kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনার দেহের ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯ শতাংশই শূন্য!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫১



আপনার দেহের ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯ শতাংশই শূন্য!

কিছু সময় নিজেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে ভাবতে পারেন। অনেক বন্ধু, বড় চাকরি বা দামি গাড়ি নিয়ে আপনি সমাজের গুরুত্বপদের কেউ তো বটেই।

কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এই বন্ধুমহল, অফিস, পরিবার, গাড়ি, আপনি নিজে এই সীমাহীন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কাছে প্রায় শূন্য। আপনার দেহের ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯ শতাংশই শূন্যস্থান।

একটি অণুর অধীনে তার ইলেকট্রনগুলো স্থান দখল করে থাকে। নিউক্লিয়াস এবং অণুর বাইরের দেয়ালের মধ্য কতস্থান স্থান রয়েছে? নিউক্লিয়াসের ক্ষুদ্রাংশ গোটা অণুর চেয়ে এ লাখ গুন ছোট।

যদি নিউক্লিয়াসটি একট বাদামের সমান হয়, তবে অণুর আকার একটি বাস্কেটবল স্টেডিয়ামের সমান। আমাদের মধ্যকার অণুর ভেতরের সব স্থান যদি হারিয়ে ফেলি, তবে আমরা সবাই একটি বালুকণার মধ্যে এঁটে যাবো। গোটা মানব সভ্যতা চিনির ছোট এক কিউবে ধরে যাবে।

তাহলে আমাদের এতো ভর কোত্থেকে এলো? মৌলিক পর্যায়ে আমরা সবাই অণু থেকে তৈরি। অণু তৈলি ইলেকট্রন, প্রোটোন এবং নিউট্রন থেকে। আরো গভীরে এবং সম্ভবত সবচেয়ে গভীরে গেলে বলা যায়, আমাদের ভর সৃষ্টিকারী প্রোটোন এবং নিউট্রন কোয়ার্ক নামের মৌলিক কণায় সৃষ্টি। কিন্তু ইলেকট্রন এবং প্রোটোনের তুলনায় কোয়ার্কের ভর একেবারেই কম। আবার কোয়ার্কগুলোকে একসঙ্গে ধরে রাখে গ্লুওন যার ভর বলতে কিছুই নেই।

অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, আমাদের দেহের ভর আসে কোয়ার্কের কাইনেটিক এনার্জি এবং গ্লুওনের বাইন্ডিং এনার্জি থেকে।

এখন কথা হলো, ব্রহ্মাণ্ডের সব অণু যদি প্রায় শূন্য স্থান হয়ে থাকে তবে কোনো বস্তুকে কেন নিরেট অনুভূত হয়? শূন্য অণুগুলো একে অপরের সঙ্গে সেঁটে থাকে। আমাদের দেহ এবং গাছ তৈরি করে। বিষয়টা বুঝতে বেশ সমস্যা হয়। যদি অণু খালিই হবে তাহলে আমরা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাই না কেন? হাতে হাত মেলালে এক হাতের মধ্য দিয়ে অন্য হাত ঢুকে যায় না কেন?

আসলে শূন্যস্থান বলতে আমরা কি বোঝাই তা আগে বুঝতে হবে। ফাঁকা স্থান আসলে কখনোই ফাঁকা নয়। এগুলো ওয়েভ ফাংশন এবং অদৃশ্যমান কোয়ান্টাম ফিল্ডে পূর্ণ।

একটি ঘুরন্ত ইলেকট্রিক পাখা যেমন, অণুর ফাঁকা স্থানকে সেভাবে দেখা যায়। পাখাটি যখন ঘোরে না তখন তাতে অনেক কিছু রয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু ঘোরার সময় একে ফাঁকা লাগে।

কৌশলগতভাবে ইলেকট্রনগুলো উৎস। এদের আয়তন নেই। কিন্তু তাদের রয়েছে তরঙ্গ। কোয়ান্টাম মেকানিক্স সব সময়ই বিদঘুটে এবং জটিল।

আপনি একটি চেয়ারে বসলেন। এর হাতলে হাত রাখলেন। কিন্তু আপনার দেহ আসলে চেয়ারটিকে স্পর্শ করেননি। আপনি আসলে তাদের অণুগুলোকে অনুভব করছেন। আপনার ইলেকট্রন চেয়ারের ইলেকট্রনগুলোর ওপর যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তি প্রয়োগ করছে তাই অনুভব করছেন আপনি। একেবারে গোড়ায় টেকনিক্যাল দিক থেকে বলা যায়, আপনি চেয়ারে আসলে ভেসে রয়েছেন। এর সামান্য ওপরে অবস্থান করছেন।

তাহলে আপনি কেমন? এই শূন্য বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই শূন্য স্থানে আপনি এক শুন্য দেহ। যদিও আপনার অনেক কিছুই রয়েছে।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য