kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গ্রামপ্রধানের ৬০ স্ত্রী; মিয়ানমারে কিচেন, বেডরুম ভারতে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২০



গ্রামপ্রধানের ৬০ স্ত্রী; মিয়ানমারে কিচেন, বেডরুম ভারতে!

আসামের মোন জেলার লোঙ্গা গ্রাম।  মিয়ানমার সীমান্তঘেঁসা এই গ্রামে জীবন কাটে দুই দেশেই।

গ্রামের অর্ধেকটা রয়েছে ভারতে, বাকি অর্ধেকটা মিয়ানমারে। মজার বিষয় হলো, গ্রামপ্রধানের ঘরের মাঝখান দিয়ে গেছে দুই দেশের সীমান্তরেখা। শোয়ার ঘর ভারতে তো রান্নাঘর মিয়ানমারে! ভারতের মাটিতে ঘুম ভাঙল তো খাওয়া-দাওয়া সারতে যেতে হবে মিয়ানমারে। এমনই আজব অবস্থা।  

স্থানীয় ভাষায় এই লোঙ্গা গ্রামে গ্রামপ্রধানকে বলা হয় 'আঙ'। ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াই মিয়ানমারের যেকোনো জায়গায় ইচ্ছেমতো ঘোরার অনুমতি রয়েছে তার। শুধু তার নয়, এই অনুমতি রয়েছে তার ৬০ জন স্ত্রীর! লোঙ্গা গ্রামের ৩০% মানুষ মিয়ানমারের বাসিন্দা। গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক সীমান্তে কোনো গোলমাল যাতে না ছড়ায় তার জন্য কড়া নজর রাখে ভারতীয় সেনা ও আসাম রাইফেলস।

১৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে দুই দেশের মানুষজনের জন্যই 'ফ্রি মুভমেন্ট জোন'। ভারতীয়রা মিয়ানমারের ভেতরে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। মিয়ানমারের মানুষজনের জন্য পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া এ দেশে সীমান্ত থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে আসার অনুমতি রয়েছে।

ফলে দুই দেশের মানুষদের মধ্যে অবাধে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। তবে মিয়ানমারের মুদ্রার দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় এখনও এই অঞ্চলে বিনিময় প্রথা চলে। অনেক সময় একই স্কুলে পড়ে দুই দেশের শিক্ষার্থীরা। অসুখ-বিসুখে একই হাসপাতাল ব্যবহার করেন দুই দেশের বাসিন্দারা। আপাত শান্তিপূর্ণ মনে হলেও মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান এই অঞ্চলের বড় সমস্যা।


মন্তব্য