে তুলেছেন। আর এ কাজে লুসির বাবা-মা একা নন। গোটা বিশ্বে বেবি বুমার্সরা তাদের সন্তানদের উন্নত জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। জেনারেশন ওয়াই যা চেয়েছে তাই পেয়ে বড় হয়েছে। এ কারণে জেনারেশন ওয়াই অনেক বেশি আশাবাদী হয়ে ওঠে তাদের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে। তাদের এই চাওয়া বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুন্দর জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই হয়নি।

জিপসি প্রজন্মের ভালো ক্যারিয়ার ছাড়াও আরো অনেক কিছু প্রয়োজন। বাবা-মায়ের স্বপ্নের সবুজ ঘাসের উঠোনটাই তাদের কাছে সবকিছু নয়। বাবা-মায়েদের প্রজন্মের একটি ভিন্ন ঘরানার স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু জেনারেশন ওয়াইয়ের ব্যক্তিগত স্বপ্নটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সত্যিকার অর্থে জিপসিরা বাবা-মায়ের মতোই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চায়। তারা নিজের চাহিদা অনুযায়ী একট ক্যারিয়ারও চান যার মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু ক্যারিয়ার গঠনে জেনারেশন ওয়াই অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠেছে।

লুসি শিক্ষা পেয়েছে তার সমাজ এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে। তারা জেনেছে যে তারা অন্য সবার থেকে আলাদা। এই জেনারেশনের প্রত্যেকে একে অন্যের চেয়ে নিজেকে আরেকটু ভালো কিছু মনে করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভ্রম। তারা নিজের সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু মনে করছে।

দ্বিতীয়বারের মতো তাদের মধ্যে ভ্রম তৈরি হয় যখন তারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। তারা বাবা-মায়ের মতো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়টি আশা করে না। লুসিও এদিক থেকে আলাদা নয়।

কিন্তু বাস্তবতা এভাবে এগোয় না। উন্নত ক্যারিয়ার ঘাম, শ্রম এবং রক্ত নেয়। এমনকি বহু সফল মানুষরাও তাদের বিশের কোঠার মাঝামাঝি বা তিরিশের কোঠায়র আগ দিয়ে অনেক ভালো কিছু করতে পারেন। কিন্তু এটা মেনে নিতে প্রস্তুত নন জেনারেশন ওয়াই।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রফেসর পল হার্ভে জানান, জেনারেশন ওয়াই বাস্তবতা বিবর্জিত আশাবাদ আর চাহিদা নিয়ে বাস করে। তারা চলার পথের কোনো নেতিবাচক অবস্থা মেনে নিতে পারে না। এ ধরনের অবস্থার শিকার হলেই তারা তা মেনে নিতে চান না। ফলে দেখা দেয় হতাশা। এ থেকে উত্তরণে তারা সর্বোচ্চ শ্রম বা মেধা দিতেও প্রস্তুত নয়।

লুসির চরম উচ্চাকাঙ্ক্ষায় যোগ হয়েছে ক্রোধ। সে তার নিজের সম্পর্কে যে ধারণা পোষন করে, তার সঙ্গে বাস্তবিক অবস্থা মেলে না। সেখানে বাস্তব অবস্থা আশাবাদের চেয়ে করুণ অবস্থায় থাকে।

কিছু মানুষ লুসির বাবা-মায়ের সময় তাদের চেয়ে অনেক সফলভাবে এগিয়ে গেছেন। আরেকটি বিষয় তাকে বাড়তি পেরেশানি দিচ্ছে। ফেসবুকে মানুষ যেভাবে নিজের পরিচয় তুলে ধরছে তার থেকে প্রভাবিত হচ্ছে লুসি। সোশাল মিডিয়া মানুষের যে ছবি ফুটিয়ে তুলছে তা অন্যদের হীনমন্যতায় ফেলে দিচ্ছে। সম্পর্ক, ক্যারিয়ার এবং অন্যান্য বিষয়ে তারা অন্যদের দেখে পেরেশানির শিকার হচ্ছেন।

এ কারণেই লুসি আজ অসুখী। সে হতাশায় ডুবে রয়েছে। সে তার ক্যারিয়ার নিখুঁতভাবেই শুরু করেছে। কিন্তু তার কাছে এটা যথেষ্ট নয়।

এখন লুসিকে যা করতে হবে-

১. আধুনিক বিশ্ব সুযোগে পরিপূর্ণ। এখানে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। তবে সঠিক পথটা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তাই এ পথের সন্ধান করতে হবে।

২. নিজেকে সবার চেয়ে আলাদা ভাবার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। কেউ-ই বিশেষ নয়। আপনি অন্যান্য তরুণের মতোই সাধারণ কেউ।

৩. অন্যদের বিষয়গুলো মাথায় না নেওয়াই ভালো। তাদের ক্যারিয়ার বা অবস্থার সঙ্গে নিজের তুলনা করলে চলবে না। নিজেকে নিয়েই তুষ্ট থাকতে হবে। যাদের বাইরে থেকে থাকছেন তারাও আপনার মতোই হতাশায় ডুবে রয়েছেন। তারাও নিজের অবস্থা নিয়ে মোটেও সুখী নন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য