kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্যারিসে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানাচ্ছে রাশিয়া, কিন্তু কেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১২



প্যারিসে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানাচ্ছে রাশিয়া, কিন্তু কেন?

রাশিয়ার পুতিন সরকার প্যারিসের প্রায় কেন্দ্রস্থলে সেন নদীর তীরে বিশাল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ান সরকার শুধু বন্দুকের শক্তিই বাড়াচ্ছে না, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবেও প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্যারিসের কেন্দ্রস্থলের মূল্যবান এ এলাকাটি পাওয়ার জন্য রাশিয়ার ক্রেমলিন সরকার বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছিল। পরবর্তীতে বহু চেষ্টার পর তা রাশিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বর্তমানে মনোরম স্থানটিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এর আশপাশেই রয়েছে সরকারি বিভিন্ন ভবন ও বিদেশি দূতাবাস। সংবেদনশীল এ এলাকাটি ১৯ শতকের স্থাপনার পাশেই অবস্থিত। সে এলাকাটি ফরাসি সরকারের সবচেয়ে কঠিণ নিরাপত্তা দেওয়া এলাকার অন্যতম।
এ স্থানটি বরাদ্দ পাওয়ার পর অবশ্য রাশিয়ান সরকার সেখানে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সেখানে নির্মিত হচ্ছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ‘ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ’
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটকের গন্তব্যস্থল প্যারিস। প্রতি বছর এখানে প্রায় তিন কোটি বিদেশি ভ্রমণে আসেন। শহরটিতে অনেক উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আইফেল টাওয়ার, নোত্র্‌ দাম গির্জা, শঁজেলিজে সড়ক, আর্ক দ্য ত্রিয়োম্‌ফ, বাজিলিক দ্যু সক্রে ক্যর, লেজাভালিদ্‌, পন্তেওঁ, গ্রঁদ আর্শ, পালে গার্নিয়ে, ল্যুভ জাদুঘর, ম্যুজে দর্সে, ম্যুজে নাসিওনাল দার মোদের্ন ইত্যাদি। আর এ তালিকায় হয়ত যোগ হবে রাশিয়ার নতুন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিও।
বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্যারিস। দুই হাজার বছরেরও বেশি ঐতিহ্যের অধিকারী এই নগরী। রাজনীতি, শিক্ষা, বিনোদন, গণমাধ্যম, ফ্যাশন, বিজ্ঞান ও শিল্পকলা সব দিক থেকে প্যারিসের গুরুত্ব রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপে কেন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে তা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্যরিসের এ  ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কী শুধুই ধর্ম ও সংস্কৃতি বিকাশের কাজ করবে নাকি আরও কোনো কাজ করবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বহু বিশ্লেষক। তারা বলছেন, রাশিয়া যদি সামরিক আগ্রাসন চালাতে চায় তাহলে শুধু সামরিক দিক দিয়েই তা করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক ও ধর্মী ক্ষেত্র তৈরির কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই চাহিদা মেটাতেই এ নতুন কেন্দ্রটি তৈরি করা হচ্ছে কিনা, তাই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য