kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিশু যখন গর্ভে, জেনে নিন ১৮টি বিস্ময়কর তথ্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৩৮



শিশু যখন গর্ভে, জেনে নিন ১৮টি বিস্ময়কর তথ্য

বাবা হওয়ার উত্তেজনায় অস্থির হয়ে থাকলেন ডেভিড মোশের। স্ত্রীর গর্ভে যে সন্তান বেড়ে উঠছে তাকে নিয়ে কত কিছুই না জানতে মন চায়।

ইন্টারনেট ঘাঁটলেই এ নিয়ে তথ্যের পাহাড়ের দেখা মেলে। তবে এত তথ্যের মধ্যে কয়েকটি দারুণ অবাক করে দিয়েছে মোশেরকে। গর্ভাবস্থা নিয়ে জানুন এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য।

১. ১০০ মিলিয়ন শুক্রাণুর মধ্যে একটিমাত্র শুক্রাণু গর্ভবতী করে। একজন পুরুষ প্রতিবার বীর্যপাতের মাধ্যমে ১০০ মিলিয়ন শুক্রাণু নির্গত করে। কিন্তু এদের মধ্যে সামান্যই উর্বর হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাত্র কয়েক শ শুক্রাণু পৌঁছে ডিম্বাণু পর্যন্ত। সেখান থেকে একটিমাত্র প্রবেশাধিকার পায়।

২. গর্ভধারণের সময় থেকে সন্তানের বয়স ১৫ দিন কম নয়। নারীর পিরিয়ড বন্ধের শেষ দিনটিকে গর্ভধারণের প্রথম দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয় ১৮৩৬ সাল থেকে। যে দিনটাতে শুক্রাণু ডিম্বাণুকে উর্বর করে সেদিনটাকে ধরা হয় না। পিরিয়ড বন্ধের ২ সপ্তাহ পর ডিম্বোস্ফোটন ঘটে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উর্বরতা লাভ করে ডিম্বাণু। এর অর্থ হলো, নারী আসলে যখন থেকে গর্ভধারণ করেন তার চেয়ে শিশুর বয়স ১৫ দিন কম থাকে।

৩. অধিকাংশ নারী ৯ মাস গর্ভাবস্থায় থাকেন না। গর্ভাবস্থার সময় নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এখন ৯ মাস ধরে নেওয়া হয়। আসলে মাত্র ৪ শতাংশ নারী ৪০ সপ্তাহের মাথায় সন্তান জন্ম দেন। বাকিদের ধরে নেওয়া সময় থেকে অন্য সময়ে ডেলিভারি হয়।

৪. জীবনলাভের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণটি গর্ভে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। ভ্রূণটা সঠিক স্থানে অবস্থান নেওয়ার আগে তা ঘুরতে থাকে।

৫. ক্রমশ বিকাশমান শিশুর হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করা শুরু করেন ৬ সপ্তাহের মাথায়। আট সপ্তাহের মাথায় হৃৎপিণ্ড মিনিটে ১৬০টি স্পন্দন দিতে থাকে। আলট্রাসাউন্ড যন্ত্রের মাধ্যমে তার স্পন্দন শোনা যায়।

৬. গর্ভের ভেতরে ও বাইরে থেকে আওয়াজ পায় শিশু। ১৬ সপ্তাহের মাথায় তার শ্রবণেন্দ্রিয় গঠন হতে থাকে। সে মায়ের হৃৎস্পন্দন, খাবার, নিঃশ্বাস, হাঁটা, কথা বলা ইত্যাদি আওয়াজ পায়।

৭. উচ্চা আওয়াজ ভ্রূণের শ্রবণেন্দ্রিয়ের ক্ষতি করতে পারে। করাত, গুলি, জেট ইঞ্জিন, উচ্চশব্দের গান ইত্যাদি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

৮. গর্ভের মাঝেই শিশু তার চোখ খোলে এবং বাইরে থেকে আসা আলো দেখাতে পায়। ১৬ সপ্তাহের মাথায় এমন ঘটনা ঘটতে থাকে। তবে চোখের পূর্ণাঙ্গ গঠন ২০ সপ্তাহের দিকে হয়ে যায়। ২৬-২৮ সপ্তাহের মাথায় তারা চোখ খোলে।

৯. গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস, বমি ভাব বা অবসাদ হয়ে থাকে। তবে গর্ভের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে নারীকে রক্ষা করতেই এগুলো হয়ে থাকে। মূলত বাইরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে শিশুকে রক্ষা করতেই মায়ের দেহ তা প্রাকৃতিকভাবেই গ্রহণ করে না। তাই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

১০. প্রায় ২৫ সপ্তাহ ধরে গর্ভে শিশুরা নিজের মূত্র নিজেরাই পান করে থাকে। আট সপ্তাহের মাথায় তারা মূত্র ত্যাগ শুরু করে। ১৩-১৬ সপ্তাহের মাথায় মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই মূত্র ও অ্যামনিয়োটিক তরলের মিশ্রণ পান করে তারা।

১১. মা যে খাবার খাচ্ছেন তার স্বাদ ও গন্ধ পায় গর্ভের শিশু। মায়ের খাবারের মলিকিউল রক্তের মাধ্যমে নাড়ি হয়ে অ্যামনিয়োটিক তরলে মিশে যায়। আর তাই খায় শিশুরা। ১১ সপ্তাহের মাথায় শিশুর স্বাদ গ্রহণের গ্রন্থি বিকশিত হয়।

১২. মায়ের খাদ্যাভ্যাস শিশুর পরবর্তী জীবনের পছন্দের খাবার নির্ধারণ করে। মা যে খাবার খান তার মলিকিউলগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে শিশু। মা যে খাবারগুলো এড়িয়ে যান, পরবর্তীতে শিশুরাও ওগুলো খেতে চায় না।

১৩. শিশুদের প্রথম মল তৈলি হয় ত্বক, চুল, পিত্ত, প্রোটিন, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অ্যানিয়োটিক তরলে মিশ্রিত অন্যান্য উপাদান দিয়ে। গোটা ২০-২৫ সপ্তাহ ধরে শিশু এগুলো পান করে। তবে ভূমিষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত মলত্যাগ বন্ধ রাখে তারা।

১৪. কোষের একটা স্তর মায়ের থেকে আলাদা করে রাখে শিশুকে। মায়ের জরায়ুর দেয়াল আর শিশুর নাভির মধ্যকার স্তরটি দারুণ পাতলা। এর মধ্য দিয়ে যাবতীয় পুষ্টি শিশুর দেহে প্রবেশ করে।

১৫. ভবিষ্যতে গর্ভাবস্থা মায়ের জন্য অ্যালার্জিক হতে পারে। রক্তের কারণে তা ঘটতে পারে। জেনেটিকভাবে এর উদয় ঘটে যাকে বলা হয় আরএইচ ফ্যাক্টর। যখন এই প্রোটিন রক্তের কোষের ওপরের স্তরে পাওয়া যায়, তখন আইএইচ পজিটিভ ধরা হয়।

১৬. গর্ভাবস্থায় মায়ের দেহের রক্তের পরিমাণ ৩০-৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এই বাড়তি তরলের জায়গা করে দিতে রক্তনালীর আয়তন বাড়িয়ে দেয় রিলাক্সিন সফটেন্স নামে পরিচিত এক হরমোন।

১৭. আবেগগত অবস্থা শিশুর বিকাশকে মারাত্মভাবে প্রভাবিত করে। মায়েদের এ সমস্যা থাকলে শিশুরা পোস্ট-ট্রমাটিক ডিসঅর্ডারে ভোগে। এমনকি তা শিশুর বাকি জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

১৮. গর্ভবতী মা যত বেশি সামাজিকভাবে সহায়তা পান, তার শিশু তত বেশি স্বাস্থ্যকর অবস্থায় জন্ম নেয়। সামাজিকভাবে সমর্থন পাওয়ার সঙ্গে শিশুর ওজনের বিষয়টি সরাসরি জড়িত।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য