kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমনকি ৫ বছরের শিশুরাও আত্মহত্যা করতে চায়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৪৩



এমনকি ৫ বছরের শিশুরাও আত্মহত্যা করতে চায়!

সবাই মনে করেন, বড়রাই মানসিক জটিলতায় আত্মহত্যা প্রভণতায় ভোগেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলা হয়, এমনকি ৫ বছরের শিশুদের মাঝেও আত্মহত্যা প্রবণতা কাজ করে।

বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ফ্রিৎজ জানান, বড়দের জেনে রাখা উচিত যে ৫ বছরের শিশুরাও নিজেদের হত্যা করতে পারে। কম বয়সীদের আত্মহত্যা প্রবণতা নেহাত কম নয়। ৫-১১ বছর বয়সীদের প্রতি ১ লাখের মধ্যে ০.১৭ শতাংশ আত্মহত্যা করতে চায়। বয়স ১২-১৭ হলে হার ৫.১৮ শতাংশে পৌঁছে।

ফ্রিৎজ বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভাবতেন যে শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা কাজ করে না। কারণ তাদের মাঝে নৈরাশ্য বা তীব্র যাতনা এমনভাবে কাজ করে না যে নিজের জীবন শেষ করে দিতে হবে। এ ছাড় মৃত্যু সম্পর্কেও তাদের মাঝে স্পষ্ট ধারণা নেই। কিন্তু এমনটাও হতে পারে। প্রতিদিন না ঘটুক। কিন্তু হঠাৎ ঘটতে পারে। তাই ছোটদেরকেও আত্মহত্যা বিষয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে। যারা বিশেষজ্ঞ নন তারা তো এ কথা বিশ্বাসই করতে চান না যে ৫ বছর বয়সীদের মাঝেও এ প্রবণতা আসতে পারে।

প্রধান গবেষক অ্যারিলি শেফটাল বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৯৩-২০১২ সালের মধ্যে কালো চামড়ার শিশুদের মাঝে আত্মহত্যা প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। এ গবেষণায় দেখার চেষ্টা করা হয়েছে যে, শিশুরা কি ভেবে এমনটা করতে চায়?

গবেষকরা আমেরিকার ১৭টি স্টেটে ৫-১৪ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। এদের মধ্যে ৫-১১ বছর বয়সী ৮৭টি শিশু আত্মহত্যা করে যাদের ৮৭ শতাংশই ছেলে। এ দলে ৬০৬ জন রয়েছে যাদের বয়স ১২-১৪ বছরের মধ্যে।

এ বয়সীদের অধিকাংশই পরিবারের অন্যান্য সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক জটিলতার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ছাড়া প্রেমঘটিত জটিলতার কারণেও এমনটা করে তারা।

গবেষকরা অবশ্য কালো শিশুদের মধ্যে এমন ঘটনা বেশি হওয়ার পেছনে সঠিক কারণ খুঁজে পাননি। এক-তৃতীয়াংশ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের বেহাল দশা ছিল। তারা ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছিল। এ ধরনের শিশুদের মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলা বেশ কঠিন বিষয়। কারণ তাদের চিন্তা ক্রমাগত বদলাতে থাকে। তারা এখন হয়তো মৃত্যুর কতা চিন্তাই করছে না। কিন্তু পর মুহূর্তেই চিন্তা চলে এলো। কম বয়সীদের মধ্যে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আরেকটু বড়রা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ বিষয়ে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। তারা কেন এমন ভাবছে বা করতে চাইছে তা জিজ্ঞাসা করতে হবে। তাদের জীবনযাপনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।    

এ প্রতিবেদনটি পেডিয়াট্রিকস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 


মন্তব্য