kalerkantho


সংস্কারের নামে নষ্ট করা হয়েছে চীনের প্রাচীরকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:১৫



সংস্কারের নামে নষ্ট করা হয়েছে চীনের প্রাচীরকে

চীন তার ৭০০ বছরের গর্বের ধন গ্রেট ওয়ালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করছে। কিন্তু মহাপ্রাচীরের ওপরের এবড়ো-খোবড়ো অংশকে সমান করে ফেলা হয়েছে।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রাচীরটি। এক প্রজেক্টের মাধ্যমে এর সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এ প্রাচীরের জিয়াওহিকো অংশের ৮ কিলোমিটার প্রাচীরের সংস্কার এখনো হয়নি। এই অংশটিকে 'সবচেয়ে সুন্দর বুনো গ্রেট ওয়াল' বলা হচ্ছে।

প্রজেক্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাচীরের গার্ড টাওয়ার এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্বলিত অংশগুলোকে সমান করে ফেলা হয়েছে। মূলত ক্ষয়রোধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনেকেই জানান, সেখানে বালু এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এখন চীনের প্রাচীরের ওপরটা দেখলে মনে হবে, এখান দিয়ে মোটরসাইকেল চলতে পারবে।

লিয়াওনিং প্রোভিন্সিয়াল অ্যান্টিকুইটিস ব্যুরোর প্রধান ডিং হুই জানান, সরকারের সংস্কার কাজের অংশ হিসাবে দুই বছর আগে এই কাজ শেষ করা হয়েছে।

তবে এর চেয়ে বাজে সংস্কার কাজ আর হয় না। এখানকর লিউনিং সুইঝং অংশটি ১৩৮১ সালে মিং সাম্রাজ্যে তৈরি করা হয়।

হুলুদাও সিটির কালচার ব্যুরোর এক অফিসিয়াল জানান, এই পদ্ধতিতে সংস্কারের পরিকল্পনা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কালচারাল রেলিকস গ্রহণ করে নেয়। প্রাচীরটি অনেক পুরাতন। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সময়ের সঙ্গে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়ছিল। আবার অনেক অংশের এমন অবস্থা হয়েছে যে বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অংশ রক্ষা করতে সংস্কার প্রয়োজন ছিল।

গ্রেট ওয়াল স্টাডিজ সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ডং ইয়াওহুই এই পদ্ধতিতে সংস্কারকর্মকে 'মৌলিক ও অপরিণত' বলে মন্তব্য করেন। মহাপ্রাচীনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নষ্ট করেছে এই সংস্কারকর্ম। গ্রেট  ওয়ালের এই চেহারা দেওয়ার কোনো মানে হায় না।

বেশ কিছু বছর ধরে গ্রেট ওয়ালের সংস্কার করতে চীনে আইন প্রণয়ন করা হয়। বড় একটি অংশকে বুলডোজার চালানো হয়। সংস্কার কাজে ব্যবহৃত উপকরণগুলো লুটতরাজ হয়েছে।

১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে চীনের প্রাচীরকে। সূত্র : ব্লুমবার্গ

 


মন্তব্য