kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'আমাদের সম্পর্কের কথা কি প্রেমিকের স্ত্রীকে জানানো উচিত?'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৩৮



'আমাদের সম্পর্কের কথা কি প্রেমিকের স্ত্রীকে জানানো উচিত?'

সম্পর্ক ও জীবন নিয়ে নানা জটিলতায় পড়ি আমরা। কিছু জটিল পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি হয়ে ওঠে।

এখানে নিজের জীবনের এমনই এক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন মেরি লক্সলে।

তিনি লিখেছেন, আমার বয়স তখন সবে ২৭। এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে ডেটিং শুরু হয়। একদিন তার নটিং হিল প্যাডে আমাদের ঘনিষ্টতা তৈরি হয়। সেখানে দৈহিক সম্পর্কে জড়াই আমরা।

নভেম্বরে ছেলেটি আমাকে প্যারিসে নিমন্ত্রণ জানায়। ডিসেম্বরে আমার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দেয়। আমি ক্রিসমাস কাটাই আন্টির বিছানায় শুয়ে ভদকা পান করে।

এখন আমার বয়স ৪৬। এটা এমন এক গল্প যার দিকে আমি ফিরে তাকাতে পারি। বেড়ে ওঠা সম্পর্কের বিষয় যাতে ভালো লাগা বিরাজ করে। সেখানে বিকাশমান কিছু ছিল না। কিন্তু ভালো লাগার বিষয় খুঁজে পাওয়া যায়। 'ব্রিজেট জোন্স ডায়েরি' পড়েছিলাম সেই ১৯৯৭ সালে। এটি নিতে তৈরি ছবিতে নায়িকা তার চল্লিশের কোঠায় প্রথম সন্তানসম্ভাবা হন। আমিও চল্লিশের কোঠা পার করছি। কিন্তু একা, সন্তান নেই এবং এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর পর একা হয়ে যাওয়া নারী। নব্বুইয়ের দিক আমাদের সম্পর্ক চলছিল। তবে তখন প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হয়নি। সে আমার সঙ্গ প্রতারণা করে। একদিন তাকে একটি পাবে এক স্বর্ণকেশীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় কথা বলতে দেখে একদম ভেঙে পড়ি। আমার স্থান অন্য কেউ দখল করেছে।

প্রায় ১০ বছর বাদ তার সঙ্গে আমার দেখা হয় রাস্তায়। ওই স্বর্ণকেশী তখন তার স্ত্রী। ওই নারী আমার সাবেক প্রেমিকের তিন সন্তানের জননী। সে আমাকে তার মোবাইল নম্বন দেয়। ওই নম্বরে আমি পরের ১৮ মাস কোনো কল করিনি। কিন্তু এক রাতে আমি তাকে একটি টেক্সট করি। আমরা দেখা করি। সে জানায়, আমাকে কখনো ভুলতে পারেনি। সে টেবিলের ওপাশ থেকে ঝুঁকে এসে আমাকে চুমু খায়। আমার হৃদয়স্পন্দন থেকে আসে।

পর দিন ফোনে অনেক্ষণ করা হয় আমাদের। হঠাৎ করেই অনুভব করলাম, প্রেম আমাকে জড়িয়ে ধরতে চলেছে।

পরের চার বছর এ অবস্থা ধারাবাহিকতা পেল। গোটা বিষয়টা ছিল দুজনের  একসঙ্গে সময় কাটানো। বাড়ির পথের শেষ ট্রেনটি ধরার আগে অন্তত এক ঘণ্টা সে আমার ফ্ল্যাটেই থাকতো। মাঝে মাঝে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি তার স্ত্রীর কণ্ঠ শুনতাম। কিন্তু সে এসব বুঝতো না। মাঝে মাঝে মনে হতো, তার স্ত্রী জানালে কি করতে পারেন? একদিন প্রেমিককে বললে সে ভীতিকরভাবে হাসে এবং বলে, ও জানলে আমার সব শেষ হয়ে যাবে।

আমি বুঝতে পেরেছিলাম সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে। তা ছাড়া আমাদের সম্পর্ক নিয়ে তাকে ভয়ও পায়। আত্মনির্ভরশীল হলেও স্ত্রীর উপার্জনের ওপর নির্ভর করতো। তার স্ত্রী দারুণ প্রতিযোগী মনোভাবসম্পন্ন এবং নিজেকে নিয়ে দারুণ সচেতন। হয়তো এসব বিষয় নিয়ে আমি তেমন সচেতন নই। হয়তো তার অন্য কোনো দিকের প্রেমে পড়েছি।

স আমাকে বলতো, আমি তোমাকে আমার ভেতর থেকে বের করতে পারছি না। যখন তার সঙ্গে থাকি তখন তার কাছে আমি বিশেষ কেউ, আকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু আমার সঙ্গে থাকার পর ও যখন চলে যায়, তখন সে দায়িত্বশীল পিতা এবং স্বামী। স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রতারণার বৈশিষ্ট্য দেখে আমি রীতিমতো হতবাক।

সে আমাকে বলতো যে এ সম্পর্কের মাধ্যমে আমার জীবন নষ্ট করতে চায় না। কিন্তু একটু দেরি হয়ে গেছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমার বয়স চল্লিশের বেশি। আমার আর কখনো পরিবার হবে না।

একদিন তার সঙ্গে আমার তর্ক হয়। আমার মনে হচ্ছিল তার স্ত্রীকে এ সম্পর্কে বিষয়ে জানানো উচিত। এ কথা শুনে সে ফেটে পড়লো। সে চলে গেলো। আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতে লাগলো এবং একটা সময় হুমকি দিতে থাকলো। তার এমন ব্যবহারে আমি হতাশ।

আমি ভাবছিলাম, এ মানুষটিকে তার স্ত্রীর বিষয়ে কোন জায়গায় আটকে দেওয়া উচিত। বা তার স্ত্রীকে কোন উপায়ে জানানো উচিত? খুব নোংরাভাবে অবশ্যই নয়। ভদ্রভাবে বোঝানো বা জানানো যায়। এর কারণ প্রেমিককে আমি চাই তা নয়। তবে আমার অতীতটা নষ্ট করার জন্য তাকে এ শিক্ষা দেওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছিল। তা ছাড়া স্ত্রীর সঙ্গেও প্রতারণা করছে সে।

আধুনিক যুগে নারীরা অনেক বেশি শক্তিশালী। আমার সঙ্গে যে প্রতারণা করে তার জন্য আমার কিছু করার আছে। সে যে ভোগান্তি আমাকে দিয়েছে তার বিনিময়ে আমার কিছু করার আছে। কোনো পুরুষের বিনোদনের মাধ্যম বলে বিবেচিত হতে পারি না আমি। একজন বিবাহিত পুরুষ আমার জীবটাকে অনেকদূর ঠেলে দিয়েছে এবং শুষ্কতায় ভরে দিয়েছে। তাহলে কি কারণে তার আরো সুবিধা পাওয়া উচিত? সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য