kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যেভাবে ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জেলা সিন্ধুদুর্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩৩



যেভাবে ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জেলা সিন্ধুদুর্গ

আগে অনয় আগারওয়াল বহু গ্রাম দেখেছেন। কোয়ালিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (কিউসিআই) প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন তিনি।

  স্যানিটেশন এক্সপার্টদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী এই ভদ্রলোক স্যানিটেশন এক্সপার্ট এবং সরকারকে এক করে মানসম্পন্ন স্যানিটেশনব্যবস্থা নিয়ে জরিপ পরিচালনা করেন। আইআইটি এবং আইআইএম এর শিক্ষার্থীদের কাজে লাগান তিনি। ৫০ জন জরিপকারী ৭৫টি জেলায় ঘুরে বেড়ান। অনেকে পরে তাদের স্যানিটেশনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ফোন করেন।

সোয়াচ অ্যানালাইসিস ভারতের প্রথম স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন সংক্রান্ত জরিপ। এ বছরের মে মাসের মধ্যে ভারতের ২২টি পাহাড়ি এবং ৫৩টি সমতল অঞ্চলের ৭০ হাজার বাড়িতে জরিপ চালায়। টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পানির ব্যবহার বিষয়ে তথ্য নেন তারা।

জরিপের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে এসেছে। একটা সময় তারা যান মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ অংশের উপকূলীয় জেলা সিন্ধুদুর্গয়।

আগারওয়াল জানান, এ সময়ের মধ্যে আমরা অনেক জেলা দেখে ফেলেছি। কিন্তু সিন্ধুদুর্গতে এসে সবাই অবাক হয়ে যান। সেখানে সবকিছুই যেন আলাদা। গোটা জেলার সব স্থান অনেক পরিষ্কার। এদের যত্ন নেওয়া হয়। টয়লেটগুলো তেমনি যেমনটা থাকা উচিত। সেখানকার মানুষগুলোও যথেষ্ট সচেতন।

কিউআইসি'র এই আবিষ্কারের কারণে ভারত সরকার একে দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার জেলা বলে ঘোষণা দেয়। এ মাসের প্রথমদিকে আরো ৫টি জেলা পরিষ্কার গ্রামের টপ টেন তালিকায় চলে এসেছে। এই বিজয়ে কোনো অর্থ বা পুরস্কার মেলেনি। কিন্তু এসব জেলার আছে গর্ব। এই গর্ব একরাতে অর্জিত হয়নি। সিন্ধুদুর্গ আজ ঝকঝকে হয়েছে ১৬ বছরের চেষ্টার কারণে। এতে মানুষ অভূতপূর্ব অংশ নিয়েছে।

ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর উদয় চৌধুরি বলেন, সিন্ধুদুর্গ জেলাটি আলাদা। তিনি এখানে আছেন এক বছর ধরে। ২০০০-২০০১ সালে সরকার শান্ত গেজ বাবা ভিলেজ স্যানিটেশন ক্যাম্পেইন শুরু করে। তখন প্রতি ৫ জন মানুষের মধ্যে একজনের টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না। স্যাটিটেশনকে জনপ্রিয় করে তোলে সেই ক্যাম্পেইন। ২০১৪ সালে যখন সোয়াচ মিশন প্রত্যেক গ্রামে গিয়ে মানুষকে টয়লেটের ব্যবস্থা করতে বলছে, তখন সিন্ধুদুর্গ এ ব্যবস্থার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তারা লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়।

সিন্ধুদুর্গ জেলা পরিষদের সিইও শেখর সিং জানান, বিগত ৪ বছরে এখানকার স্যানিটেশনব্যবস্থা যতটা উন্নত হয়েছে তা জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। এখানকার সবকিছুর অবস্থাই ভালো। নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান সমান। অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ ৮৫.৫ শতাংশ। মুম্বাই বা পুনের মতো অঞ্চলে মাইগ্রশেনের হার জানিয়ে দেয়, মানুষের জীবনযাপনের পথও অনেক রয়েছে।

কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি জেলা গড়ে তোলার কাজটি সহজ নয়। ২০০৫ সালে সেখানে ৫ ফুটের গর্ত খুঁড়ে টয়লেট বসাতে সাড়ে তিন হাজার রুপি খরচ হতো। এখন হয় ১৫ হাজার। মানুষের বসবাসের বিষয়টিও সামলাতে হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উদ্বাস্তুদের হারও অনেক বেশি ছিল। পরিবেশ সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ও বেশ কঠিন ছিল। প্যাকেটজাত খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এসব প্যাকেট বা বর্জ্য তারা পুড়িয়ে ফেলতো। এতে পরিবেশ দূষণ ঘটতো।

এক সময় সিং মানুষদের নিয়ে সভা করেন। এসব ময়লা পরিষ্কার ও পরিবেশ ঠিক রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ময়লা ফেলার জন্য অনেকগুলো স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। টয়লেটের সংযোগ ঘটানো হয় বায়োগ্যাস প্লান্টের সঙ্গে। ছোট বাড়িগুলোতে স্যুয়ারেশ ট্যাঙ্কগুলো মাটির নিচে রাখার মতো তৈরি করা হয়। বাড়িতে বাড়িতে সবুজ বিন দেওয়া হয়।

যারা টয়লেট বানিয়েছে তাদের তালিকা করে গ্রাম পঞ্চায়েত। শহরে থাকা এ জেলার ছেলে-মেয়েরা বাড়ির মানুষদের টয়লেট সম্পর্কে বোঝাতে থাকেন। যে সকল বাড়িতে টয়লেট হচ্ছে না তাদের মার্ক করা হয় বিভিন্ন রংয়ের স্টিকার দিয়ে।

গোটা কার্যক্রম সিন্ধুদুর্গ যখন শুরু করে, তার চেয়ে আগে থেকে শুরু করেন এখানকার মানুষজন। ছোটরা এ বিষয়ে মার্কেটিংয়ের কাজ করে। বাবা-মায়েদের স্বাস্থ্যকর টয়লেট বসাতে উৎসাহ জোগায় তারা। অধিকাংশ স্কুলের নোটিশবোর্ড সেই শিশুদের ধন্যবাদ জানানো হয় যারা পরিবারের সদস্যদের টয়লেট বসাতে উৎসাহ জুগিয়েছে।

এক স্কুলপড়ুয়া তার বাবা-মাকে স্বাস্থ্যকর টয়লেটের প্রয়োজন সম্পর্কে চিঠি লেখে। সিন্ধুদুর্গকে পরিষ্কার করে তোলার আহ্বান জানায়। টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম-কানুনও শেখায় সে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 


মন্তব্য