kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাতৃত্ব লাভের পর মায়েদের অনুশোচনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০১



মাতৃত্ব লাভের পর মায়েদের অনুশোচনা

সন্তান জন্মদানের যন্ত্রণা একমাত্র মাই বোঝেন। এর মাধ্যমেই নারী বদলে যান রাতারাতি।

মাতৃত্ব বিষয়টা বর্ণনা করা এখনো অনেক কঠিন বিষয়। তবে প্রত্যেক নারী মাতৃত্ব লাভের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা পান বলেই মনে করেন সবাই। কিন্তু ইসরায়েরের বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী অর্না ডোনাথ এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন একটি বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। তিনি ২৩ জন মায়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে জানান, কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে প্রত্যেক মা তার মাতৃত্ব লাভের জন্য অনুশোচনায় ভোগেন।

অনুতাপের অনুভূতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাদের সংগ্রাম করতে হয়। ইন্টারনেটে অজ্ঞাতনামে তারা এ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তারা জীবনযাপন এবং অর্থ বিষয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনুশোচনায় ভোগা মায়েদের অসংখ্য অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফেসবুকে, জানান ডোনাথ।

৭ বছর এবং ৪ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী লিখেছেন, মা হওয়াটা তার জীবনের বড় অনুতাপের বিষয়। আমি তাদের ভালোবাসি, কিন্তু সুখী নই। তারা আমার সব স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। আমি একটা চাকরি করতে পারি না। স্বামীকে নিয়ে ছুটির দিন ঘুরতে যেতে পারি না। আমি ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস ছিলাম। সন্তান হওয়ার আগে পাখির মতো স্বাধীন ছিলাম। এখন আমার কখনো শেষ না হওয়া বাড়ির কাজ সামলাতে হয়।

আরেকজন লিখেছে যে, তিনি তার ৩ বছর বয়সী কন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে যে কিনা কখনোই ঘুমায় না। বর্ণনা করেছেন তিনি মানসিক চাপ থেকে একবার বমি করে দিয়েছেন। তার মেয়েটি ওই রাতে মাত্র ২ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিল। বলেন, আমাদের কোনো জীবন নেই। আমার স্বামী যথেষ্ট সহায়তা করেন। কিন্তু তার অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। আমাদের এখন কোনো পরিবার বা বন্ধু নেই। সহায়তা করার কেউ নেই। আমি এখন কি করবো?

মামসনেট-এ এক মা জানাচ্ছেন, পুরনো জীবনটাকে দারুণ ভালোবাসি। আমার স্বামী একটা সন্তান চাচ্ছিল। কিন্তু আমি অনেক দেরি করিয়েছি। আমার মন চাইছিল না। পরে অনেক কিছু ভেবে এ কাজ করেছি। এখন মনে হয়, চমৎকার এক জীবন শেষ হয়ে গেছে। প্রায়ই ভাবি স্বামী-সন্তানকে রেখে স্রেফ চলে যাবো।

আরো অনেকেই এমন মন্তব্য করে জানিয়েছেন, আমাদের কথায় ঘৃণা করবেন না। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।

আরো অনেক মা লিখেছেন তাদের এই অনুশোচনা কিভাবে সন্তানের বাবার ওপরও ছেয়ে গেছে। সোশাল মিডিয়া 'কুয়োরা'তে এক মা বলছেন, স্বামী খুব বেশি সন্তান চাচ্ছিল সব সহযোগিতা করবে বলে। কিন্তু সে মিথ্যাবাদী, নির্যাতক এবং নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। মাতৃত্ব পেয়ে অনুশোচনায় ভোগা নিয়ে নিজেকে দোষী মনে হয়। কিন্তু আমি ব্যাখ্যা করতে পারবো না এটাই আমি অনুভব করছি।

ওয়াক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন সিমোন জানান, এ ধরনের আবেগ মাতৃত্বের সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মনে হয়।

সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলর আরাবেলা রাসেল জানান, এটাই স্বাভাবিক যে সবাই মাতৃত্ব লাভকে দারুণ এক বিষয় বলে গণ্য করেন। কিন্তু মায়েদের এমন অনুভূতি ওই ধারণাকে নাড়া দিয়ে দেয়। কিন্তু মাতৃত্বের যন্ত্রণায় মায়েরা অনুতাপ, মানসিক চাপ, একঘেয়েমি এবং হতাশায় ভুগতে পারেন।

রাসেল জানান, যদি মা হয়ে আপনি অনুশোচনায় ভোগেন তো তা লুকিয়ে রাখবেন না। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এ বিষয়ে এগিয়ে আসা উচিত। মা কেমন বোধ করছেন সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

যে সকল মায়ের এ নিয়ে অনুতাপে ভোগেন তাদের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। তারা যেন এ নিয়ে নিজেকে দোষী না মনে করেন। তাদের এই অনুভূতি মনের অনেক জটিল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। কাজেই একে হেয়প্রতিপন্ন করলে চলবে না। মায়ের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় করুন। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য