kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রোগী দেখতে চিকিৎসকের ১৫ মিনিট, কতটা উপযোগী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:০৯



রোগী দেখতে চিকিৎসকের ১৫ মিনিট, কতটা উপযোগী?

কে বলেছে যে একজন রোগীকে দেখার জন্য চিকিৎসকের ১৫ মিনিট সময়ই যথেষ্ট। ওয়েস্টার্ন কলোরাডো রেডিও স্টেশনের কুল ১০৭.০৯ এফএম-এ বলা হয়, একজন মানুষ গড়ে টয়লেটে এমন সময় ব্যয় করে।

এটা নিশ্চয়ই ময়লা ফেলে আসার মতো কোনো কাজ নয়। রোগী দেখতে চিকিৎসকদের এই ধরাবাঁধা সময় নিয়ে তাই রয়েছে অনেক শংসয়।

অ্যানালস অব ইন্টরনাল মেডিসিন-এ বলা হয়, একজন রোগীকে দেখা ও পরীক্ষার জন্য ১৫ মিনিট সময়ও ব্যয় করেন না চিকিৎসকরা। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবমতে, কথা বলার মাঝে ৫২.৯ শতাংশ সময় ব্যয় হয় সরাসরি রোগীর সঙ্গে কথা বলে। আর ৩৭ শতাংশ সময় ব্যয় হয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে। অনেক চিকিৎসক আবার ৮ মিনিট সময় বরাদ্দ দেন।

আট মিনিটে কি হয়? : চিকিৎসকের চেম্বারের দরজা খুলে তার সামনে চেয়ারে বসা থেকে শুরু করে আট মিনিটে দেখুন কি কাজ হয়। সেখানে চিকিৎসকের সঙ্গে হাই-হ্যালো চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে সময় আরো কমে আসবে। অবশ্য এ ধরনের কথা কম বলা হলেও ১ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়।

সময় যখন সাত মিনিট : এ ক্ষেত্রে রোগীদের এমন কাজে বা কথায় সময় নষ্ট করা যাবে না। দেহের কোনো অংশ দেখাতে হলে তা যেন দ্রুত উন্মুক্ত করা যায় সে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসকদেরও সময়কে কাজে লাগাতে সচেতন থাকতে হবে। রোগী কি সমস্যা নিয়ে এসেছে তা জানতে হবে। নাম, বয়স ইত্যাদি বলার ক্ষেত্রে দেরি করবেন না। সাত মিনিটের মধ্যে ২ মিনিট ব্যয় করে রোগ সম্পর্কে বলা যায়। সব শুনে বিষয়টি বুঝবেন একই সময়ের মধ্যে। এটা অনেকটা কোনো টেলিভিশন কমার্শিয়ালের মতো। দুই বা আড়াই মিনিটের বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠান সব তথ্য দিয়ে দেয়। চিকিৎসককে যখন রোগের বিষয় নিয়ে বলছেন, তখন সচেতনভাবে কথা বলুন। এ সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না।

আর থাকে ৫ মিনিট : এখন রোগীকে পরীক্ষা করে দেখতে চিকিৎসকের হাত ধুতে হবে বা গ্লাভস পরতে হবে। সঠিকভাবে হাত ধুতে ৩০ সেকেন্ড ব্যয় হবে। মুছতে সময় লাগবে আরো ৩০ সেকেন্ড। এখান ব্যয় হচ্ছে আরো ১ মিনিট।

আছে আর ৪ মিনিট : এবার চিকিৎসক আপনাকে পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে নিয়ে তিনি রোগীর কাছে আসবেন। হয়তো আলাদা এক্সামিনেশন রুম রয়েছে। সেখানে যেতে হবে। এ কাজের মধ্যে রোগীকে এমন কিছু করা যাবে না যে বাড়তি সময় নষ্ট হয়। তবে গোপন স্থানে পরীক্ষা বিষয়ে কিছু সময় তো নষ্ট হবেই। তবে যাই হোক, গড়ে এ কাজে ৩ মিনিট সময় ঠিকই ব্যয় হয়।

বাকি আর ১ মিনিট : যদি তিন মিনিটে পরীক্ষা শেষ হয়, তবে শেষ মিনিটে চিকিৎসক বলবেন রোগীকে কি করতে হবে। যদি দেখা যায় কোনো সমস্যা নেই, তবে তো বেঁচে গেলেন রোগী। আর যদি সমস্যা থেকেই থাকে তাহলে হয়তো আপাতত চিকিৎসা বা কিছু টেস্ট দিয়ে আবারো দেখা করতে বলবেন। এখানেই চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর দেখা হওয়ার বিষয়টি শেষ হলো।    

এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, রোগীকে বাড়তি অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা যাবে না। আবার কথা বলাও উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। অপ্রয়োজনীয় হলে সে বিষয়ে কিছু একটা জবাব দেবেন যা সময়ের অবচয় ঘটাবে। সমস্যা কি এবং আর কি কি হয়, এসব প্রশ্নের উত্তরই মূল বিষয় বের করে আনবে।

এখানেই বিদায় : সব শেষে রোগী বিদায় নেবেন। এই ১৫ মিনিট সময়ের মধ্যে চিকিৎসক রোগীকে দেখে এবং তার রোগ সম্পর্কে জেনে করণীয় সম্পর্কে বলে দিয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমে অনেক সময়ও নিয়ে থাকেন চিকিৎসক। আবার অনেকে বিশেষ অ্যাপয়েনমেন্টের ব্যবস্থা করেন। সেখানে আরো বেশি বা আরো কম সময় লাগতে পারে। তবে আসল বিষয় হলো, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার এই সময়টা মোটেও যথেষ্ট নয়।

ফিজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন এবং কমনওয়েলথ ফান্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,  এই ১৫ মিনিটের কাজে চিকিৎসকরা অস্থির হয়ে পড়েন। জন হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিন এক গবেষণায় জানায়, মাত্র ১৫ মিনিটের বিষয়টি মাথায় তাগাদার সৃষ্টি করে। আর তাতেই এক ধরনের অস্থিরতায় ভোগেন চিকিৎসকরা। এতে উভয়পক্ষের তৃপ্তি আসে না পরিপূর্ণভাবে।

তাই রোগী দেখার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সঠিক সময় কত হতে পারে সে বিষয়ে আরো গবেষণা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে রোগীর পেরেশানি কমাতে সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানীক নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। অন্তত টয়লেটে গড়ে যে সময় ব্যয় করা হয়, তার চেয়ে বেশি সময় চিকিৎসকের রোগী দেখার কাজে দেওয়া উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : ফোর্বস

 


মন্তব্য