kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যন্ত্রণায় দীর্ঘ ৫ বছর কিছুই খেতে পারেন না তিনি, কারণ জানেনা চিকিৎসকও

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৪২



যন্ত্রণায় দীর্ঘ ৫ বছর কিছুই খেতে পারেন না তিনি, কারণ জানেনা চিকিৎসকও

চিকৎসকরা সব ধরনের পরীক্ষা করেই তার কোনো রোগের সন্ধান পাননি। তার পরেও তিনি অসুস্থ।

আর এ অসুস্থতা এতই ভয়ঙ্কর যে, তিনি কিছুই খেতে পারেন না। একদিন দুদিন নয় টানা পাঁচ বছর ধরে এ যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীর নাম ম্যাকেনজি হাইল্ড। আধুনিক প্রযুক্তির সব রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা বিদ্যা দিয়েও তার রোগের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি চিকিৎসকরা।
পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকদের তিনি জানান, তার প্রচণ্ড পেট ব্যথা। আর এ কারণে তিনি কিছুই খেতে পারছিলেন না। এরপর চিকিৎসকরা তার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু ফলাফল শূন্য।
এ বিষয়ে একজন চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা সব পরীক্ষা করেছি। সব পরীক্ষার ফলাফলই স্বাভাবিক। ’
প্রচণ্ড পেটব্যথায় কোনো কিছু খেতে না পারায় সে সময় ১৯ বছর বয়সী এ তরুণীকে পাঠানো হয় চিকিৎসাকেন্দ্রে, যেখানে তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। কিন্তু রোগ নির্ণয় করতে না পারায় এক্ষেত্রে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। খাবার খেতে হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে। হাইল্ডের উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, যখন তার এ প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হয়। সে সময় তার ওজন ছিল ৭৫ পাউন্ড।
তিনি জানান, খুবই খেতে ইচ্ছে করে তার। কিন্তু তিনি খেতে পারেন না। কারণ কোনো খাবার খাওয়ার পরেই প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হয় তার। আর এ ব্যথা থাকে প্রায় চার ঘণ্টা, যে যন্ত্রণার কোনো ব্যাখ্যা নেই। এখন কৃত্রিম উপায়ে ফিডিং টিউবের সহায়তায় খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। আর এভাবেই চলছে দীর্ঘ পাঁচ বছর।
কী কারণে এ পেটব্যথা হতে পারে এ বিষয়ে নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা। তবে অনেকেই ওষুধের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানাচ্ছেন। তারা বলছেন ২০০৯ সালে হাইল্ড আফ্যিকায় গিয়েছিলেন। উগান্ডায় অবস্থানকালে তিনি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ সেবন করেছিলেন। আর সে ওষুধের পর থেকেই তার পেটে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এরপর তার ওজন যেমন কমতে থাকে তেমন নানা শারীরিক অসুবিধাও হতে থাকে। এ সমস্যা বাড়তে বাড়তে তা এক পর্যায়ে সহ্য করার অবস্থা থাকেনি।


মন্তব্য