kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৯ ঝুঁকিতে অপরিণত শিশুর জন্ম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৫৯



৯ ঝুঁকিতে অপরিণত শিশুর জন্ম

আমেরিকার এক জরিপে বলা হয়, সেখানে প্রতি ১০টি শিশুর একটি অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। এদের জন্ম হয় ২০-৩৭ সপ্তাহের মধ্যে।

অথচ গর্ভাবস্থার পূর্ণতা ৪০ সপ্তাহে ধরা হয়। এই শিশুরা কেবল আকার বা ওজনেই কম হয় তাই নয়, এদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগ সংক্রমনের হারও তাদের মাঝে বেশি থাকে। হঠাৎ মৃত্যুর হারও এসব শিশুদের বেশি। অপরিণত শিশুর জন্মের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে অনেক মানুষই সচেতন নন। প্লস ওয়ান জার্নালে এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এর বায়োলজিক্যাল ঝুঁকির কথা। এগুলো জেনে নিন।

১. ব্যক্তিগত মেডিক্যাল ইতিহাস : একটা অপরিণত শিশুর জন্মে পরবর্তিতেও একই ধরনের শিশু জন্মের ঝুঁকি দেখা দেয়। গবেষণায় বলা হয়, যারা আগে অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে, তাদের আবারো একই ঘটনা ঘটার সম্বাবনা থাকে।

২. জন্মের মাঝের সময় : দুটো গর্ভাবস্থা কাছাকাছি থাকলে অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি থাকে। একটি শিশু জন্মের পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে গর্ভধারণ করলে পরের শিশুটিও অপরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে ৩৯ সপ্তাহের আগেই শিশুর জন্ম হয়, এ তথ্য দেয় ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনকোলজি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটো গর্ভাবস্থার মাঝে অন্তত ১৮ মাসের ব্যবধান থাকা উচিত। একবার গর্ভধারণের পর দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ১৮ মাস সময়ের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, তত বেশি স্বাস্থ্যবান শিশু জন্মের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।

৩. আইভিএফ : গর্ভধারণে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর হার অনেক বেড়েছে। সোসাইটি ফরা অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনলজি ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪টি আইভিএফ সাইকেল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ৬৫ হাজার ১৭৫টি শিশুর জন্মদান সম্ভব হয়েছে। এটা কেন হয় তা পরিষ্কার নয়। তবে আইভিএফ অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

৪. যমজ বা তারো বেশি : যে নারী যজম বা তারও বেশি সংখ্যক শিশুর জন্ম দেন, তাদের অপরিণত শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেশি।

৫. শর্টেন্ড সার্ভিক্স : যে নারীর লুপ ইলেকট্রোসার্জিক্যাল এক্সিসন প্রসিড্যুর (এলইইপি) এর পর শর্টেন্ড সার্ভিক্স দেখা দেয় তাদের অপরিণত শিশু জন্মের সম্ভাবনা থাকে।

৬. বিষণ্নতা : যে গর্ভবতী নারীরা নতুনভাবে বা পুরনো বিষণ্নতায় আক্রান্ত, তাদের ৩০-৪০ শতাংশের ৩২-৩৬  সপ্তাহের মধ্যে শিশুর জন্মদানের সম্ভাবনা থাকে। এ হিসাব দেয় ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনকোলজি।

৭. কম ওজন : গর্ভাবস্থায় অধিকাংশ নারীর ওজন বেড়ে যায়। তবে ২১ শতাংশ গর্ভবর্তী নারীর ওজন প্রয়োজনের চেয়ে কম থাকে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনকোলজি'তে এ তথ্য দেওয়া হয়। এসব নারীর অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি থাকে।

৮. সংক্রমণ : ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সংক্রমণে ঝুঁকি বাড়ে। মাইকোপ্লাজমা এবং ইউরিয়াপ্লাজমার মতো বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে এমন ঘটে। আর এমন সংক্রমণে অপরিণত জন্মের আশঙ্কা বাড়তেই থাকে।

৯. বায়ু দূষণ : এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টারের এক গবেষণায় বলা হয়, বায়ু দূষণের কারণে আমেরিকায় ১৬ হাজার অপরিণত শিশু জন্মের ঘটনা ঘটেছে। শহরে যেসব অংশে বায়ু দূষণের হার বেশি সেখানে এমন ঘটনাও বেশি। সূত্র : ফক্স নিউজ

 


মন্তব্য