kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ময়নিহান পরিবারের ড্রাগ, স্ক্যান্ডাল ও ক্ষমতার কাহিনী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৯



ময়নিহান পরিবারের ড্রাগ, স্ক্যান্ডাল ও ক্ষমতার কাহিনী

ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক এক ঘটনা বিশ্ব মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছে। ব্রিটিশ দম্পতির কন্যার লাশ পাওয়া যায় ফিলিপাইনের রাস্তায়।

মারিয়া অরোরা ময়নিহান নামে ৪৫ বছর বয়সী সে নারীর ব্রিটিশ ও ফিলিপাইনের যৌথ নাগরিকত্ব রয়েছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি সর্বশেষ শিকার। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।
বেশ কিছুদিন ধরেই ফিলিপাইন সরকার মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযান বিষয়ে সারা বিশ্ব থেকেই প্রতিবাদ আসছে। তার পরেও থেমে নেই এ অভিযান। এমনকি দেশটির প্রেসিডেন্টও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো ক্ষমতায় বসার দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
ফিলিপাইনে চলমান মাদকবিরোধী যুদ্ধে আরো বহু লোক মরবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এ যুদ্ধের নেতা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। সেই সঙ্গে এ যুদ্ধে তাঁর অন্যতম সহযোগী ফিলিপাইনের জাতীয় পুলিশ প্রধান দে লা রোসা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁরা ধনী-দরিদ্র-প্রভাবশালী বাছবিচার করবেন না।

ময়নিহান পরিবার
মারিয়া ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযানে অরোরা ময়নিহান নামে ৪৫ বছর বয়সী যে নারী সর্বশেষ নিহত হয়েছেন তার পরিবারের রয়েছে মাদক ব্যবসা, স্ক্যান্ডাল ও ক্ষমতার ইতিহাস। ২০১৩ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে জামিনে ছিলেন।
ময়নিহানের বাবা ছিলেন তৃতীয় ব্যারন ময়নিহান। তিনি আন্তর্জাতিক হেরোইন চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তার ইতিহাস ছিল দেহ ব্যবসা ও প্রতারণার।
প্লেবয় জীবনযাপন
ময়নিহান পরিবার ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আমলে খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় প্রথম ব্যারন ময়নিহান ছিলেন একজন ব্রিটিশ সার্জন। তার বাবা একজন সেনা ক্যাপ্টেন, যিনি ভিক্টোরিয়া ক্রস উপাধি পেয়েছিলেন।
দ্বিতীয় ব্যারন ময়নিহান স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে তার বাবার মৃত্যুর সময় তিনি সমকামিতাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
পরিবারের তৃতীয় ব্যারন অ্যানটনি ময়নিহান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালে।   তিনি প্রাইভেট স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি অ্যান হারবার্ট নামে এক মডেলকে গোপনে বিয়ে করেন ১৯৫৫ সালে। এ মডেলের বিরুদ্ধে নগ্ন মডেলিংসহ নানা অভিযোগ ছিল। তাদের বিয়ে দ্রুত তিক্ততায় পর্যবসিত হয়েছিল। এক বছর পর তিনি সিডনিতে চলে যান।
সিডনিতে তিনি নাইটক্লাবে কাজ করেন বঙ্গো ড্রামার হিসেবে। প্লেবয় হিসেবে পরিচিত এ ব্যক্তি পরবর্তীতে শিরিন বেলি নামে মালয়েশিয়ান একজন বেলি ড্যান্সারের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাকে বিয়ে করেন। এ সময়েই তিনি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়েন। ১৯৭০ সালের মধ্যে তিনি ডজনখানেক মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
মারিয়া আরোরা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭১ সালে। অ্যানটনি ময়নিহান ও শিরিন বেলি দম্পতির প্রথম সন্তান অ্যানটোনিতা, যিনি মারিয়া আরোরার বড়বোন। বর্তমানে তিনি ফিলিপাইনের বিখ্যাত অভিনেত্রী। তার পরে ১৯৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন তাদের তৃতীয় কন্যা ক্যাথলিন।
তাদের পিতা-মাতা ১৯৮০ সালে আলাদা হয়ে যান। সে বছরেই অ্যানটনি ময়নিহানকে ‘রহস্যজনক চরিত্র’ হিসেবে সন্দেহের তালিকায় রাখে অস্ট্রেলিয়া। কারণ তারা অস্ট্রেলিয়ায় ড্রাগ আমদানি করছেন বলে ধারণা করা হয়।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান একজন বিচারককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মি. জাস্টিস উডওয়ার্ড সে সময় বলেন, ‘তারা কোনো উপায়ে ম্যানিলা থেকে হেরোইন আমদানি করছে। ’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফার্দিন্যান্ড মার্কোসের সঙ্গেও সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। আর এ সুযোগে নিষিদ্ধ ব্যবসাও চালিয়ে যান তিনি পুরোদমে।
এভাবে নিষিদ্ধ ড্রাগের ব্যবসার পাশাপাশি প্লেবয় জীবনও চালিয়ে যান তিনি। এক পর্যায়ে চতুর্থ এবং পঞ্চম বিয়েও করেন তিনি। তার মৃত্যু হয় ১৯৯১ সালে। মৃত্যুর কয়েক মাস পর তার ছেলে ড্যানিয়েলের জন্ম হয়।


মন্তব্য