kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিকিৎসকদের নিয়ে ৬ বিষয়ে ভুল হলিউড, তবে ৪ বিষয়ে ঠিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:১২



চিকিৎসকদের নিয়ে ৬ বিষয়ে ভুল হলিউড, তবে ৪ বিষয়ে ঠিক

চিকিৎসকদের নিয়ে আমেরিকানদের ধারণা এখনও হয়ত পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু সেই ১৯৫১ সালেই মেডিক্যাল ড্রামা 'সিটি হসপিটাল' ছোটপর্দায় এসেছে।

এ ছাড়া হলিউড বেশ কয়েকটি সিনেমাও করেছে চিকিৎসকদের নিয়ে। কমেডি সিরিজ 'হাউজ', 'ই. আর.' বা 'গ্রেইস অ্যানাটমি' দারুণ জনপ্রিয় হয়। এতকিছুর পরও তাদের নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ছড়িয়েছে পর্দার মাধ্যমে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিস কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস এবং ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডাস কলেজ অব মেডিসিনের দুই শিক্ষার্থী জিনা রিজ এবং ফাইজ জিওয়ানি এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। এখানে দেখে নিন চিকিৎসক এবং ওষুধসংক্রান্ত ৬টি ভুল ধারণার কথা যা হলিউডের পর্দায় প্রচার পেয়েছে। এখানে তাদের সম্পর্কে ৪টি সত্য তথ্যও তুলে দিয়েছেন তারা।

১. চিকিৎসকরা বাঁধাধরা নিয়মে আবদ্ধ : তারা এমন নন। তাদের মধ্যেও বৈচিত্র্য রয়েছে। পুরনো ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী, আদর্শবাদী তরুণ, নারীদের প্রতি আকৃষ্ট এবং বড় হৃদয়ের অধিকারীদের দেখা যায়। অতি সাধারণ থেকে শুরু করে চরম মানসিকতার চিকিৎসক খুঁজে পাবেন রোগীরা। চিকিৎসকদের সব সময় প্রধান কেন্দ্র করা হয় বেশ কয়েকটি কারণে। তারা অনেক পড়াশোনা করেন, উপাজর্ন বেশি এবং ওষুধ সম্পর্কে ধারণা রাখেন যা সাধারণ মানুষ বোঝে না ইত্যাদি কারণ কাজ করে। যখন চিকিৎসক এবং রোগীর দেখা হয়, তখন তারা মিশে যান নিজেদের অভিজ্ঞতার ইতিহাস নিয়ে। কিন্তু সব সিরিজ বা সিনেমায় নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

২. চিকিৎসক মানেই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রদান : 'গ্রেইস অ্যানাটমি'তে কখনো দেখেননি যে চিকিৎসক কোনো ইন্স্যুরেন্স কম্পানির এজেন্টের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন। তার মানে এই নয় যে তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জড়ান না। এ ধরনের গল্প চিকিৎসকদের দুনিয়াকে অনেক ছোট করে আনে। এ কারণে চিকিৎসকদের সম্পর্কে কয়েকটি ধারণাই কাজ করে।
 
৩. মেডিক্যাল সংস্কৃতি সবখানেই একরকম : রিজ বলেন, মেডিক্যাল বিষয় নিয়ে যত অনুষ্ঠান বা ছবি হয় তার পুরোটাই মেডিক্যাল সংস্কৃতি নয়। ২০১৫ সালের 'ট্রেইনরেক' সিনেমায় চিকিৎসাপেশা সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রকাশিত হয়। রোমান্টিক কমেডিতে মিষ্টভাষী বিল হ্যাডার ছিলেন অর্থোপেডিক সার্জন। যখন তিনি তার মতোই অন্যান্য অর্থোপেডিক সার্জনদের সঙ্গে এক হন তখন বিনয়ী ও চুপচাপ অবস্থা তাদের কাজের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সার্জনদের মিতভাষী হলে চলবে না বলেই মনে করেন রিজ।

৪. রোমান্সের দারুণ স্থান হাসপাতাল : বহু মেডিক্যাল ড্রামাতে রোমান্টিক কাহিনী ফুটে উঠেছে। মনে এমনিতেই চিন্তা আসে যে, এ সকল চিকিৎসক কিভাবে মনোযোগের সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা করবে? বাস্তব জীবনে চিকিৎসক প্রেমে পড়তেই পারেন। যেকোনো কর্মক্ষেত্রেই তা ঘটতে পারে। কিন্তু রোমান্স করার জন্য কোনো চিকিৎসকের হাসপাতালের ফাঁকা কক্ষ খোঁজার সময় ও সুযোগ নেই।

৫. ঘষামাজার কাজটি স্বাভাবিক : মেডিক্যাল ড্রামায় এসব দেখানো হয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও ঠিক নয়। রিজের মতে, হতে পারে অনেক কিছু নান্দনিক করতে এমন দেখানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকেই মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপে মোটেও মানায় না। যখন সার্জারি চলাকালীন কোনো চিকিৎসককে কিছু ঘষামাজা করতে দেখা যায়, তখন তা বড় অদ্ভুত বিষয়।

৬. চিকিৎসকরা জাদুকর : সাধারণ মানুষ ওষুধ-পথ্য সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। এ কারণেই হয়ত চিকিৎসক হতে ১৪ বছরের পড়াশোনার দরকার। এ কারণে তাদের কেন্দ্র করে কল্পিত কাহিনী দেখানো হয়। তাদের জীবন বাঁচানোর জাদুকর হিসাবে তুলে ধরা হয়। ফলে মানুষ চিকিৎসার মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি থেকে উতরে যাওয়ার আশা করেন বলে মনে করেন জিওয়ানি। এ কারণেই তারা রোগ প্রতিরোধে উৎসাহী হয় না।

এখন জেনে নিন চিকিৎসকদের সম্পর্কে ৪টি সত্য কথা :

১. এটা রক্তাক্ত : মেডিক্যাল স্কুলে যাওয়ার আগে রিজ সার্জারির কিছু ছবি দেখেছিলেন। আসলে কাজটি বেশ রক্তাক্ত। যথেষ্ট ভয়ংকর। ছবিগুলো দেখে ভুয়া মনে হয়েছিল রিজের। কিন্তু পরে বুঝতে পারলেন যে এ সবই সত্য। চিকিৎসকদের পেশায় শুধু রক্ত আর রক্ত।

২. তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন : এটা সত্য যে অধিকাংশ চিকিৎসকই অনেক অর্থ আয় করতে পারেন। এ পেশায় অনেক পয়সা। চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা রোগীকে সময় দিয়েই প্রচুর অর্থ পেয়ে যান।

৩. তাদের কার্যসূচি বেশ পাগলাটে : চেম্বার বা হাসপাতালে যেকোনো সময় দায়িত্বপালন করতে হয়। তা ছাড়া প্রচুর ডিইটি দিতে হয়। দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এক হিসাবে জানায়, অধিকাংশ চিকিৎসকরাই সপ্তাহে ৬১-৮০ ঘণ্টা ডিউটি পালনের কথা বলেছেন।

৪. কাহিনীপূর্ণ হাসপাতাল : অনেক সিরিজ বা সিনেমায় হাসপাতালকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখানো হয়। কারণ হাসপাতালে আসলে অনেক ঘটনা ঘটে। রিজ জানান, মেডিক্যাল ড্রামাগুলোতে কাঠামো, সূত্র বা অনুপ্রেরণাদায়ক চরিত্র সব একসঙ্গে মেলে হাসপাতালে। এই স্থানে চিকিৎসকরা দিনের ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাটিয়ে দেন। তারা দারুণ আবেগময় মন নিয়ে আসা রোগী ও তাদের সঙ্গীদের মাঝে বিচরণ করেন। কাজেই এক চরমভাবাপন্ন পরিবেশের মধ্যে থাকেন তারা। অসুস্থতা, বিপদ ও মৃত্যুর আবহ হাসপাতালের সাধারণ চিত্র। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী, পরিবার বা চরিত্র ও ঘটনার কারণে হাসপাতাল হয়ে ওঠে কাহিনীতে পূর্ণ। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য