kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যান্টি-ভাইরাস মোগল থেকে খুনে ম্যাকাফি, উঠে এসেছে নতুন ডকুমেন্টরিতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:১১



অ্যান্টি-ভাইরাস মোগল থেকে খুনে ম্যাকাফি, উঠে এসেছে নতুন ডকুমেন্টরিতে

জন ম্যাকেফির ঘটনাটি কেউ-ই বুঝে উঠতে পারছেন না। এই অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার মোগল একটি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

বিলাসী স্বর্গীয় জীবন ছেড়ে কেন তিনি এমন পথে এলেন তা এতোদিন ধরে রহস্যে ঘেরা রয়েছে।

অস্কারজয়ী ডকুমেন্টরি নির্মাতা নানিতে বারস্টেইন সেন্ট্রাল আমেরিকা যান তার পরবর্তী সিনেমার সত্য উদঘাটনে। কিন্তু ম্যাকেফির ঘটনায় অনেক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে আছে অনেক অনেক প্রশ্ন।

'গ্রিনগো: দ্য ডেঞ্জারাস লাইফ অব জন ম্যাকাফি' ছবির প্রিমিয়ার সম্প্রতি টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে। বেলিজে ম্যাকাফির দিনকাল সম্পর্কে স্থানীয়রা অনেক তথ্য দেন। এদের অনেকেই তার সঙ্গে ছিলেন। এদের কেউ কেউ তার নির্দেশে অনেক হিংসাত্মক কাজ করেছেন। এমনকি খুনও করেছেন।

২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজের বাসিন্দা থাকাকালে ম্যাকাফির এক পড়শি খুন হলেন। পুলিশের চোখে ম্যাকাফি হয়ে ওঠেন সন্দেহভাজন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে, ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালায়। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি। কারাগারে যেতে হয়। সেখান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।

ম্যাকাফির ওই খুনের রহস্য কখনোই উন্মোচিত হয়নি। বারস্টেইন বেলিজে যান ম্যাকাফির ঘটনা জানতে। ম্যাকাফির অ্যাসোসিয়েটদের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের কাছ থেকে নানা তথ্য নেন। ম্যাকাফির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অনেক নারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

বারস্টেইন জানান, যারা খ্যাতি, অর্থ এবং ক্ষমতা নিয়ে সকলের অগোচরে থাকেন তাদের বিষয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। আমি তাকে নিয়ে পড়েছি যখন তিনি গুয়াতেমালায় পালিয়ে যান। হাজার হাজার খবর বেরিয়েছে তাকে নিয়ে।

বেলিজে থাকার সময় তাকে নিয়ে বেরোয় নানা তথ্য। জন ম্যাকাফির সঙ্গে বর্তমানে ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস প্রতিষ্ঠানটির কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে তিনি ম্যাকাফি বিক্রি করে দেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বেলিজে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। রোমাঞ্চপ্রত্যাশী জন ম্যাকাফি ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন। নব্বইয়ের দশকের পর তার আচরণে খামখেয়ালিপনা দেখা দেয়। তারপর প্রযুক্তি জগৎ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যান বেলিজে। সেখানে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে সে অঞ্চলের বিখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী আর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি ভয়ংকর মাদক তৈরির চেষ্টা করছিলেন। ক্রমাগত বাড়ছিল তার খামখেয়ালি আচরণ। ম্যাকাফির পুরোনো সহকর্মী এবং বন্ধুদের অনেকেই জানিয়েছেন, নারীদের মধ্যে যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে পারে এমন মাদকের প্রতি অনেক দিন ধরেই কৌতূহল ছিল ম্যাকাফির।

ছবি : নানিতে বারস্টেইন

গত বছরের অক্টোবরে ম্যাকাফির বেলিজের জীবন নিয়ে কিছু করার আইডিয়া আসে বারস্টেইনের মাথায়। স্পাইক টিভিও তাকে এ নিয়ে কাজ করতে উৎসাহ জোগায়। পরে জেন ওয়াইজ নামের একজন বারস্টেইনকে বেশ কিছু তথ্য দেন। তিনি ম্যাকাফির সম্পর্কে বেশ কিছু প্রতিবেদন করেছিলেন। মাইকেল হির্সক্রন।

কাজে ঝাঁপ দেন বারস্টেইন। বেলিজে চলে যান। সেখানে প্রথম যার সঙ্গে পরিচিত হন তার নাম এডি ম্যাককয়। সেখানকার গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তার। এক সময় তিনি ম্যাকাফিকে খুনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সেখানে কাজ করতে সবার সহায়তা পেয়েছেন। মূলত নারী হিসাবে তিনি অনেক সহায়তা পেয়েছেন।

ফউল খুনের ঘটনায় ম্যাকাফিকে দায়ী করা হয়। ম্যাকাফির কেয়ারটেকার ক্যাসিয়ান চাভারিয়াকে খুনের জন্য ৫ হাজার ডলার সেধেছিলেন। তিনি ফউলকে মারতে চেয়েছিলেন। কার ম্যাকাফির ধারণা ছিল ফউল তার কুকুরগুলোকে বিষ প্রয়োগ করেছেন।

বেলিজে মানুষের আস্থা পেতে বারসস্টেইনের এক মাস সময় লেগে যায়। এক সময় ছবিটা শেষ করার চাপ আসতে থাকে। কিন্তু তখনও বারস্টেইন ম্যাকাফি এবং তার কাছে মানুষদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এ ছবি তৈরি করতে সহায়তা করে শোটাইম। বারস্টেইন জানান জানান, এ কাজে যারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাদের কাউকে কোনো পয়সা দিতে হয়নি। তবে ম্যাকাফির কিছু ছবি ব্যবহার করতে খরচ করতে হয়েছে। নানা জটিলতা ও বেশ কিছু প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বারস্টেইন কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।

বারস্টেইনের মতে, তার জীবনের এটাই সবচেয়ে বিদঘুটে সিনেমা। তিনি রীতিমতো ভয় পেয়েছেন এ কাজ করতে গিয়ে। এ সিনেমা উপলক্ষে তিনি ম্যাকাফিকে পেতে চাইছিলেন ক্যামেরায়। এর পর থেকেই তিনি ম্যাকাফির কাছ থেকে হুমকিমূলক ইমেইল পেতে থাকেন। একটি ইমেইলে ম্যাকাফি বারস্টেইনকে একটি উপহার পাঠানোর জন্য ঠিকানা চান। তখন তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তিনি একা। সে সময় ভয় পেয়ে যান তিনি।

এ ছবি প্রসঙ্গে বারস্টেইন জানান, বেলিজে থাকাকালীন ম্যাকাফি যতটা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তার চেয়ে অনেক কম উঠে এসেছে সিনেমায়। আরো অনেক খুনের সঙ্গে জড়িত নাকি ছিলেন ম্যাকাফি।

এসব অভিযোগ আমি ছবিতে তুলে আনিনি। কারণ এগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি আমি বের করতে পারিনি। তবে ম্যাকাফি তার বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বলেন বারস্টেইন।

বেলিজের গভর্নর আমার বন্ধু নন, বলতে থাকেন নির্মাতা। তবে তারা এই ছবি দেখে নিজেদের সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে ঠিকই সচেতন থাকবেন, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য