kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাও জেদংয়ের হঠাৎ মৃত্যুর পর যেভাবে শুরু হয় মৃতদেহ সংরক্ষণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:০৯



মাও জেদংয়ের হঠাৎ মৃত্যুর পর যেভাবে শুরু হয় মৃতদেহ সংরক্ষণ

চীনের মার্কসবাদী বিপ্লবীদের তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক নেতা মাও জেদংয়ের মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। তার মৃত্যুর প্রায় ৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

কিন্তু এখনও তার মৃতদেহ ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে চীনে। তবে সে সময় মাওয়ের মৃতদেহ কী করা হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতি ছিল না। সম্প্রতি তার মৃতদেহ সংরক্ষণে কাজ করা ব্যক্তিদের অন্যতম ঝাই পিয়াও সে স্মৃতিচারণ করেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

১৯৪৯ সালে সমাজতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাও চীন শাসন করেন। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কসবাদ-লেনিনবাদে তার তাত্ত্বিক অবদান, সমর কৌশল এবং তার কমিউনিজমের নীতি এখন একত্রে মাওবাদ নামে পরিচিত।

মাও যখন মারা যান তখনও তার মৃতদেহ কী করা হবে সে সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মাও নিজেই তার মৃতদেহ দাহ করার অনুরোধ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু চীনের নেতারা তার সে অনুরোধ রাখেননি। মাওয়ের বিধবা স্ত্রী চাইছিলেন তার মৃতদেহ যেন সোভিয়েত নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের মতো করে সংরক্ষণ করা হয়।
তবে মাওয়ের হঠাৎ করেই মৃত্যু হয়। এরপর রাতে সিদ্ধান্ত হয় তার মৃতদেহ সংরক্ষণের। এ কারণে মাঝরাতে থার্মোইলেক্ট্রিক কুলিং প্রক্রিয়ায় মৃতদেহ ঠাণ্ডা করার জন্য ঝাইয়ের ডাক পড়ে। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী ঝাই এখনও সে স্মৃতি পরিষ্কার মনে করতে পারেন। তিনি বলেন, মাও জেদংয়ের হঠাৎ মৃত্যু কেউ আশা করেনি। আর এ কারণে কোনো প্রস্তুতিও ছিল না।

তিনি মাওয়ের মৃতদেহের কাছে গিয়ে দেখেন, গ্রেট হলে চেয়ারম্যানের মৃতদেহ রাখা আছে। গরম বৈদ্যুতিক বাতির কারণে তার কাচ ও কাঠের কফিন বেশ উত্তপ্ত। এরপর তারা কাজ শুরু করেন। এ প্রকল্পে প্রায় ৪০০ মানুষ যুক্ত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নামিয়ে আনা। তবে আমরা তার মৃতদেহ বরফে পরিণত করতে পারব না, এটা ছিল চিকিৎসকের নির্দেশ।

সে সময় চীনে ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা উন্নত ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কও ভালো ছিল না। ফলে তাদের সহায়তা নেওয়াও অসম্ভব ছিল।

তিনি বলেন, 'আমি মনে করি প্রযুক্তিটি ছিল খুবই নির্ভরযোগ্য। এটি ছিল খুবই সাধারণ। '

পরবর্তীতে মৃতদেহ ঠাণ্ডা করার প্রযুক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। কারণ প্রযুক্তিটি ছিল পরীক্ষামূলক। সিনিয়র নেতারা দিনরাত আসছিলেন। আর তাদের কারণে কাজেও বিঘ্ন ঘটছিল। এ সময় দিনরাত কাজ করতে হচ্ছিল।

তিনি বলেন, 'আমি একবার খুবই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমরা টানা পাঁচ থেকে সাত দিন ঘুমানোর সময় পাইনি। '

তবে দিনরাত কাজ করে বিষয়টি অনেকাংশে সফল করে তোলেন তারা। আট দিন পর কাজটি সমাপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

মাওয়ের মৃতদেহে ফর্মালডিহাইড ইনজেকশন দেওয়া হয়, যেন তা নষ্ট না হয়। এ ছাড়া দেহের তরল পদার্থও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয়। মাওয়ের মৃতদেহ ১৯৭৭ সাল থেকে স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।


মন্তব্য