kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বায়ু দূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৫



বায়ু দূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ

এই পৃথিবীর প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এমন স্থানে বাস করেন যেখানে বায়ু দূষণ নিরাপদ অবস্থায় নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এক গবেষণায় বলা হয়, লাখ লাখ মানুষ বায়ু দূষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের একটি মানচিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। ওপরের মানচিত্রে সবুজ অঞ্চলের বায়ুকে নিরাপদ বলা হয়েছে। আর অন্যান্য অংশে বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমশ হলুদ থেকে লালের পর্যায়ে। এসব অঞ্চলের বায়ুতে সালফেট, নাইট্রেট এবং ব্ল্যাক কার্বনের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান বিরাজ করে। এসব উপাদান ফুসফুসসহ দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে ঢুকে পড়ে এবং সৃষ্টি করে প্রাণঘাতী রোগ। বায়ু দূষণের দিক থেকে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে চীন, ভারত, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এংব আফ্রিকা।

হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যান্সার ঘটতে পারে এসব বিষাক্ত উপাদানের কারণে। এসব উপাদানকে পিএম২.৫ এবং পিএম১০ নামে ডাকা হয়।

কিছুক অংশ ধুলো প্রাকৃতিক কারণেই রয়েছে। যেমন সাহারা। তবে সেখানে ফসিলের জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ু দূষিত হয় যা অশনি সংকেত বহন করে।

ইংল্যান্ডের প্রায় পুরোটা অংশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে। এখানকার উত্তর-পশ্চিম এবং কর্নওয়াল ও ডেভোনের অংশের বায়ু বেশ স্বাস্থ্যকর। তবে স্কটল্যান্ডকের অবস্থাও সুবিধার নয়। অবশ্য গ্লাসগো বা নর্দান আয়ারল্যান্ডের বায়ু অনেক নিরাপদ।

২০১২ সালের এক হিসাবে বলা হয়, ঘরে এবং ঘরের বাইরে বায়ু দূষণের কারণে ৬.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যান গোটা বিশ্বে। এ সংখ্যা অন্যান্য কারণে ওই বছরে মৃত্যুর ১১ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। কাজেই এটা মানব সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর ড. ফ্লাভিয়া বুস্টেরো বলেন, যারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে চান তাদের জীবনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করতে হবে।

এ রিপোর্টটি 'অ্যাম্বিয়েন্ট এয়ার পল্যুশন: এ গ্লোবাল অ্যাসেসমেন্ট অব এক্সপোজার অ্যান্ড বার্ডেন অব ডিজিস' নামে পরিচিত। এখানে প্রদত্ত সব তথ্যে অনিশ্চয়ত থাকতে পারে। কিন্তু এটাকে এ যাবতকালের সর্বোৎকৃষ্ট তথ্যবহুল বলে মনে করা হচ্ছে।

সংস্থার পাবলিক হেলথ বিভাগের পরিচালক ড. মারিয়া নেইরা জানান, বায়ু দূষণ দিন দিন বাজে পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন শহরের পরিবেশ মারাত্মক অবস্থায় চলে গেছে। বাসার ভেতরের এবং বাইরের বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য প্রচণ্ড হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন দূষণ প্রতিবছর ৩ মিলিয়ন মানুষ মেরে ফেলে। এ কারণে মানুষ শনাক্ত করা যায় না এমন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ব্রিটিশ লাং ফাউন্ডেশনের প্রধান ড. পেনি উডস জানান, এসব তথ্যের মাধ্যমে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কাজনক ছবি দেখা যায়। প্রতিবছর অসংখ্য মৃত্যু আর তার সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের আতঙ্কিত করে দিচ্ছে। বায়ু দূষণের মাত্রা অতি দ্রুত কমিয়ে আনাটা অতি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনের আইনজীবীদের একটি সংস্থার নাম ক্লিন্টআর্থ। এর প্রধান নির্বাহী জেমস থর্টন জানান, বায়ু দূষণের প্রায় পুরোটাই অদৃশ্য। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে ব্রিটেনের অনেকেই দূষিত বায়ুর কিছু অংশ সেবন করছে।

ব্রিটেন ছাড়াও ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আদালতের মাধ্যমে সরকারকে বায়ু দূষণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাপ প্রয়োগ করছে। গোটা বিশ্বের অনেক স্থান আজ বায়ু দূষণে বিপর্যস্ত। সেখানে সরকারের জরুরি ভিত্তিতে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া কোনো গতি নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য