kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'প্রাচীন আদিবাসীর মাথার আঘাতটি বুমেরাংয়ের'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:১৬



'প্রাচীন আদিবাসীর মাথার আঘাতটি বুমেরাংয়ের'

অস্ট্রেলিয়ার এক নদীর ধারে বছর দুয়েক আগে মেলে এক আদিবাসীর  কঙ্কাল। তার খুলি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে তলোয়ার বা ধারালো কিছু দিয়ে পোচ দেওয়া হয়েছিল।

এ আঘাত সম্ভবত তখনই ঘটেছিল যখন ইউরোপিয়ানরা চষে বেড়াচ্ছে উপমহাদেশ।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষটি মারা গেছে ইউরোপিয়ানরা সেখানে তাদের ধাতুর তৈরি অস্ত্র নিয়ে আসার ৬০০-১২০০ বছর আগে। তাহলে এমন আঘাত কিভাবে আসলো? নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই অস্ত্র স্থানীয়ভাবেই তৈরি হয়েছিল। এই সেই অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষত যার নাম বুমেরাং। গবেষকদের মতে, ইউরোপিয়ানরা এ অঞ্চলে শক্তপোক্ত অবস্থান নেওয়ার আগে আদিবাসীরা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই করতো। যে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে সে এমন লড়াইয়ে মারাত্মক আঘাতের শিকার।

এর আগে একটিমাত্র কঙ্কাল মিলেছে যার দেহে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন মেলে। ওই কঙ্কালটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ অব্দের সময়কার। তার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজিস্ট মাইকেল ওয়েস্টওয়ে জানান, গোটা মহাদেশজুড়ে এমনটা ঘটতো কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে আদিবাসীরা ক্ষমতার লড়াই করতো। এর প্রমাণ এর আগেও মিলেছে।

স্থানীয় আদিবাসী 'বাকান্তজি' গোত্রের একজন উইলিয়াম বেটস এই কঙ্কালটি আবিষ্কার করেন ২০১৪ সালে। একে তারা বলে 'কুকুতজা' যার অর্থ বড় ভাই। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন মেলে। তার পাঁজরের কয়েকটি হাড় ভাঙা ছিল। তার এক হাতের ওপর অংশের কিছু হাড়ও আলাদা করা হয়েছে।

এই কাকুতজা মারা যান তার ২০ বা ৩০ বছর বয়সে। এই মানুষটি তার সময়ের এমন নৃশংসশ লড়াই সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তার খুলিতে দুটো আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর একটি ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন প্রকাশ করছে। তার পেট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শেষবার সে ক্রেফিশ এবং পজাম খেয়েছিল।

গবেষকরা জানতে পারেন যে, অস্ট্রেলিয়ার এই মানুষটি সেখানে ধাতব বস্তু ব্যবহারের বহু আগে বেঁচেছিলেন। তাহলে এমন ধারালো অস্ত্রের আঘাত কিভাবে লাগলো। পরে বেরিয়ে আসে যে, এটা লিল-লিল নামের নামের এক অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট হতে পারে। আবার বুমেরাংয়ের আঘাতেও হতে পারে। তার মাথার আঘাত বুমেরাংয়েরই ছিল। আদিবাসীরা এটি মাটি খোঁড়ার কাজে, শব্দ সৃষ্টিতে এবং পশু কাটার কাজেও ব্যবহার করতো।

বুমেরাংয়ের ব্লেড ১৮ ইঞ্চি লম্বা হতো। কাকুতজার মাথার আঘাতের বৈশিষ্ট্য বুমেরাংয়ের সঙ্গে মেলে। কাকুতজাকে যেখানে সমাহিত করা হয় তার কাছেই পাথরে আঁকানো ছবির সন্ধান মেলে। সেখানে দুজন আদিবাসীর ছবি আঁকানো ছির যারা হাতে ঢাল, অস্ত্র এবং বুমেরাং ধরে রয়েছে। এগুলো আদিবাসীদের যুদ্ধের চিত্র প্রকাশ করে। তবে অনেক গবেষকের মতে, এগুলো তাদের নাচ ও আচার-অনুষ্ঠানের চিত্র।

 

ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ জো ম্যাকডোনাল্ড জানান, কাকুতজার আঘাত খুব কাছে থেকে লেগেছে। সম্ভবত হাতে হাতে যুদ্ধ হয়েছে। তার হাতে কোনো আঘাতে চিহ্ন নেই। তাকে বুমেরাং ছুড়ে মারা হয় যা ঢালকে ফাঁকি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এই মহাদেশে ঢাল ও বুমেরাংয়ের ব্যবহার অতি সাধারণ বিষয় ছিল।

আরেক আর্কিওলজিস্ট কলিন প্যাড্রো বলেন, অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে অন্য কারো দেখা হওয়া আগের কাহিনী রয়েছে এই কঙ্কালে।

ওয়েস্টওয়ে জানান, কাকুতজার মাথাটি বিশেষ বালুতে রাখা হয়েছে। বোঝা যায় তিনি ছিলেন গোত্রের বিশেষ কেউ। তাকে খুঁজে পাওয়ার পর সম্মান জানিয়েছে বর্তমান আদিবাসীরা। মৃত্যুর এতদিন পরও সম্মানিত তিনি। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য