kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা দেবে সফটওয়্যার বা স্কুল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৪



সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা দেবে সফটওয়্যার বা স্কুল!

সামান্থার বয়স এখন ৩৭। একাকী নারী।

তিনি অ্যাডভার্টাইজিং চাকরির উচ্চপদে আসীন ছিলেন। জীবনের বিশ ও তিরিশের কোঠায় এই চাকরিই ছিল সবকিছু। এখন চিন্তা করছেন একটা সন্তান পালন করবেন কিনা।

বহু বছর ধরে কোনো সম্পর্কে জড়িত নন তিনি। মাঝে সময় চলে গেছে কাজের চাপে। তাই সন্তান নেওয়ার আগে তো সম্পর্কে জড়াতে হবে।

এর পরই আসলেন ২৬ বছর বয়সী জেমস। একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কিন্তু অফিস রাজনীতির কারণে অবস্থান ধরে রাখতে পারছেন না।

এক বছর পর দুজনের অবস্থা আগের মতোই থেকে গেছে। জেমস এখনো চিন্তা করেন চাকরিটা ছেড়ে দেবেন কিনা। আর সামান্থা এখনো ঠিক করতে পারেননি সন্তান নেবেন কিনা।

সামান্থা এবং জেমসের মতো অসংখ্য মানুষ এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। আমাদের অনেকেরই জানান নেই, কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের স্কুল-কলেজে কোনো শিক্ষা দেওয়া হয়নি। অথচ এ কাজটি এক ধরনের দক্ষতা। সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই চাকরি নিয়ে অতৃপ্তি এবং সম্পর্কে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ে। তাই সিদ্ধান্তগ্রহণ শিখতে হবে।

আধুনিক যুগে সম্পর্কের বিষয়ে আগের আমলের চেয়ে অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় আমাদের। আগের সময়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষ বিয়ে করতো। কিন্তু এখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একমাত্র চিন্তা থাকে বিয়ে।

আবার পেশার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আগে বাবা বা পূর্বপুরুষরা যে পেশায় নিয়োজিত ছিলেন সে পেশাতেই ক্যারিয়ার এগিয়ে নেন। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। কাজেই নতুন প্রজন্ম নতুন কিছু করার চিন্তা করে।

কাজেই নতুন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবার শিশুরা আগের চেয়ে অনেক কম সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপায় খুঁজে পায়। তারা খেলাধুলার জন্য বাইরে যেতে পারে না। আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে বাবা-মা সন্তানদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ করে দিতে পারেন না।

এই চর্চার মাধ্যমে মূলত শিশুদের আয়োজিত ও সীমাদ্ধ অবসরের কাজের মধ্যে বেঁধে ফেলে। শেষ অবধি তা মানুষকে কর্তৃত্বের প্রতি অনুগত হতে শেখায়। সীমাবদ্ধ পরিবেশের সঙ্গে ক্রিয়াশীল হতে শেখায় মানুষকে। এসব কথা সমাজবিজ্ঞানী অ্যানিটা লারিউ লিখেছেন তার 'আনইকুয়াল চাইল্ডহুড' বইয়ে।

প্রযুক্তিবিদরাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বোঝেন। তাই তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার বানানোর চেষ্টা করছেন। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে গবেষণা করে এমন এক প্রতিষ্ঠানের নাম 'ওয়াটসন'। এরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছেন। এ কাজটি মস্তিষ্কের কগনিটিভ সিস্টেমে কাজ করে বলে জানান ওয়াটসনের সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট জকু পোটানেন।

কম্পিউটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়। কিন্তু জীবনের নানা জটিলতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। এ কাজ কম্পিউটার করতে পারে না। কিন্তু তাই করার চেষ্টা করছে ওয়াটসন। যেমন- ওয়াটসনকে যদি বলা হয় সেরা বাসা খুঁজে দিতে। সে ক্ষেত্রে সফটওয়্যারকে বুঝতে হবে সেরা বলতে কি বুঝি আমরা।

ডিসিশন এডুকেশন ফাউন্ডেশন মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা অর্জনের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। তারা বিভিন্ন স্কুলে এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদানকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। বড়দের জন্য অবশ্য লন্ডনের 'দ্য স্কুল অব লাইফ (টিএসওএল) সে কাজটিই করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সঠিক ও উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা দেয় মানুষকে।

সম্প্রতি সামান্থা  টিএসওএল-এ যোগ দিয়েছেন। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষ নিতে চান। তিনি তার ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দিয়েছেন। সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন বুঝতে পেরেছেন একটা সন্তানের জন্য তিনি আসল প্রস্তুত নন। এখন পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য আনতে কাজ করছেন। তিনি শিখেছেন, কোন বিষয়ে এক পা এগিয়ে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য