kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে সময়ের আগেই মারা গেছে ১ লাখ মানুষ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২৮



'দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে সময়ের আগেই মারা গেছে ১ লাখ মানুষ'

গত বছর ইন্দোনেশিয়ায় ঘটে যাওয়া দাবানলের প্রভাব এখনো কাটেনি। সেই দাবানলের ঘন ধোঁয়া গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যেনো মায়াবি কুয়াশায় ঢেকে ফেলেছিল।

এ অবস্থা টানা কয়েক সপ্তাহ বিরাজ করে। এর প্রভাবে ১ লাখ মানুষের অপরিণত মৃত্যু ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই মানুষগুলো সময়ের আগেই মৃত্যুবরণ করেন। সেই দাবানলের ক্ষতিকর প্রভাব সামলাতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেই এই রিপোর্ট প্রকাশ হলো।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হতে চলেছে এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে। দাবানলের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মানুষের যে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত হুমকি দেখা দিয়েছে তা সামাল দেওয়া জরুরি। এর প্রভাবে মৃত্যুর বিষয়টি ইন্দোনেশিয়ার মৃত্যুর হার ও গড় আয়ুর বিষয়টি বিবেচনা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কাগজ শিল্পে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে এমন ঘটনা ঘটে। ওই বছরটিও ধোঁয়ার কুয়াশার জন্য বেশ খারাপ সময় ছিল। আসলে কাগজ শিল্পের জন্য পাল্পউড দাবানলের সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। এ পরিবেশ ধ্বংসে কাঠ ও কৃষি ব্যবসায়ীদের অবৈধ   ব্যবসার কথা বলা হয়। দশকের পর দশক ইন্দোনেশিয়ার বন ভূমি নষ্ট হচ্ছে কাঠ ও কৃষি ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালির কারণে। খাল-বিল বেদখল করে ফেলেছেন প্রভাবশালীরা। কাগজ ও পাম অয়েল প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় একইরকম। পাশাপাশি প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় কৃষি বনের আগাছা পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে পাম অয়েল ও কাগজ তৈরির গাছ লাগানোর জন্য বন পরিষ্কার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া এবং প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এর প্রভাব পড়ে। শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিয়ে সময়ের আগেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৯টি, যা অফিসিয়ালি জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়ার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানায়, দেশটির ৪৩ মিলিয়ন মানুষ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছেন। এ গবেষণায় মানুষের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি যে হুমকির মুখে তা উঠে এসেছে। এর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে অন্য দুটো দেশের মানুষের স্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরে দক্ষিণ সুমাত্রা এবং বর্নিওর ইন্দোনেশিয়ার অংশের অবস্থা সেই ১৯৯৭ সাল থেকেই শোচনীয়। সে সময় এল নিনোর শুষ্ক প্রভাব এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞানী রাজাশেখর বালা জানান, দাবানলের প্রভাব বিশ্লেষণের কাজটি খুবই জটিল। তিনটি দেশে এর বিরূপ প্রভাবের উৎস বের করে তথ্য বিশ্লেষণ সহজ কথা নয়। ভবিষ্যতে বনাঞ্চলে আগুন এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সামলাতে দেশটির বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট বায়ু দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটির ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ফ্রাঙ্ক মুরে জানান, এ গবেষণার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে স্বাস্থ্যগত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ২৬ হাজার ৩০০ থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় ৯১ হাজার ৬০০, মালয়েশিয়ায় ৬ হাজার ৫০০ এবং সিঙ্গাপুরে ২ হাজার ২০০ মৃত্যুর ঘটনা এর প্রভাবে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা যে মডেল দাঁড় করিয়েছেন সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে ধোঁয়ার প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সিম্ভব। এর মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পদ্ধতিগত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব যাতে করে ধোঁয়া খুব বেশি ক্ষতিকর না হয়ে ওঠে।

হার্ভার্ডের এপিডেমিওলজিস্ট জোয়েল শোয়ার্টজ বলেন, ইন্দোনেশিয়ার বাড়িগুলোর মধ্যে ধোঁয়া নানা ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে প্রবেশ করে। এখানকার বাড়িগুলো যথেষ্ট খোলামেলা। বায়ু প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সিঙ্গাপুরে মানুষরা যদি দরজা-জানালা বন্ধ করে এয়ারকন্ডিশন চালু করে করে দেন, তবুও কিছুটা নিরাপত্তা মেলে।

ইন্দোনেশিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েস্ট কালিমান্তান অংশ জানায়, আমরা জনস্বাস্থ্যের এই হুমকিতে শঙ্কায় আছি। এখানকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর ডিন হাওয়ার্ড ফ্রাম্পকিন জানান, এ গবেষণায় স্বাস্থ্য বিষয়ে যে মারাত্মক তথ্য উঠে এসেছে, সত্যিকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এমন সমস্যা উন্নয়নশীল দেশের প্রজন্মকে সামর্থ্যের দিক থেকে পিছিয়ে ফেলতে পারে। সূত্র : ব্লুমবার্গ

 


মন্তব্য