kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এগুলোই ছিল তাদের জীবনে পাওয়া সবচেয়ে বাজে পরামর্শ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:০১



এগুলোই ছিল তাদের জীবনে পাওয়া সবচেয়ে বাজে পরামর্শ

মানুষের ওপর উঠতে অভিজ্ঞজনের পরামর্শ দরকার হয়। সৎ পরামর্শ বাস্তবায়িত করতে পারলে মানুষ অনেক দূর এগোতে পারে।

ব্যক্তিগত ও পেশাজীবনে কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝে নিতে অর্থপূর্ণ ও গভীর চিন্তাশীল পরামর্শের প্রয়োজন থাকে।   যেকোনো উদ্যোক্তার ঝুঁকি নিতে হয়। তাই অন্যদের থেকে আলাদা কিন্তু কার্যকর চিন্তা ও পরিকল্পনা সাজাতে হয়। আবার এ ক্ষেত্রে বাজে পরামর্শও চিহ্নিত করতে হয়। নয়তো বিপদ। এখানে সফল মানুষের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। তারা যে সব সময় ভালো উপদেশ পেয়েছেন তা নয়। তারা জানাচ্ছেন জীবনে পাওয়া সবচেয়ে বাজে পরামর্শের কথা।

১. এলিভেট-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও স্যালি ক্রচেককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি যেন নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাকে সংশ্লিষ্ট বাজারে যুক্ত না করেন। মেরিল লিঞ্চ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সিইও থাকাকালে তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন। তার সাম্প্রতিক উদ্যোগ হলো নারীদের জন্য ডিজিটাল বিনিয়োগ প্লাটফর্ম 'এলিভেস্ট' প্রতিষ্ঠা। সেখানে দেখিয়েছেন পুরুষদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিনিয়োগ করতে পারেন নারীরা। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট এ প্রতিষ্ঠায় তাকে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু এ পরামর্শ না নিয়ে আজ তিনি সফল উদ্যোক্তা।

২. নিউ ইয়র্ক শহরে উঠতি রিয়েল-এস্টেট ব্যবসায়ী রাইয়ান সারহান্ট। ২০১০ সালে ব্রাভো রিয়েলিটি সিরিজ 'মিলিয়ন ডলার লিস্টিং নিউ ইয়র্ক'-এ সদস্য হিসাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। তার সহকর্মী, স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই এতে যোগ দিতে মানা করেন। এটাকেই জীবনের সবচেয়ে বাজে উপদেশ বা পরামর্শ বলে মনে করেন তিনি। এতে যোগ দিতে একমাত্র পরামর্শ দিয়েছিলেন নেস্ট সিকার্স ইন্টারন্যাশনালের সিইও এডি শাপিরো। আর এখন তার ক্যারিয়ার আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল।

৩. শার্ক ট্যাঙ্ক তারকা ও ডালাস মাভরিকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক কিউবাকে বলা হয়েছিল, তিনি যেন নিজের পছন্দের কাজ করেন। তার কাছে 'মনের কথা শোন' জীবনের পাওয়া নিকৃষ্টতম পরামর্শ। এক ব্লগে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের কয়েক ধরনের ভাবাবেগ রয়েছে। কিন্তু এগুলো ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে না। যেটাতেই যোগ হবেন সেখানে দিতে হবে শ্রম। তাই ভাবাবেগ দিয়ে নয়, শ্রম ঢেলে দিতে হবে যেকোনো কাজে। তবেই আসবে সফলতা।

৪. আরেক শার্ক ট্যাঙ্ক তারকা বারবারা করকোরানকে বলা হয়েছিল, সফল হতে একা চেষ্টা না করাই ভালো। এটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বাজে পরামর্শ। সঙ্গীকে নিয়ে ১৯৭৩ সালে রিয়েল-এস্টেট ফার্ম করকোরান গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন বারবারা। একটা সময় সঙ্গী র‌্যামোন সিমোনের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় তার। বারবারা একা পারবেন না বলেই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি একাই এগোলেন এবং সফলতার নমুনা দেখিয়ে দিয়েছেন।

৫. 'ফোর আওয়ার ওয়ার্কউইক' বইয়েল লেখক এবং পোডকাস্ট হোস্ট টিম ফেরিসও বাজে পরামর্শ পেয়েছিলেন। এটা দিয়েছিলেন তারই কাউন্সেলর। পরামর্শদাতা তাকে তার স্বপ্নের প্রিন্সটনে আবেদন করতে মানা করেছিলেন। কিন্তু  আরেকজনের পরামর্শে তিনি সেখানে আবেদন করেন এবং সুযোগ পেয়ে যান। ২০০০ সালে প্রিন্সটন থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন ফেরিস। এ বিষয়ে ফেরিস বলেন, কেউ পরামর্শ দিতে আসলে তার উদ্দীপনা বুঝতে হবে। আর এ পরামর্শ গ্রহণ করলে বা না করলে কি হবে তা বুঝতে হবে।

৬. বেস্টসেলিং বইয়ের লেখক এবং ক্যারিয়ার এক্সপার্ট রমিত শেঠি নেটওয়ার্কিংয়ের বিষয়ে বাজে পরামর্শ পান। এ বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ যে পরামর্শ দেন তা তিনি রীতিমতো ঘৃণা করেন। অনেকেই তাকে বলেন যে, একটা ভালো চাকরি পেতে হলে পরিচিত মহলের পরিধি বাড়াতে হবে। কিন্তু রমিতের মতে, স্বপ্নের চাকরি পেতে এর প্রয়োজন নেই। টার্গেট ঠিক করারও দরকার হয় না। কোন ধরনের চাকরি আপনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে সে বিষয়ে তালিকারও দরকার নেই। নিজের সীমাবদ্ধতাও পরিষ্কার করতে হবে না। ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে কি করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেন 'আই উইল টিচ ইউ টু বি রিচ' ওয়েবসাইটে। একটি বইও লেখেন তিনি।

৭. হ্যারির-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সহকারী সিইও জেফ রাইডারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল গতানুগতিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের মধ্যে দুটো ভিন্ন ঘারানার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হন তিনি। চশমা কম্পানি 'ওয়ার্বি পার্কার' এবং পুরুষদের জন্য রেজর সার্ভিস 'হ্যারিস'। অথচ জন হপকিন্সে পড়াশোনার সময়ও গতানুগতিক ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার চিন্তা ছিল তার মাথায়। তখন অনেক প্রফেসর তাকে কূটনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে বলেন। কিন্তু তিনি ভিন্ন কিছু করতে চান এবং সফল হয়ে ওঠেন।

৮. বির্চবক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা হেইলে বার্নাকে সবচেয়ে বাজে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তা হলো, তার প্রতিষ্ঠানটি মৌলিকভাবে বদলে ফেলতে বলা হয়। ২০১০ সালে বির্চবক্সের সিইও ক্যাতি বিউচ্যাম্প কম্পনির হাল ধরেন। তাদের অনেকেই পরামর্শ দেন, কম্পানির প্রতিমাসের সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস পদ্ধতি বাদ দেওয়া উচিত। কিন্তু নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি বার্না। আজ ব্যাপক সফল তিনি। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য