kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আর্কটিকে ১৬৮ বছর আগে ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৮



আর্কটিকে ১৬৮ বছর আগে ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান

উত্তর-পশ্চিম মেরু অভিমুখে অভিযানে ব্যর্থ হয়ে ১৬৮ বছর আগে আর্কটিক উপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের সন্ধান মিলেছে। জাহাজটি ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার জন ফ্রাঙ্কলিনের।

এর নাম ছিল এইচএমএস টেরর। জাহাজটিকে এর আদিম অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। জাহাজটির সন্ধান পাওয়ার ফলে মেরু অভিযাত্রাগুলোর সবচেয়ে গভীর একটি রহস্যের সমাধান হতে চলেছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

এইচএমএস টেরর এবং ফ্রাঙ্কলিনের ব্যক্তিগত জাহাজ এইচএমএস ইরেবাস বরফাবৃত সমুদ্রের তলদেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ১৮৪৮ সালে জাহাজটি যে জায়গায় ডোবে বলে ধারণা করা হতো সেখান থেকে ৬০ মাইল দূরে এর ধ্বংসাবশেষটি পাওয়া গেছে। ব্রিটেনের রাজকীয় নৌ বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত উত্তর-পশ্চিম মেরু অভিমুখে পরিচালিত ওই অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল।

ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ১২৯ জনের সকলেই প্রাণ হারিয়েছে। জাহাজটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ১১ বছর ধরে কয়েকটি অনুসন্ধানকারী দল এর খোঁজে অভিযান চালায়। কিন্তু জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের কোনো চিহ্ন খুঁজে না পাওয়ায় ওই অভিযানে অংশ নেওয়া লোকদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল তা এতোদিন রহস্যাবৃতই রয়ে গিয়েছিল। কয়েক প্রজন্ম ধরে ইতিহাসবিদ, প্রত্নতাত্মিক এবং অভিযাত্রীরা বিষয়টি নিয়ে হতবুদ্ধিকর অবস্থায় ছিলেন।

অবশেষে এবার ওই রহস্যের সমাধান হতে চলেছে। রবিবার দাতব্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্কটিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন একটি দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র যান সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের কিছু চমৎকার ছবি তুলে এনেছে। ছবিগুলো থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে থাকা প্রায় ১৭০ বছর আগের লোকদের জীবনযাপন সম্পর্কে বেশ গভীর অন্তদৃষ্টি লাভ করা সম্ভব হবে।

গবেষক আদ্রিয়ান সিমোস্কি বলেন, আমরা জাহাজটির মেস হল, কয়েকটি কেবিন এবং থালা-বাসন ও একটি ক্যানসহ খাদ্য সংরক্ষণাগারের ছবি তুলে এনেছি।
এছাড়া আমরা দুটি মদের বোতল, টেবিল এবং খালি শেলফের অবস্থানও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। উন্মুক্ত ড্রয়ার সংবলিত একটি ডেস্ক এবং সেই ড্রয়ারে পেছনের কোণায় কিছু জিনিসও পেয়েছি।

এই আবিষ্কারের ফলে ঐতিহাসিকদেরকে মেরু অভিমুখী অভিযাত্রার ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। জাহাজটির তিনটি মাস্তুল ভেঙে গেলেও বেশ কিছু অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। জাহাজটির কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনও এতটা অক্ষত অবস্থায় রয়েছে যে, এর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ফ্রান্সিস ক্রোজিয়ার যে ক্যাবিনে ঘুমাতেন তার জানালার কাচগুলো এখনও ভাঙেনি।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


মন্তব্য