kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'এই দুই ভদ্রলোককে দেখুন..', বিকলাঙ্গ নারীর ক্ষুব্ধ পোস্টে তোলপাড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৩০



'এই দুই ভদ্রলোককে দেখুন..', বিকলাঙ্গ নারীর ক্ষুব্ধ পোস্টে তোলপাড়

প্রতিবন্ধীদের জন্য ট্রেনে আলাদা সিট থাকে। এতে অন্য কেউ বসতে পারে না।

কিন্তু এক বিকলাঙ্গ নারীর সিট দখল করে বসে থাকলেন দুজন লোক। ওই নারী বলার পরও তারা ওঠেনি। এভাবে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁকে। আর এ ঘটনায় ওই দুই লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন ফেসবুকে।

ক্যাল লি থাকেন ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের হেবডেন ব্রিজ এলাকায়। ভার্জিন ইস্ট কোস্ট সার্ভিসে একটি সিট বুকিং করেন। যাবেন কিংস ক্রস থেকে স্কিপটনে। ৪৩ বছর বয়সী ওই নারী বিকলাঙ্গ। তিনি তার এক বন্ধুকে নিয়ে ট্রেনে ওঠেন। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের জন্য রিজার্ভ করা সিটে বসেছিলেন দুজন লোক। তাদের কাছে নিজের সিটটি ফেরত চান। কিন্তু তারা উল্টো বলেন যে, ট্রেনে অনেক ভিড়। তাই প্রতিবন্ধীদের জন্য রিজার্ভ করা সিটের নিয়মটি খাটে না।

পরে সোশাল মিডিয়ায় ওই দুজনের ছবি প্রকাশ করে লি লিখেছেন, এই দুই ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচিত হোন। তারা লন্ডনের কিংস ক্রস থেকে স্কিপটনে যাচ্ছেন। তারা আমাদের রিজার্ভড সিট নিয়ে নিয়েছেন। প্রতিবন্ধী হিসাবে আমি আমার সিটটি চাইলে তারা দিতে রাজি হননি। আমি নিশ্চিত তাদের স্ত্রী ও মায়েরা তাদের নিয়ে গর্ববোধ করবেন।

ছবির একজন পুরুষ অবশ্য সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নাম না প্রকাশ করে বলেন, ওই নারী জানান যে তার কোমরে ব্যথা। কিন্তু বলেননি যে তিনি প্রতিবন্ধী। তা ছাড়া ট্রেন আসতে দেরি করে। যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। তখন ভার্জিনের স্টাফরা জানান যে এমন বিশেষ রিজার্ভেশন বাতিল করা হলো।

লি দুই সন্তানের জননী। তিনি ক্রনিক ব্যথায় ভুগছেন। এ কারণে হাডের্সফিল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লেকচারার হিসাবে বাধ্যতামূলক অবসর নেন। ট্রেনে ওই ঘটনার পর লি কোনো গার্ডকে খুঁজে পাননি। মানুষের অনেক চাপ ছিল, তাই এদের খুঁজে বের করতে এদিক-ওদিক যেতেও পারেননি।

লি জানান, কিংস ক্রসে ট্রেন পৌঁছে দেরি করে। রিজার্ভ করা সিটের পেছনে লেবেল বসিয়ে দেওয়ার সময় ছিল না স্টাফদের হাতে।

ক্যাটের দেখভালের জন্য তার সঙ্গে সব সময় একজন থাকেন। তাকে নিয়েই ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু ওই দুই ভদ্রলোক তাদের জন্য সিট ছাড়েননি। তাদের রিজার্ভ টিকিট দেখানোর পরও তারা সিট ছাড়েননি। তিনি বিকলাঙ্গ এবং ব্যথার কারণে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না বলার পরও তারা সিট ছাড়েনি।

পরে ক্যাটের স্বামী জানান, যাত্রার মাঝপথে নেমে যান ওই দুই ভদ্রলোক। ওই রাতে দারুণ ক্ষুব্ধ হয় ক্যাট। তার ব্যথা বেড়ে গেছে। সে দুই লোকের ছবি তুলে রাখে এবং তার ফেসবুক পেজে তুলে দেয়।

ক্যাট বলেন, যাত্রাপথের পুরোটা সময় ওই দুই লোক ক্যারিবিয়ান ও দুবাইয়ে তাদের বিলাসী ভ্রমণের গল্প করছিলেন। তারা সিট তো ছাড়েইনি, বরং নিজেদের মোবাইল ফোনে তাদের ভ্রমণের ছবিগুলো দেখছিলেন। ওদের মনে অন্যের জন্য কোনো বিবেচনাবোধ নেই।

এদিকে ওই ট্রেনে যে রিজার্ভ সিট বাতিলের ঘোষণা আসে তেমন কোনো খবরের সত্যতা মেলেনি।

এক স্টাফ বলেন, কারো রিজার্ভ করা সিটে যদি তিনি বসতে না পারেন, তবে তার টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
সূত্র : ডেইলি মেইল

 


মন্তব্য