kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যালার্ম ঘড়ির আগে লোকে কীভাবে নির্দিষ্ট সময়ে জাগতেন? দেখুন ছবিতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৪৭



অ্যালার্ম ঘড়ির আগে লোকে কীভাবে নির্দিষ্ট সময়ে জাগতেন? দেখুন ছবিতে

অ্যালার্ম ঘড়ি এবং আইফোন আবিষ্কারের আগেও শ্রমিক এবং কর্মজীবিদেরকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ভোর বেলায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জাগতে হত।
কিন্তু কীভাবে?
পুরোনো দিনে শ্রমিক ও কর্মজীবিরা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার জন্য একজন “নকার-আপ” ব্যবহার করতেন।

নকার-আপ নামে পরিচিত এই লোকরা লম্বা রড বা লাঠি দিয়ে কারো জানালায় বা দরজায় ঠকঠক করে তাকে ঘুম থেকে জাগাতেন।
শিল্প বিপ্লবের পর যখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত কর্মসুচি মেনে চলা শুরু হয় তখন ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের অসংখ্য মানুষ লোককে ঘুম থেকে জাগানোর এই দায়িত্ব পালন করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে ১৯২০ সালে অ্যালার্ম ঘড়ি আবিষ্কারের পর অবশ্য এই পেশাটি বিলুপ্ত হয়।

নকারস-আপরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লোকের জানালায় লম্বা দণ্ড বা লাঠি দিয়ে ঠকঠক করে জানান দিত যে ঘুম থেকে জাগার এবং দিনের কর্মকাণ্ড শুরু করার সময় হয়েছে।
এক সপ্তাহ কাউকে ঘুম থেকে জাগানোর এই দায়িত্ব পালন করে তারা কয়েক পেন্স করে আয় করতেন।
অনেকে দশকের পর দশক ধরে এই পেশায় কাজ করেছেন। এরা প্রধানত ডাক্তার, বাজার ব্যবসায়ী এবং গাড়ি চালকদেরকে খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগানোর কাজ করতেন।
অনেকে এই কাজে লাঠি বা দণ্ড ব্যবহার না করে বরং পি শুটার ব্যবহার করতেন। পি শুটার এর মাধ্যমে শুকনো ডাল বা মটরশুটির দানা ছুড়ে মারা হত।

১৯২০ এর দশকে এসে এই পেশার প্রায় পুরোপুরি বিলুপ্তি ঘটে। কিন্তু এরপরও কিছু সম্মানিত নকার-আপার যেমন ডরিস ওয়েইগ্যান্ড ১৯৪০/৫০ দশক পর্যন্ত এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
ওয়েইগ্যান্ড একটি রেলওয়ে কম্পানির নকার-আপ হিসেবে কাজ করতেন। কম্পানিটির শ্রমিকদেরকে খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগাতে হত। তিনি লোককে কোনো শিফটের জন্য তাদের দরকার দেখা দিলে তা জানিয়ে দিতেন।
সূত্র: দ্য মিরর


মন্তব্য