kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রাগৈতিহাসিক যুগের পরিযায়ী কীটের ফসিল আবিষ্কার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৪৩



প্রাগৈতিহাসিক যুগের পরিযায়ী কীটের ফসিল আবিষ্কার!

অন্ধরা পথ দেখাচ্ছে অন্য অন্ধদের। প্রাচীরকালের এমনই এক বিশাল ঘটনার প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা।

এক দল ভূতত্ত্ববিদ 'ট্রিলোবাইট' নামের এক ধরনের চোখবিহীন কাঠের পোকার বিশাল মার্চের প্রমাণ পেলেন। এ ঘটনা ঘটে সেই প্রাগৈতিহাসিক আমলে।

সমুদ্রের তলদেশে এদের মাইগ্রেশনের প্রমাণ মিলেছে। তাদের এই অস্বাভাবিক পথচলা সমুদ্রের তলদেশে রীতিমতো স্মারক সৃষ্টি করেছে। অলৌকিকভাবে তাদের ওই মাইগ্রেশনের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে।

যারা ফসিল খোঁজের তাদের কাছে ট্রিলোবাইটের ফিসল বেশ প্রিয়। প্রাচীন এই প্রাণীটি দেখতে অনেকটা কাঠের পোকার মতোই। তবে ২৫০-৫২০ মিলিয়ন বছর আগে সমু্দ্রে এদের ব্যাপক বিচরণ ছিল।

 

এদের কিছু ছিল একেবারে ছোট, মাত্র ১-২ মিলিমিটার লম্বা। এদের বৈজ্ঞানীক নাম অ্যাকান্থোপ্লেউরেলা স্টিপুলাই। আবার কিছু ছিল বড় আকারের, ৭০ সেন্টিমিটার লম্বা আইসোটেলাস রেক্স। এই মাইগ্রেশনে টেলিফিনা বাইকুসপিস এবং অ্যাগ্রাউলস সেন্টিসেফালাসের মতো ভাসমান প্রাণীও ছিল। এ ছাড়া আরবেনোচিলা আর্বেনির মতো প্রজাতির চোখও গজিয়েছিল।

এদের নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির কার্লটন ব্রেট, পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ব্লাজেজ ব্লাজেজোস্কি এবং তাদের  সহকর্মীরা। সেন্ট্রাল পোল্যান্ডের কোয়ালা কোয়ারিতে পাওয়া ২৬৫ মিলিয়ন বছর আগের পাথরে ট্রিলোবাইটের সন্ধান মেলে।

 

কিন্তু টিলোবাইটের এই মাইগ্রেশন খুবই অদ্ভুত। তারা সারি বেঁধে এগিয়ে যায়। এদের প্রত্যেকের মুখ সামনেরটির লেজের কাছাকাছি ছিল।

সমুদ্রের তলদেশে আরথ্রোপড যে বিচরণ করতো তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ এটি হতে পারে। এর আগেও ট্রিলোবাইটের সারি বেঁধে চলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু এত বিশাল আকারের প্রমাণ আগে মেলেনি।

গবেষকরা জানান, এই মাইগ্রেশনে দুই আকারের ট্রিলোবাইট দেখা গেছে। এক দল আকারে ছোট। আরেক দল আকারে বেশ বড়। এরা কোথাও যাচ্ছিল কিংবা বংশবৃদ্ধির স্থান খুঁজছিল।

ব্রেট বলেন, সারিবব্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাইগ্রেশনের সঙ্গে যুক্ত। চোখ না থাকার কারণে একসঙ্গে জুড়ে থাকতে তাদের অন্য উপায় বের করতে হয়েছে। সম্ভবত তারা রাসায়নিক সিগনাল ব্যবহার করেছে। এ কাজে মাথার সামনের শুঁড় ব্যবহার করেছে যা এন্টিনার মতো কাজ করে।

এই মাইগ্রেশনে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণবিনাশী পরিস্থিতির শিকার হয়েছে তারা। অক্সিজেন নেই এমন কোনো পানিপূর্ণ পকেটে পড়ে গিয়েছিল তারা। এখন  সমুদ্রের তলদেশে  গলদা চিংড়ির কয়েকটি প্রজাতি একইভাবে মাইগ্রেশন করে থাকে। শীতের তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতেই তারা সম্ভবত এই মাইগ্রেশন চালায়।

গোছালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের একের সঙ্গে অন্যের সংঘর্ষ ঘটে না। তা ছাড়া শিকারী প্রাণীর হাত থেকে বাঁচারও উপায় এটি।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষক ডেরেক সিভেটার জানান, ফসিলের ইতিহাসে এমন সামাজিক আচরণের নিদর্শন নেই বললেই চলে। এ আবিষ্কার সেই সময়ের ট্রিলোবাইট গোত্রের প্রাণীদের সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য প্রদান করবে।

২০০৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে সিভেটার এবং তার সহকর্মীরা ৫২৫ মিলিয়ন বছর আগের এমনই সারিবদ্ধ আথ্রোপডের ফসিলের কথা তুলে ধরেন।

দলবেঁধে এই ট্রিলোবাইটগুলো যে আসলেই মাইগ্রেশন করেছে সে বিষয়টি মেনে নিতে চান না অনেক গবেষক। বিষয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন যে তারা মাইগ্রেশন করছিল, জানান ইউনিভার্সিটি অব আলবার্তার গবেষক ব্রায়ান চ্যাটার্টন।

এর আগেও তিনি ট্রিলোবাইটের চেইন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার মতে, এই প্রাণীর মাইগ্রেশনের শেকল খুবই ভঙুর। কিন্তু এদের হঠাৎ মৃত্যু এবং সারি এতদিন পর্যন্ত টিকে থাকা সত্যিই বিরল ঘটনা। হয়তো সমুদ্রের তলদেশের কোনো অক্সিজেনবিহীন গর্তে এদের টেনে নেয় পানির স্রোত। আর তাতেই মৃত্যু ঘটে এদের। সূত্র : বিবিসি

 


মন্তব্য