kalerkantho


আর্সেনিক পিল বা সীসার পাউডার, এক বিষাক্ত প্রসাধনীর ইতিহাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:১২



আর্সেনিক পিল বা সীসার পাউডার, এক বিষাক্ত প্রসাধনীর ইতিহাস

আধুনিক লিপস্টিক বানানো হয় মোম, রং এবং তেল থেকে। কোনো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক কিনছেন তার ওপর নির্ভর করে।

রং আসতে পারে পোকার দেহ থেকে। তবে প্রসাধন সামগ্রীর দীর্ঘ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ঠোঁটের রং, আই লাইনার ইত্যাদি প্রসাধন সামগ্রী হিসাবে যা ব্যবহার কর হতো, তা হয়তো আপনি কখনোই ব্যবহার করবেন না। এখানে জেনে নিন এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য।

মিশর : খুব বেশি পরিমাণ আইলাইনার ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা। তবে তিনি একাই যে এমন করতেন তা নয়। প্রাচীন মিশরের সব নারী-পুরুষই তাদের চোখ দুটো রং করতেন কালো ও সবুজ পাউডারে। সূর্যের তাপ থেকে চোখ রক্ষা ছাড়াও এই প্রসাধন রোগ থেকেও রক্ষা করে বলে বিশ্বাস করতেন তারা।

সুর্মা ছাড়াও অন্যান্য যে পাউডার তারা ব্যবহার করতেন তাতে থাকতো সীসার লবণ। ২০১০ সালে এক ফ্রেঞ্চ গবেষণায় বলা হয়, এই লবণ মানুষের দেহের বেশি পরিমাণ নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন হতো।

ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধী ক্ষশতা বৃদ্ধিসহ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতো।

এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে এখন চোখের নিচে সীসাপূর্ণ লবণ দিতে হবে। প্রাচীনকালে অনেক মিশরিয়ান তিরিশের পর মারা যেতেন। সম্ভবত অতিমাত্রায় সীসা ব্যবহারের প্রভাবে এ ঘটনা ঘটতো। এ তথ্য দেন এপিডেমিওলজিস্ট জেনিফার উইউভ।

ইংল্যান্ড : প্রাচীন রোমের নারীরা ত্বক ফর্সা করতে সীসাপূর্ণ প্রসাধন ব্যবহার করতেন। ১৬ শো শতকে উচ্চবিত্ত ইংলিশরা একই কাজ করতেন। খোদ রানি এলিজাবেথ এই প্রসাধন ব্যবহার করতেন। পক্সের দাগ ঢাকার জন্য এলিজাবেথ তা ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়।

সীসা এবং ভিনেগারের মিশ্রণে তৈরি 'ভেনেটিয়ান সেরুস' নামের প্রসাধন ব্যবহার করতেন এলিজাবেথ। ভেনেটিয়ান সেরুস শব্দের অর্থ শনি গ্রহের শক্তি। যদিও আপাতদৃষ্টিতে ত্বকের বাজে দাগ দেখা যেতো না, কিন্তু এর ব্যবহারে ক্রমেই রং হারাতো ত্বক। এ ছাড়া চুল পড়ে যাওয়া এবং দাঁতের সম্যা দেখা দিতো।

আমেরিকা : উনবিংশ শতাব্দিতে আমেরিকায় বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়, টিনের চাকতি খাওয়া গেলে ত্বকের দাগ, পিম্পল ইত্যাদি দূর হয়। কিন্তু এই উপাদানে রয়েছে বিষাক্ত পদার্থ। এর পেছনে আরেকটি গোপনীয়তা ছিল। এটি ছিল 'আর্সেনিক কমপ্লেক্সন ওয়েফার্স'।

ভিক্টোরিয়ার সময় আর্সেনিক যে বিষাক্ত তা জানা গিয়েছিল। কিন্তু নারীরা ভাবতেন, এর সামান্য ব্যবহারে কোনো সমস্যা হবে না। অথচ অতি সামান্য পরিমাণও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর ব্যবহারে ত্বকেও বিদঘুটে দাগ পড়ে যেতে পারে। সূত্র : ন্যাশনার জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য