kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্থানীয়দের মাঝে থেকে থাইল্যান্ডকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৩



স্থানীয়দের মাঝে থেকে থাইল্যান্ডকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ

তাদের রয়েছে ইতিহাস, মন্দির, প্যাগোডা, ঐতিহ্যবাদী নৃত্যকলা, ভাসমান রেস্টুরেন্ট, সামুদ্রিক খাবার, টাপিওকা ডিজার্ট ইত্যাদি। তারপরও তারা বিশালাকায় হাতির পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতে চান।

স্থানীয় থাই নারীরা এভাবেই পর্যটকদের কাছে নিজেদের বর্ণনা দেন।

পর্যটকদের এক গাইড রাতাউত ল্যাপচারোয়েনসাপ। এই নারী পর্যটকদের নিয়ে অভিযোগ করেন যে, তারা কেবল হাতির পিঠে চড়া ও সৈকতে সূর্যস্নান ছাড়া আর কিছু দেখেন না। অথচ তাদের কতকিছু রয়েছে।

ডিজিটাল নোমাড হিসাবে থাইল্যান্ড ভ্রমণে যান রবার্ট রেইড। তবে সবাই যেসব স্থানে বেড়াতে যান তার থেকে ভিন্ন কিছু দেখার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের পরিচালিত লজে তিনি সময় কাটান। এতে তাদের সমাজটাকে অনেকটা কাছ থেকে দেখা গেছে। কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন রবার্ট।

ভ্রমণটা মোটেও সহজ ছিল না। থাইল্যান্ডে তিনি গিয়েছেন কোনো লক্ষ্য না নিয়ে। তবুও অভিজ্ঞতাগুলো ছিল দারুণ। তাদের গ্রামের জীবন দেখেছেন, স্থানীয়দের হস্তশিল্প দেখেছেন এবং তাদের খাবারও খেয়েছেন।

থাইল্যান্ডে কমিউনিটি ভিত্তিক ট্যুরিজম বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ট্যুরিজম অথোরিটি অব থাইল্যান্ড ৭টি অঞ্চলকে এ কাজের জন্য সবুজ সংকেত প্রদান করেছেন। সেখানকার স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আর এখানে থাকা ও ঘুরেফিরে দেখার জন্য বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সিও রয়েছে।  

স্থানীয় উদ্যোক্তদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এই ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতা করে থাই সরকার। তারা ওয়ান টাম্বোন ওয়ান প্রোডাক্ট ক্যাম্পেইনের (ওটিওপি) মাধ্যমে এ কাজটিকে এগিয়ে নেয়। ১৯৯৭ সালের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে থাই বাথের মূল্যমান কমে এলে সরকার ওটিওপি চালু করে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটিকে উচ্চমানের পণ্য তৈরিতে উৎসাহ জোগানো হয়। কাজেই পর্যটনের সঙ্গে হস্তশিল্পকেও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বান না টন চ্যান এমন এক গ্রাম যেখানে স্থানীয়রা ঐতিহ্যবাহী কাপড় তৈরি করে। গোটা প্রক্রিয়া নিজেরাই সম্পন্ন করেন তারা। এরা পণ্যগুলো ব্যাংককের বাজারে পাঠিয়ে দেন। তা ছাড়া এখানে স্থানীয়রা পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাও করেছেন। এর মানে কারো বাড়ির ভেতরের কোনো কক্ষে থাকার ব্যবস্থা নয়। কারো বাড়ির পাশের জমিতে এক বাঙলো করে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বাথরুম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে।

থাইল্যান্ডের পূর্বে কম্বোডিয়ান সীমান্তের একটি বাড়িতে ছিলেন রবার্ট রেইড। এই বাড়িটি আনারস ও রাবার ফার্মের পাশে বানানো হয়েছে। কাঠের মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার আনন্দই আলাদা। সাধারণ একটি পাখাতেই পরিবেশটা শীতল থাকে।

স্থানীয়দের মাঝে এই থাকা অভিজ্ঞতার ঝুলিকে পরিপূর্ণ করে। একেক জায়গায় সেখানকার বিশেষ কিছু শিখে নিতে পারবেন। বরার্ট বহু বছর ধরে থাইল্যান্ড ভ্রমণ করছেন। কিন্তু এবার যেভাবে এর সঙ্গে মিশে গেছেন, তা আগে কখনো হয়নি। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য