kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারীরা নারী শরীরের প্রতিই অধিকতর আসক্ত?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৫০



নারীরা নারী শরীরের প্রতিই অধিকতর আসক্ত?

শুধু পুরুষরাই নারীদের দেখেন না; নারীরাও নারীদের দেখেন। সাজুগুজু কিংবা গয়নাগাটি নয়, নারীরা খোলামেলা নারী শরীর দেখতে ভালবাসেন।

এবং অনেক ক্ষেত্রে তারারা পুরুষদের চাইতে অনেক বেশিমাত্রায় পছন্দ করেন নগ্ন নারী শরীর। আবার এ-ও সত্যি, মেয়েদের কাছে খোলা পুরুষশরীরের তুলনায় উন্মুক্ত নারী শরীর অনেক সময়েই বেশি আকর্ষণীয় বলে বোধ হয়।

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগ সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিশদ গবেষণার পর গবেষকরা বলেছেন, খোলা পুরুষ শরীরের চাইতে খোলা স্ত্রী-শরীর নারীদের কাছে অধিক আকর্ষণীয়। সেক্ষেত্রে দর্শক নারীকে সমকামী হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মনোবিদ-দল ৫৭ জন নারী-পুরুষের উপরে এই সমীক্ষা চালান। তারাদেরকে তারারা যৌন আবেদনময় বেশকিছু ছবি দেখান। ছবিগুলি দেখানো হয় দ্রুত। এক একটি স্লাইড এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশ সময় ধরে কম্পিউটার স্ক্রিন-এ থাকে। এর মধ্যে কিছু ছবিতে ডট চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলেন সমীক্ষকরা। প্রদর্শন শেষ হলে দর্শকদের প্রশ্ন করা হয়, ডট চিহ্ন সম্বলিত ছবিগুলিকে তারারা কতটা মনে রেখেছেন। পুরুষ দর্শকরা যে ছবিগুলির কথা বলেন, সেগুলি অবধারিতভাবেই মেয়েদের ছবি। কিন্তু একই সঙ্গে নারী দর্শকরাও একই প্রশ্নের উত্তরে যে ছবিগুলির কথা বলেন, সেগুলিও প্রধানত মেয়েদেরই ছবি।

এই নিরীক্ষা থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে আসতে চাইছেন, নারীরা নারী শরীরের প্রতিই অধিকতর আসক্ত। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা জানিয়েছেন, যে সব নারী নিজেদের ‘হেটেরোসেক্সুয়াল’ বলে দাবি করেন, তারারাও নারীশরীরে খুঁজে পান ইরোটিক উপাদান। এর গভীরে নিহিত রয়েছে এক প্রাচীন সত্য। অতি প্রাচীন কাল থেকেই নারীদের উভকামী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তুলনায়, পুরুষদের মধ্যে ‘হোমোফোবিয়া’-র প্রাবল্য বেশি। নারীদের এই উভকামিতাকে যেমন খুঁজে পাওয়া যায় কোণার্ক-খাজুরাহোর ভাস্কর্যে, তেমনই আজকের পৃথিবীতেও সুখী-শুভবিবাহিতাদের অনেকেই পুরুষ সংসর্গের পাশাপাশি স্ত্রীসঙ্গও করে চলেছেন সমান তালে।

কার্ডিফের মনোবিদদের এই গবেষণায় সম্মতি দিয়েছে আমেরিকান গবেষকরাও। ইন্ডিয়ানার ইউনিভার্সিটি অফ নটরডাম-এর গবেষক এলিজাবেথ ম্যাকক্লিন্টক দেখিয়েছেন, যে কোনো পার্টিতে শুভেচ্ছা-চুম্বনে মেয়েরা যতটা স্বচ্ছন্দ, পুরুষরা ততটা নন। এ থেকেও বোঝা যায়, নারীর সমগামিতার প্রবণতা পুরুষের চাইতে ঢের বেশি।


মন্তব্য