kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হৃদরোগে চিনির দায় এড়াতে গবেষণায় অর্থায়ন করেন ব্যবসায়ীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৮



হৃদরোগে চিনির দায় এড়াতে গবেষণায় অর্থায়ন করেন ব্যবসায়ীরা

চিনি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ নিয়ে অসংখ্য গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

কিন্তু এবার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চিনিশিল্প এমন এক গবেষণার পেছনে স্পন্সর করছে যেখানে হৃদরোগের জন্য চিনিকে নয়, বরং ফ্যাটকে ক্ষতিকর বলে প্রমাণ করা হবে। ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর এক গবেষণায় এ বিষয়টি উঠে এসেছে। চিনিশিল্পের মহারথীদের আন্তর্জাতিক নথিপত্রের হিস্টোরিক্যাল রিভিউ নিয়ে গবেষণার এক অংশে এমন তথ্য বেরিয়ে পড়ে। তাদের এ গবেষণাপত্রটি জামা ইন্টারনাল মেডিসিন এ প্রকাশিত হয়েছে।

হৃদরোগের পেছনে যে চিনির ভূমিকা রয়েছে তা বেরিয়ে আসে ১৯৫০ এর দশকে। তখন থেকেই ধারণাটি প্রতিষ্ঠা পায়। সেই সময় চিনিশিল্প হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীদের স্পন্সর করে এমন একটি গবেষণায়। সেখানে হৃদরোগের জন্য চিনিকে নয়, ফ্যাটকে দায়ী করতে গবেষণায় অর্থায়ন করা হয়।  

পরে ওই গবেষণাটি পশ্চিমাদের খাত্যতালিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মনে করা হতো, স্যাটুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টরেলকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

১৯৬৫ সালে সুগার অ্যাসোসিয়েশন এক প্রভাবশালী গবেষণা করে। আগে সংস্থাটি সুগার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এসআরএফ) নামে পরিচিত ছিল। এটি প্রকাশিত হয় নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন এ প্রকাশিত হয়। সে সময় গবেষণার পেছনে যে অর্থ প্রদান করে তা আধুনিক যুগে ৫০ হাজার ডলারের সময়।

ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকরা দেখেন যে, এসআরএফ ওই গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়। ওই গবেষণার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে সমাজের ধারণাকেই পাল্টে দেওয়া হয়।

গত বছরও দাঁতের ক্ষয়ের কারণ হিসাবে চিনি ভূমিকাকে ছোট করে আনা হয়। খাবারের বিষয়ে বিশেষ করে চিনি খাত এবং কোকা-কোলার এমন গবেষণার পেছনে অর্থায়ন সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিজ্ঞানী প্রফেসর ম্যারিয়ন নেস্টলে এ গবেষণায় ছিলেন না। তিনি এই আবিষ্কারকে 'স্মোকিং গান' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেন, চিনি ব্যবসায় জড়িতরা কেবল গবেষণাকেই প্রভাবিত করেননি, তারা করোনারি হার্ট ডিজিসের পেছনে চিনির ঝুঁকিকে এড়িয়ে যেতেও প্রভাব খাটিয়েছেন।

তবে সুগার লবি গ্রুপ সব ধরনের গবেষণায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছে। এটি আমেরিকান সুগার ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশ। তারা জানায়, ৬০ বছর আগে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আজ অবধি ভোগ করতে হচ্ছে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য