kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অসহায় বৃদ্ধ আইসক্রিমওয়ালার জন্য অনলাইনে অন্যরকম এক যুদ্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৩



অসহায় বৃদ্ধ আইসক্রিমওয়ালার জন্য অনলাইনে অন্যরকম এক যুদ্ধ

চোখে জল আসার মত একটি ঘটনা। শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে পড়ার মত একটি ঘটনা।

বিশ্বব্যাপী একের পর এক নৃশংস ঘটনার পরও মানুষের ভিতর থেকে মানবিকতা হারিয়ে যায়নি। চলার পথে অসুস্থ, বয়সের ভারে ন্যূব্জ, অক্ষম বৃদ্ধকে দেখেও আমরা দেখি না। পাশ কাটিয়ে চলে যাই। বড়জোর দু-পাঁচ টাকা হাতে গুঁজে দিয়ে নিজের গন্তব্যে রওনা দিই। কিন্তু, এখনও এমন মানুষজন আছেন, যারা বিপন্ন কাউকে দেখলে, দাঁড়িয়ে পড়েন। নিজের স্বার্থের কথা না-ভেবেই চেষ্টা করেন যথাসাধ্য করতে।

তেমনই একজন মানুষ জোয়েল সারভান্তেস মাসিয়াস। কোমর থেকে নুইয়ে পড়া বৃদ্ধ মানুষটিকে, যার সঙ্গে তার আত্মিক যোগ নেই, শিকাগোর রাস্তায় আইসক্রিমের গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখে স্থির থাকতে পারেননি জোয়েল। বৃদ্ধকে সাহায্য করতে ২০টি আইসক্রিম কিনে ফেলেন। হাতে দেন ৫০ মার্কিন ডলার।

অন্যরা অনেক করেছি মনে করে, নিশ্চিত ভাবেই হাঁটা লাগাতেন। কিন্তু, জোয়েল গল্প জুড়ে দেন সেই বৃদ্ধ আইসক্রিম বিক্রেতার সঙ্গে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আত্মীয়তা গড়ে ওঠে দুজনের সম্পর্কে।

আসলে এই বয়সের একজন মানুষ, যিনি নিজে সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না, তাকে রাস্তায় ঘুরে আইসক্রিম ফেরি করতে হচ্ছে কেন, তা তাড়িত করে জোয়েলকে। জানতে পারেন ফেডেনসিও স্যানচেজ নামে এই বৃদ্ধ মানুষটি তার একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছেন কয়েক দিন আগে। তাই ৮৯ বছর বয়সে তাকে রুটিরুজির ব্যবস্থা করতে রাস্তায় নামতে হয়েছে। তার স্ত্রীও সঙ্গে থাকেন। কিন্তু, তিনিও অসুস্থ হয়ে বিছানায়। অগত্যা, শরীর না চললেও বেরোতে হচ্ছে।

বেঁচে থাকার জন্য বৃদ্ধ দম্পতির এই স্ট্রাগল নাড়া দেয় জোয়েলকে। বাড়ি ফিরে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে GoFundMe নামে একটি পেজ খুলে ফেলেন। উদ্দেশ্য একটাই, লোকে যাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। মাত্র দু-দিনেই ১ লক্ষ মার্কিন ডলার উঠে যায়।

জোয়েল জানিয়েছেন, এখনই পেজটি বন্ধ করছেন না। অন্তত আরও একসপ্তাহ পেজটি থাকবে। যাতে আরও মানুষ এই বৃদ্ধ আইসক্রিমওলার সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন। শুধু মার্কিনি নয়, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষের সাহায্য স্বাগত।


মন্তব্য